ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় আজ সোমবার রামমন্দির উদ্বোধন হচ্ছে। এ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও লোকসভা ভোটের আবহে বাংলার কথা ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে রামমন্দিরের রামমন্দির উদ্বোধনের আবহেই মোদির উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা আরো তীব্র হয়েছে।
‘বুলডোজার বাবা’ যোগী আদিত্যনাথ নাকি দলের চাণক্য অমিত শাহ?- রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগেই গেরুয়া শিবিরে চলছে জল্পনা। তিনি যে অমিত শাহের চেয়ে কোনো অংশে কম যান না, গত কয়েক মাস অযোধ্যায় রাতদিন এক করে পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই বার্তা গেরুয়া শিবিরের শীর্ষকর্তাদের পৌঁছে দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একের পর এক রাজ্যে দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার ভূমিকায় সফল। স্বভাবতই মোদি-পরবর্তী মুখ হিসাবে কাকে সামনে রাখা হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে সংঘ পরিবারে। তবে সংঘের এক কর্মকর্তা জানান, তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকেও সামনে আনার চিন্তাভাবনাও রয়েছে।
অযোধ্যায় কয়েক হাত অন্তর প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক, রামজন্মভূমিতে তারা যেন ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। প্রতীকী অর্থে তা যে শতভাগ সত্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মন্দির উদ্বোধনের পরই লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে নেমে পড়ার কথা তাদের। বারানসির পর মোদি এবার রামকে হাতিয়ার করে রামজন্মভূমির ‘সেবা’ করতে চান। তাই অযোধ্যা থেকে প্রার্থী হতে পারেন। বিজেপির অন্দরে এমন সম্ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে।
মোদির তুলনায় সংখ্যায় কম হলেও অযোধ্যাও যোগীর ছবিতে ছয়লাপ। ব্যানার, কাটআউটে কোনোটিতে ‘দাদা-ভাই’ জুটি হয়ে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে। কোনোটিতে স্থান পেয়েছে একজনেরই মুখ। সাধু-সন্ত-সাধারণ পুণ্যার্থীরা না এলে বোঝার উপায় থাকত না রামমন্দিরের উদ্বোধন নাকি নির্বাচন, অযোধ্যার ভোল বদলের আসল উদ্দেশ্য কী!
গেরুয়া শিবিরের একাংশ মনে করছে, অমিত শাহসহ গেরুয়া শিবিরের নেতাদের বার্তা দিতেই যোগীর এই কৌশল। তবে দলের অভ্যন্তরে ভিন্ন মতও আছে। অনেকেরই মত, অমিত শাহ মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাকে হাত ধরে দিল্লি নিয়ে এসেছেন মোদিই। এছাড়াও শাহ সংঘ পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সেখানে সংঘে বিরোধিতা দিয়েই যোগীর উত্থান। ফলে সংঘ পরিবার কতখানি তার পাশে দাঁড়াবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন
