Thursday, July 16, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবেদনহৃদয় পোড়নের প্রকারভেদ ও তার প্রকাশ

হৃদয় পোড়নের প্রকারভেদ ও তার প্রকাশ

মনে করুন, কেউ বাপ মারা যাওয়ার শোকে আর্তনাদ করছে, এই বিলাপ করার পরিণতিতে মৃত ব্যক্তির কি হতে পারে আপনি যদি কোরআন এবং হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা করেন, লোকটার মাঝে যদি দ্বীনি শিক্ষা থাকে অথবা দ্বীন বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকে তাহলে কষ্ট হলেও সে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করবে ৷ আর যদি লোকটা নির্বোধ হয়, তার মাঝে দ্বীনের শিক্ষা না থাকে বা দ্বীনের বিষয়ে উদাসীন অথবা দ্বীনের সকল বিষয়ে সবজান্তা হয়, তাহলে সে মনে করবে তার বাপের মৃত্যুতে আপনি শোক প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন ৷ এটাও ভাবতে পারে তার বাপের মৃত্যুতে আপনি আনন্দিত ৷ আপনার সাথে যদি কারো ব্যক্তিগত বিরোধ থাকে আর লোকটা যদি দুষ্ট প্রকৃতির হয় তাহলে সে বিষয়টাকে এমনভাবে উপস্থাপন করবে যেন ঐ ব্যক্তির বাপের মৃত্যুর জন্য একমাত্র আপনিই দায়ী ৷

অপ্রিয় হলেও সত্য আমাদের দেশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর লোকের সংখ্যা বেশি ৷ ফলে যখনই কোন বিতর্কিত বিষয় নিয়ে শায়খগণ কোরআন এবং হাদীস থেকে আলোচনা করেন, তখনই আবেগে কেন্দে দেওয়া জনগণের রোষানলে পড়তে হয় ৷ এই আবেগী লোকদের পালে যেসব লোক হাওয়া দেয়, তারাও যে দ্বীনি বিষয়ে খুব একটা জ্ঞান রাখেন এমনটা নয় ৷ অন্যরা জানে না বা জানার আগ্রহ নেই বলেই এদেরকে বিশাল পন্ডিত মনে করে ৷ আপনার যদি বই পড়ার অভ্যাস থাকে তাহলে দেখবেন অধিকাংশ জ্ঞানীদের কথা পূর্বসুরীদের চর্বিত বচন ৷ ফিলিস্তিন নিয়েও তাদের বচন গাজী সালাহউদ্দীন আইয়্যুবী (রাহিঃ) পর্যন্ত থমকে আছে ৷

ইতিহাস বলে বায়তুল মোকাদ্দাস বা জেরুজালেম শহরটি কমপক্ষে দুইবার ধ্বংস হয়েছে, ২৩বার অবরোধ হয়েছে, ৫২বার আক্রমণ হয়েছে এবং ৪৪বার দখল এবং পুনর্দখল হয়েছে ৷ ১১৮৭ খৃষ্টাব্দে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ূবী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ক্রুসেডারদের ৮৮ বছরের জবর দখলের হাত থেকে জেরুজালেম উদ্ধার করেন ৷ উদ্ধারের মাত্র ৪২ বছরের মাথায় ১২২৯ সালে তারই অযোগ্য ভাতিজা আল কামিল জেরুজালেম ক্রুসেডারদের হাতে তুলে দেয় ৷ ১২৪৪ সাল জেরুজালেম হাতছাড়া হবার পনের বছর পর, সুলতান আস সালিহ মাত্র এগার বছর বয়সী কিশোর সেনাপতি রোকনউদ্দীন বাইবার্সকে সাথে নিয়ে পূনরুদ্ধার করেন ৷ এভাবে বিভিন্ন শাসকদের হাত ঘুরে অবশেষে উক্ত এলাকা উসমানীয় খেলাফতের অন্তর্ভূক্ত হয় ৷

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় খেলাফত বৃটিশ সাম্রাজ্যের কাছে পরাজিত হলে ফিলিস্তিন বৃটিশদের আওতায় চলে যায় ৷ বৃটিশ সরকার যে সময় ফিলিস্তিন দখল করে সে সময় ফিলিস্তিনে বসবাসকারী ইয়াহুদিদের আনুমানিক সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার মাত্র ১১ শতাংশ । পরবর্তী বছরগুলোতে বৃটিশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ইয়াহুদিদের অনেকে ফিলিস্তিনে আসতে শুরু করে এবং ১৯৩১ সাল নাগাদ ফিলিস্তিনে ইয়াহুদি জনসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায় । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করে এবং তাদেরের পরামর্শ অনুযায়ী ১৯৪৭ সালে ইয়াহুদি অধ্যুষিত ‘ইসরাইল’ ও মুসলিম অধ্যুষিত ‘ফিলিস্তিন’ নামের দুটো পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব করা হয় ৷

১৯৪৭ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে ৩৩ বনাম ১৩ ভোট এর মাধ্যমে বিলটি পাস হয়। নবগঠিত আরবলীগ তথা আরব দেশগুলো বিলের বিপক্ষে ভোট দেয়। ১৯৪৮ সালের মে মাসে বৃটিশ সরকার ইসরাইলের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই আমেরিকা ও ইরান ইসরাইলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দান করে। পরবর্তীতে অন্যান্য অনেক অমুসলিম দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দান করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই খৃষ্টানদের সহযোগীতায় ইয়াহুদিরা ফিলিস্তিনের মুসলমানদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন, উচ্ছেদ, খুন, জেল, জুলুম চালিয়ে আসছে৷ ইয়াহুদিদের প্রতিরোধ করার জন্য ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে ১৯৫৯ সালে গঠিত হয় “ফাতাহ”৷

হামাসকে নিয়ে আজকের ইসলামী চিন্তাবিদদের যে উম্মাদনা, ফাহাতার ইয়াসির আরাফাত, বাথপার্টির সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার বিপ্লবী নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে নিয়ে নব্বই এর দশকে একই রকম উচ্ছাস ছিল ৷ বাংলাদেশের ইসলামী চিন্তাবিদদের কাছে যদি সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সম্পর্কে মনোভাব জানতে চান, তাহলে তাদের কাছে নেতিবাচক মন্তব্য পাবেন ৷ বাহাত্তরের সংবিধানে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ যোগ করার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে ইসলামপ্রিয় তৌহিদি জনতার বিরাগভাজন হতে হয়েছিল ৷ সেই ইসলামপ্রিয় তৌহিদি জনতাদের প্রিয় নেতা ইয়াসির আরাফাত, সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফির হাত ধরেই আরবে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির অনুপ্রবেশ ৷

প্রাথমিকভাবে ফাতাহ ইসরায়েলের অস্তিত্বের সম্পূর্ণ বিরোধী থাকলেও পরে ইয়াসির আরাফাত ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। ফাতাহ’র বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উপর অনাস্থা জ্ঞাপন করে হামাসের আবির্ভাব ৷ জামাত-শিবির সম্পর্কে আওয়ামীলীগের বিরূপ মনোভাব বাংলাদেশের প্রত্যেক জনগণই জানে ৷ একই রকম মনোভাব কেউ যদি হামাস সম্পর্কে পোষণ করেন, তাহলে আওয়ামীলীগের লোকজনই তাকে মারতে আসবে ৷ কওমী মাদ্রাসার আলেমদের যদি জামাত-শিবিরকে সমর্থন দিতে বলা হয়, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জামায়েতের কি কি ভুল আছে তার লম্বা এক ফিরিস্তি তুলে ধরবে ৷ একই দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ যদি হামাসের ফিরিস্তি তুলে ধরে, তাহলে তারাই ঐ ব্যক্তিকে ইহুদীদের দোসর বলবে ৷ হামাস এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিন ছিলেন ইখওয়ানুল মুসলিমীনের ফিলিস্তিন শাখার নেতা এবং আমাদের দেশের জামায়েত ইসলামীর নেতা-কর্মীরা ব্রাদারহুড বা ইখওয়ানের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা দাবি করে ৷

সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ ইয়াসির আরাফাত, সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি যদি মুসলমানদের নেতা হয়, তাহলে একই ধারার রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুকে তাদের সমতুল্য হিসেবে মেনে নিতে সমস্যা কোথায়? হামাস যদি মুসলমানদের প্রতিনিধি হয়ে থাকে তাহলে জামায়েত ইসলামীকে মেনে নিতে সমস্যা কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর ইসলাম প্রিয় তৌহিদি জনতার কাছে পাওয়া যাবে না ৷ ইসলাম প্রিয় তৌহিদি জনতা নিজেকে হাজী শরীয়তউল্যাহ, তীতুমীরের উত্তরসুরি দাবি করে, আবার ওহাবীদের ঘৃণা করে! এর কারণ তাওহীদ কী ইসলামপ্রিয় তৌহিদি জনতা সেটাই জানে না ৷ মসজিদে নববীর প্রায় খুতবাতে ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া ও ইহুদীদের অভিসম্পাত করা হয় ৷ ওমানে আমি যে মসজিদে জুমআর সালাত আদায় করি প্রায় জুমআতে ফিলিস্তিনিদের গায়েবানা জানাজা আদায় করা হয় ৷ আমরা কি করছি? কখনো বায়তুল মোকাররম থেকে বিশাল লম্বা মিছিল বের করে রাস্তাতে যানজট সৃষ্টি করে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছি, কখনো শায়খদের ইহুদিদের দালাল বলছি, কখনো আরবদের গালাগাল করছি ৷

ইসরাঈল রাষ্ট্রটি সৃষ্টি হওয়ার পর ১৯৪৮, ১৯৫৬, ১৯৬৭ ও ১৯৭৩ সালে মোট চারবার আরব দেশগুলো তাদের সাথে যুদ্ধ করেছে এবং প্রতিবারই পরাজিত হয়েছে ৷ এসব পরাজয়ের অনেক কারণ থাকতে পারে ৷ আরবলীগের দেশগুলোতে শতকরা ১০ ভাগ খৃষ্টান এবং অন্যান্য ধর্মের লোক বাস করে ৷ যে ৯০ ভাগ মুসলিম আছে তারা আবার শিয়া-সুন্নী দুই ভাগে বিভক্ত ৷ আরবে শিয়াদের হার যদি ৩০ ভাগও হয়, এর সাথে ইয়াহুদীদের হার যোগ করা হয় তাহলে সুন্নী মুসলমানদের বিরোধী সংখ্যা প্রায় সম পর্যায়ের অর্থাৎ ৫০/৫০ ৷ আরবে যেসব সুন্নী মুসলিম আছে তাদেরকে আবার সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, খেলাফত সহ বিভিন্ন মতবাদ হাতছানি দিচ্ছে ৷ এসব মতবাদ থেকে নিজেদের গদি রক্ষা করাই আরব শাসকদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করবে কিভাবে!

শাসকদের বিষয়ে আলেমদের দু’টি মত পাওয়া যায় ৷ একপক্ষের আলেমদের মতে মুসলিম শাসকদের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না ৷ দ্বিতীয় পক্ষের মতে, যদি এই শাসক থেকে ভালো শাসক পাওয়া যায় এবং বিদ্রোহ সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে বিদ্রোহ করা যাবে ৷ আমরা যদি প্রথমপক্ষের আলেমদের মতকে প্রাধান্য দেই, তাহলে বাংলাদেশে যত ইসলামী রাজনৈতিক দল আছে সবগুলোই বাতিল, কারণ শাসকের বিরূদ্ধে বিদ্রোহ থেকেই রাজনৈতিক দলের উৎপত্তি ৷ দ্বিতীয় মতকেও যদি প্রাধান্য দেই তাহলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ ইসলামী দলই ভ্রান্ত ৷

চেতনাবাজ এবং দলদাস ব্যতিত গ্রামের বৃদ্ধ লোকদের যদি জিজ্ঞেস করেন পাকিস্তান সরকার কেমন ছিল, বলবে এখন থেকে তখন অনেক ভালো ছিল ৷ জিয়াউর রহমানের আমল কেমন ছিল, এখন থেকে তখন অনেক ভালো ছিল ৷ এরশাদের আমল কেমন ছিল, অনেক ভালো ছিল ৷ খালেদা জিয়ার আমল কেমন ছিল, ২০০১ এর চেয়ে ৯১ বেশি ভালো ছিল ৷ শেখ হাসিনার আমল কেমন ছিল, বর্তমান সময়ের চেয়ে ৯৬ এ অনেক সুন্দর ছিল ৷ অর্থাৎ যে সুদিনের আশায় আমরা বারবার শাসক পরিবর্তন করছি, সে সুদিন আসছে না ৷ আর প্রতিটি সরকার পরিবর্তনের সাথে কোন না কোন ইসলামী দল ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল ৷

ফিলিস্তিনে ফাতাহ ও হামাস দুটো রাজনৈতিক দল ৷ ২০০৭ সালে গাজা উপত্যকায় এই দুই রাজনৈতিক দলের যুদ্ধে বহু ফিলিস্তিনী হতাহত হয়েছিল ৷ এই যুদ্ধের ফলে ফিলিস্তিনের দুই অংশ- পশ্চিম তীর ফাতাহ আর গাজা হামাসের শাসনে চলে যায় । ফাতাহ এবং হামাসের দ্বন্ধটা শুরু হয়েছিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৷ ফিলিস্তিনের ২০০৫ সালের সংসদ নির্বাচনে ১৩২টি আসনের মধ্যে হামাস ৭০টি আসনে জয়ী হয় । আরব লিগ ও ইসলামী সম্মেলন সংস্থার পর্যবেক্ষকরাসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা হামাসের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে ওই নির্বাচনকে সুষ্ঠ বলে ঘোষণা করে । ফলে ফিলিস্তিনে ইসমাইল হানিয়ার নেতৃত্বে গঠিত হয় হামাসের সরকার । কিন্তু মাহমুদ আব্বাস ও ফাতাহ’র কর্তৃপক্ষ হামাস সরকারকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে এবং এভাবে দুই পক্ষের মধ্যে বিভেদ জোরদার হয় যা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যায় ৷

দুই পক্ষের এই লড়াই ছিল ক্ষমতা দখলের লড়াই ৷ ইসলাম এবং মুসলানদের জন্য এতে কোন কল্যাণ ছিল না ৷ দুই পক্ষের সমর্থকদের কথা শোনলে আমাদের দেশের ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ রাজনৈতিক দলগুলোর মতই মনে হবে ৷ একদিকে নিজেদের রাজনৈতিক কোন্দল, অন্যদিকে ইহুদিদের আগ্রাসন এর মাঝেই চলছে ফিলিস্তিনিদের জীবন ৷ এর মাঝে আরব শাসকরা কার পক্ষ নিবে? নির্বাচিত হোক বা অনির্বাচিত হোক মাহমুদ আব্বাস ও ফাতাহ বর্তমানে ফিলিস্তিনের ক্ষমতায় ৷ সেই হিসাবে হামাস বিদ্রোহী বা বিরোধী দল ৷ আন্তর্জাতিকভাবে সাধারণত গদিতে যে বসে থাকে তার সাথে লেনদেন, চুক্তি হয়; বিরোধী দলের সাথে হয় না ৷ বিরোধীদের হয়তো গোপনে মদদ দেয়, প্রকাশ্যে না ৷

ইসলামী আইনানুসারে যেটা একটু পূর্বে বলেছিলাম, বিদ্রোহ করার সুযোগ নেই ৷ কেউ যদি বিদ্রোহ করে ক্ষমতায় এসে যায়, তার বিরূদ্ধেও বিদ্রোহ করা যাবে না ৷ ইসলামী আইনে দাস এবং নারীরা ক্ষমতায় বসতে পারবে না, কিন্তু কোন দাস এবং নারী যদি ক্ষমতায় এসে যায় তার বিরূদ্ধেও বিদ্রোহ করার সুযোগ নেই ৷ রোকনউদ্দিন বাইবার্স ছিলেন দাস, তিনি যখন সুলতান হলেন তখনকার আলেমগণ তার বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করেননি ৷ শাজরাতুদ দুর, রাজিয়া সুলতানা যখন শাসক হলেন তাদের বিরূদ্ধেও কোন আলেমরা বিদ্রোহ করেননি ৷ বিদ্রোহ করা আলেমদের কাজ না, ক্ষমতার প্রতিদ্বন্ধি রাজনীতিবিদদের কাজ ৷

রাজনীতিবিদরা কখনো কখনো নিজেদের স্বার্থে আলেমদের ফতোয়া ব্যবহার করে ৷ আমুর তৈমুর গুরিগান (তৈমুর লং) ভারত আক্রমণের সময় তাঁর সৈনিকদের জিহাদের কথা বলে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন ৷ ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে আওরঙ্গজেব তাঁর সৈনিকদের জিহাদের কথা বলে উজ্জীবিত করেছিলেন ৷ হিজবুল্লাহ, আল কায়েদা, আইসিসকেও এক সময় বিশাল বিশাল জিহাদি বাণী বলতে দেখেছি ৷ বাংলাদেশে প্রায় ৭০টি ইসলামী দল রয়েছে ৷ এই দলগুলোর যদি পাঁচ হাজার করেও নেতা কর্মী থাকে, এদের সাথে জিহাদি জযবার লেখক, বক্তাদের সমর্থকদের যোগ করা হয় তাহলে বিশাল সংখ্যা ৷ একে ওকে দোষারোপ না করে ওরা কেনো বসে আছে?

মুখে বড় বড় কথা বললেও এরা আসলে আমড়া গাছের ঢেঁকি ৷ এর দোষ, ওর দোষ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার আড়াল করার চেষ্টা করে ৷ অন্যদের দোষারোপ করে জনসমর্থন বাড়ানোর ধান্ধায় লিপ্ত থাকে ৷ বিশ্বের যে কোন দেশেই মুসলমানরা আক্রান্ত হোক না কেনো প্রতিটি মুসলমানের অন্তর সমান ব্যথা অনুভব করে ৷ ব্যথা পেয়ে কেউ হাউ মাউ কাউ করে সারা দুনিয়ার মানুষকে জানিয়ে দেয়, আর কেউ নীরবে মহান রবের নিকট ফরিয়াদ করে ৷ কিভাবে মহান রবের অনুগ্রহ পাওয়া যাবে শায়খগণ সাধারণত সে শিক্ষাটাই দিয়ে থাকেন, আর সেটাই কিছু দুষ্ট লোকের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিজেকে বিশাল বড় ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে জাহির করার পথে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + sixteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য