Saturday, October 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরদক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ার সংস্কৃতি নেই কেন?

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ার সংস্কৃতি নেই কেন?

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেবার ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছেন। কয়েক মাস আগে তীব্র সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন ব্রিটেনের লিজ ট্রাস।

উন্নত বিশ্বে সরকারের শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা অহরহ দেখা যায়। অনেক সময় তারা সমালোচনার মুখে পদ ছেড়ে দেন। আবার কখনো-কখনো জনপ্রিয়তা থাকলেও নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায়- বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এ ধরণের চর্চা নেই বললেই চলে। বরং রাজনীতির মারপ্যাঁচে কিভাবে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যায়, ওই চেষ্টাই করা হয় এসব দেশে। স্বেচ্ছায় নিজের পদ থেকে সরে যাবার ঘটনা খুবই বিরল।

উন্নত দেশগুলোতে যেটি খুবই সাধারণ ঘটনা, সেটি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দেখা যায় না কেন?

অনেকে মনে করেন, এর একটি বড় কারণ হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্ষমতায় থাকা আর না থাকার মধ্যে ‘বিরাট পার্থক্য’ তৈরি করে।

পদ ছাড়তে চান না নেতারা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতা বা পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে অন্যকে সুযোগ দেয়া বা নিজের ব্যর্থতা গ্রহণ করার মতো ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রুচি’ তৃতীয় বিশ্বের অনেক রাজনীতিকদের মধ্যে নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, দায়িত্ব পালন শেষে সরে দাঁড়ানো উচিত-এই ধারণাটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিকশিত হয়নি। এ কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও তৈরি হয়নি।

রাজনীতিকরা অনেক সময় ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রতিপক্ষকে যেমন দমনের চেষ্টা করেন, তেমনি নিজে ক্ষমতা ছাড়লে একই পরিস্থিতিতে পড়বেন-এই আশঙ্কায় যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেন।

মজুমদার বিবিসিকে বলেন, ‘ক্ষমতা ছাড়লে প্রতিশোধের শিকার হতে পারেন এ আশঙ্কায় অনেকে ক্ষমতা ছাড়তে চান না। তবে এটি শুধু রাজনীতির ক্ষেত্রেই নয়। বরং সব ক্ষেত্রেই পদ-পদবি আঁকড়ে রাখার প্রবণতা আছে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে।’

তার মতে, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সম্পর্ক, তাতে করে কেউই কারো প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা প্রদর্শনে রাজি থাকেন না। বরং কে কাকে কিভাবে দুর্বল করে নিজেকে শক্তিশালী করবেন, সেটিই মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

একই ধরণের অভিমত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রোবায়েত ফেরদৌস। তার মতে, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে অন্যকে সুযোগ দেয়া বা নিজের ব্যর্থতাকে গ্রহণ করার মতো ‘উঁচু গণতান্ত্রিক রুচি বা মানসিকতা’ কোনোটাই এখানে গড়ে ওঠেনি।

তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় থাকার সময় প্রতিপক্ষকে শত্রু জ্ঞান করে নিধনের চেষ্টা করেন বলেই ক্ষমতা ছাড়তে ভয় পান। সে কারণেই নতুন কারো কাছে দলের নেতৃত্বও ছাড়তে চান না।’

অর্থাৎ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে রাজনীতিকদের জন্য বড় ভয়ের জায়গা হলো, ক্ষমতা ছাড়ার পর তার পরিস্থিতি কেমন হতে পারে সেটি।

ক্ষমতা ছাড়লে জন অসন্তোষের শিকার হওয়ার ভয় থেকে এসব দেশের রাজনীতিকরা নিজ পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কারো কাছে ক্ষমতা বা নেতৃত্ব ছাড়তে আগ্রহী হন না। এমনকি নিজ দলের মধ্যেও তারা অন্ধ অনুসারী ছাড়া কাউকে নেতৃত্বের কাছাকাছি আনতে চান না।

উন্নত দেশে কেন হয়?
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উন্নত বিশ্বে সরকার পরিচালনায় জবাবদিহিতা থাকে। ক্ষমতা ছেড়েও তারা সামাজিক বা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ক্ষমতা ছেড়ে যাবার পর কোনো প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ভয় থাকে না।

অনেকে নানা প্রতিষ্ঠানে বক্তব্য দেন বা বই লিখেন। তাদের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের কোনো হানি হয় না। ফলে ক্ষমতা বা দলের নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে তাদের মধ্যে কখনো ভীতি কাজ করে না।

ব্রিটেনের লৌহমানবী খ্যাত প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার পর জন-অসন্তোষের মুখে তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

সম্প্রতি সময়ে দেশটিতে ডেভিড ক্যামেরন, টেরেজা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস তাদের নীতির প্রশ্নে ক্ষমতার পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্ব থেকেও সরে গেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সরে দাঁড়ানোর বিপক্ষে ছিলেন ডেভিড ক্যামেরন। কিন্তু এ বিষয়ে গণভোটে ব্রেক্সিটপন্থীরা জিতে গেলে ক্ষমতা ও দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

এরও আগে টনি ব্লেয়ার দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতা ও দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং রাজনীতি থেকেই অবসর নেন।

আবার বিরোধী নেতাদের ক্ষেত্রেও বিদায় নেয়ার উদাহরণ আছে নানা জায়গায়। ব্রিটেনেরই লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বিদায় নিয়েছেন নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দেয়ার জন্য।

আবার গত বছর মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনে হেরে বিরোধী নেতাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি লিবারেল পার্টির নেতার পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন স্কট মরিসন।

এশিয়াতেই জাপানসহ অনেক দেশে অহরহই রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতা ও দলের নেতৃত্ব ছাড়ছেন।

তবে বাংলাদেশসহ অনেক দেশই আছে, এশিয়া ও আফ্রিকায় যেখানে নির্বাচন নিয়েও যেমন প্রশ্ন থাকে, তেমনি ক্ষমতা ও রাজনীতি থেকে নেতাদের হাসিমুখে খুব একটা বিদায় নিতে দেখা যায় না।

সূত্র : বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য