Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরযে কারণে ইসলামে নেশাদ্রব্য নিষিদ্ধ

যে কারণে ইসলামে নেশাদ্রব্য নিষিদ্ধ

মহান আল্লাহ খাদ্যদ্রব্য দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা : ১. হালাল, ২. হারাম।

পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তিনি (আল্লাহ) তাদের জন্য পবিত্র (উত্তম) বস্তু হালাল করেছেন এবং অপবিত্র (অনুত্তম) বস্তু হারাম করেছেন।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৫৭)

রাসুল (সা.) বলেন, প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু হারাম।

(বুখারি, হাদিস : ৪৩৪৩)
বিখ্যাত হাদিসবিশারদ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) (৮৫২ হি.) বলেন, এই মর্মের হাদিস ৩১ জন সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে। (ফাতহুল বারি ৩/৭৩)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যেকোনো নেশা উদ্রেককর জিনিস হারাম। আর যে জিনিসে বেশি পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে, তার সামান্য পরিমাণও হারাম। (মুসলিম, হাদিস : ৩৭৩৩)

নেশার সংজ্ঞা কী

নেশা একটি শারীরিক ও মানসিক প্রক্রিয়া।

মানুষ যখন কোনো উত্তেজকের আবেশে নিজের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তখন তাকে নেশাগ্রস্ত বলা চলে। এককথায়, নেশা হলো এমন অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছুর বিষয়ে আসক্তি জন্মানো বা অভ্যস্ত হয়ে পড়া, যা ইচ্ছা করলেও সহজে ছেড়ে দেওয়া যায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাকো, তখন নামাজের ধারে-কাছেও যেয়ো না, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ।’
(সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৩)
ইসলামী আইনজ্ঞরা যেসব নীতির মাধ্যমে নেশাদ্রব্য হারাম করেছেন, তার কিছু নীতি হলো—

ক) এতে আছে অনর্থক অর্থ অপচয়।

আর ইসলামে অপচয় হারাম। (সুরা : আল-ইসরা, আয়াত : ২৭)
খ) এতে আছে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি। আর যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, ইসলামে তা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৫)

গ) নেশাদ্রব্যে নেশা, মাদকতা ও জ্ঞানশূন্যতা আসে, তাই ইসলামে তা হারাম।

রাসুল (সা.) বলেছেন, যা বেশি সেবন করলে নেশার সৃষ্টি হয় তা কম সেবন করাও হারাম। (তিরমিজি, হাদিস : ১৮৬৫)
ঘ) নেশাদ্রব্যে আছে দুর্গন্ধ। এতে অন্যরা কষ্ট পায়। ইসলামে অন্যকে কষ্ট দেওয়া জায়েজ নেই। রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৭৩)

ক্যান্সার গবেষণার আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএআরসির মতে, তামাকজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করলে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে সর্বাধিক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো এবং নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না। আর সুকর্ম করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৫)

আসুন, ইসলামের সঠিক মর্মার্থ অনুধাবনের মাধ্যমে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ধর্মের চর্চা করার চেষ্টা করি।

লেখক : শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, ও গবেষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twelve + twenty =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য