কুতুব মিনার প্রাঙ্গণে পূজার অধিকার চায় হিন্দুরা

0
178

ভারতের দিল্লিতে ঐতিহাসিক স্থাপত্য কুতুব মিনার প্রাঙ্গণে অতীতে হিন্দু ও জৈন মন্দিরের অস্তিত্ত্ব ছিল বলে দাবি জানিয়ে মামলা করেছেন দুজন আইনজীবী। কথিত ওই মন্দিরে হিন্দু ও জৈনরা যাতে পূজা এবং উপাসনা করার অধিকার ফিরে পায়, মামলায় সেই দাবি জানানো হয়েছে।

সেই আবেদন দিল্লির একটি দেওয়ানি আদালত গ্রহণও করেছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এই দাবিতে সক্রিয় সমর্থনও জানাচ্ছে।

শাহী দিল্লির আইকনিক স্থাপত্য কুতুব মিনারের নির্মাণ শুরু করেছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবক। তিনি ছিলেন মুহম্মদ ঘোরীর একজন সেনাপতি। ১১৯২ সালে মুহম্মদ ঘোরীর কাছে পৃথ্বীরাজ চৌহানের পরাজয়ের পরই দিল্লিতে হিন্দু শাসনের অবসান হয়। তার কয়েক বছর পরেই শুরু হয় এই মিনারের নির্মাণকাজ।

দিল্লির সাকেত ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে পেশ করা এক আবেদনে আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন এবং রঞ্জনা অগ্নিহোত্রী বলেছেন, ওই কমপ্লেক্সে আগে থেকেই শ্রী বিষ্ণুহরিসহ হিন্দু ও জৈন দেবতাদের মোট ২৭টি মন্দির ছিল।

হিন্দুদের ভগবান বিষ্ণুহরিদেবের ‘মিত্র’ হিসেবে মামলাটি দায়ের করেছেন অ্যাডভোকেট হরিশঙ্কর জৈন। তিনি বলেছেন, ‘৮০০ বছর ধরে ওই মসজিদ খালিই পড়ে আছে। কেউ সেখানে নামাজ পড়েনি।’

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বছরখানেক আগে যে রামমন্দির নির্মাণের রায় দিয়েছিলেন, সেখানেও ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদের জায়গায় আগে প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ত্বকে মেনে নিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সেই ধারাবাহিকতায় কুতুব মিনার কমপ্লেক্সেও হিন্দুরা পূজা-অর্চনার অধিকার ফিরে পাবেন বলে মনে করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। আঠাশ বছর আগে ভেঙে ফেলা এই বাবরি মসজিদের নিচেও হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব মেনে নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

পরিষদের জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসল বলেন, ‘ইতিহাসই সাক্ষ্য দেয়, অতীতে বহু মন্দির ভেঙেই সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর মসজিদ কিংবা মুঘল যুগের নানা স্থাপত্য নির্মিত হয়েছিল। কুতুব মিনারেও একই ঘটনা ঘটেছিল। এখন তাজমহল চত্বরে যদি মুসলিমদের নামাজ পড়ার অধিকার থাকে, তাহলে তো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে হিন্দুদেরও কুতুব মিনারে একই অধিকার পাওয়া উচিত।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

12 − eleven =