Saturday, October 17, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসপ্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই।

প্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই।

عنِ
عمرَان بن حُصَيْن أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ فَرَدَّ عَلَيْهِ ثُمَّ جَلَسَ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «عشر» . ثمَّ جَاءَ لآخر فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ فَرَدَّ عَلَيْهِ فَقَالَ: «ثَلَاثُونَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

 ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বলল : ’’আসসালা-মু ’আলায়কুম’’। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিলেন। অতঃপর লোকটি বসল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ লোকটির জন্য দশ নেকি লেখা হলো। অতঃপর আরেক ব্যক্তি এসে বলল : ’’আসসালা-মু ’আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের জবাব দিলেন। লোকটি বসল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ লোকটির জন্য বিশ নেকি লেখা হলো। অতঃপর আরো এক ব্যক্তি এসে বলল : ’’আসসালা-মু ’আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহ’’। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিলেন। লোকটি বসার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ লোকটির জন্য ত্রিশ নেকি লেখা হলো। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

[1] সহীহ : তিরমিযী ২৬৮৯, আবূ দাঊদ ৫১৯৫, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭১১, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৪৫২, আহমাদ ১৯৯৪৮, ‘নাসায়ী’র কুবরা ১০১৬৯, দারিমী ২৬৪০, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৪৬৯৭, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৫৯৪৮।

ব্যাখ্যাঃ প্রতিটি শব্দে দশটি করে নেকী রয়েছে। সালামের জবাব সালাম প্রদানকারীর চাইতে উত্তমভাবে দিতে হয়। হাফিয ইবনু হাজার ‘আসকালানী স্বীয় ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে বলেনঃ যদি সালামদাতা ‘‘ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’ পর্যন্ত বলে তবে উত্তরদাতা বৃদ্ধি করে ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’ পর্যন্ত বলা মুস্তাহাব।

এক্ষণে সালাম প্রদানকারী যদি ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’ পর্যন্ত বলে তাহলে সালামের জবাবদাতা কিছু বৃদ্ধি করতে পারবে কিনা? অথবা সালামদাতা যদি ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’ থেকে বৃদ্ধি করে বলে তাহলে সেটা শারী‘আতসম্মত হবে কিনা? ইমাম মালিক স্বীয় মুওয়াত্ত্বা গ্রন্থে বলেনঃ সালামের শেষ হলো ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’ পর্যন্ত। ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ‘‘শু‘আবুল ঈমান’’ গ্রন্থে একটি রিওয়ায়াত নিয়ে এসেছেন, যেখানে তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর নিকটে এসে বলেনঃ السلام عليكم ورحمة الله وبركاته ومغفرته। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’ পর্যন্তই যথেষ্ট। কারণ এর শেষ হলো ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’। অন্য এক বর্ণনায় ‘উমার বলেন সালামের শেষ হলো ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’ পর্যন্ত। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং উত্তম রাবীর অন্তর্ভুক্ত। (ফাতহুল বারী ১১/৬)

তবে মুওয়াত্ত্বায় বর্ণিত আরেকটি বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সালামের জবাবে والغاديات والرائحات বৃদ্ধি করাতে, কিছু বেশি করার বৈধতার প্রমাণ মিলে। অনুরূপভাবে ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আদাবুল মুফরাদে একটি রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন, তাতে ইবনু ‘উমার সালামের জবাবে বৃদ্ধি করতেন যেমন ইবনু ‘উমার -এর মুক্ত দাস বলেন, আমি তার নিকটে একদিন এসে সালাম দিলে এর জবাবে তিনি বৃদ্ধি করে وطيب صلواته বলেন।

ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘‘শু‘আবুল ঈমান’’ গ্রন্থে একটি হাদীস য‘ঈফ সনদে বর্ণনা করেন। সেখানে যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাম দিতেন তখন আমরা বলতাম, وعليك السلام ورحمة الله وبركاته ومغفرته। উল্লেখ্য ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’ এর পরে বৃদ্ধি করার হাদীসগুলো সবই য‘ঈফ।

ইমাম ‘আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এসব দুর্বল হাদীসগুলো যখন একত্রিত করা হয় তখন তা শক্তিশালী হয়। ফলে ‘‘ওয়া বারাকা-তুহ’’-এর পরে বৃদ্ধি করার বৈধতা পাওয়া যায়।

(ফাতহুল বারী ১১শ খন্ড, হাঃ ৬; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৭ম খন্ড, হাঃ ২৬৮৯)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 − 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য