عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «وَاللَّهِ مَا الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مِثْلُ مَا يجعلُ أحدُكم إصبعَه فِي اليمِّ فَلْينْظر بِمَ يرجع» . رَوَاهُ مُسلم
মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর শপথ! আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার উপমা হলো, যেমন- “তোমাদের কেউ মহাসমুদ্রের মধ্যে নিজের একটি অঙ্গুলি ডুবিয়ে দেয় এরপর সে লক্ষ্য করে দেখুক তা কি (পরিমাণ পানি) নিয়ে আসলো”। (মুসলিম)।
সহীহ : মুসলিম ৫৫-(২৮৫৮) তিরমিযী ২৩২৩, ইবনু মাজাহ ৪১০৮, মুসনাদে আহমাদ ১৮০৩৭, সহীহুল জামি’ ১৩০৫৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৩৩০, শুআবুল ঈমান ১০৪৫৯, আল মু’জামুস্ সগীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৪৫, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৪১৮০।
ব্যাখ্যা : উল্লেখিত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার সময় ও পরিধি একেবারে সংক্ষিপ্ত। দুনিয়ার সুখ-শান্তিও ক্ষণস্থায়ী কিন্তু আখিরাতেরটা চিরস্থায়ী, সেই সুখ শান্তি কখনো শেষ হবার নয়। তাই আখিরাতকে রূপকভাবে সমুদ্রের সাথে উপমা করে বিশাল পার্থক্য স্থাপন করা হয়েছে। (শারুহুন্ নাবাবী ১৭শ খণ্ড, হা. ২৮৫৮/৫৫)
অর্থাৎ বিশাল সমুদ্রের অফুরন্ত পানির মধ্যে কেউ যদি তার হাতের আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে তা বের করে নিয়ে আসে তাহলে সে আঙ্গুলের মধ্যে যেমন কিছু দেখতে পাবে না শুধুমাত্র তার আঙ্গুল ভেজা ছাড়া যা সমুদ্রের পানির তুলনায় যেমন কিছুই না, তেমনি পরকালের সীমাহীন সময় যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই তার তুলনায় এ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবন কিছুই না। অতএব ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সুখের জন্য চিরস্থায়ী জীবনের সুখ বিসর্জন দেয়া কোন বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়। (সম্পাদকীয়)।
