Wednesday, June 3, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeবিবিধজেনেনিন!জেনে নিন - জন্মগত খোজা যারা তারা আমাদের সমাজে হিজড়া নামে পরিচিত।

জেনে নিন – জন্মগত খোজা যারা তারা আমাদের সমাজে হিজড়া নামে পরিচিত।

بسم الله الرحمن الرحيم

মানুষের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার পূর্ব থেকেই খোজাদের ইতিহাস শুরু ৷ খোজা বা ইউনাখ (Eunuch) শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ (Eunoukhos) থেকে যার অর্থ হচ্ছে শয়নকক্ষের পাহারাদার । গ্রীক শব্দ Eune অর্থ বিছানা এবং Ekhein অর্থ হচ্ছে পাহারা দেয়া । ঠিক একইরকমভাবে ল্যাটিন ভাষায় স্প্যাডো, ক্যাস্ট্রাটাস শব্দগুলোর মানেও খোজা । খোজা শব্দটি উর্দু, পুরো শব্দটি হল খোজা সারাহ ৷ প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিন ধরনের খোজার অস্তিত্ব পাওয়া যায়—

*জোর পূর্বক খোজা বানানো,
*পরিবারের সম্মতি বা স্বেচ্ছায় খোজাত্ব বরণ,
* জন্মগত খোজা ৷

জোর পূর্বক খোজা বানানোর ইতিহাস বেশি দেখা যায় যুদ্ধপরবর্তী সময় ৷ বিজয়ীদের ক্ষমতার গর্ব এবং পরাজিতদের ক্ষমতা খর্ব করার প্রতীকী নমুনা ছিল খোজা করণ ৷ পরাজিতরা যেন ভবিষ্যতে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, তাদের জনসংখ্যা যাতে বৃদ্ধি না হয়, পরাজিত দেশের মেয়েরা যেন বিজয়ী দেশের পুরুষদের বিয়ে করতে বাধ্য হয়, ইত্যাদি কারণে বিজয়ীরা পরাজিতদের খোজা করতো ৷ সিংহাসনের অযোগ্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সিংহাসনের পথ মসৃণ রাখার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজয়ীদের মাঝে প্রতিদ্বন্ধিকে খোজা করার পদ্ধতি চালু ছিলো ৷

যীশু খ্রীষ্টের জন্মের প্রায় তিন হাজার বছর পূর্বে চীনে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি হিসেবে খোজা করণ পদ্ধতি চালু হয় ৷ মধ্যযুগে ইংল্যান্ডে বিশ্বাসঘাতক ও দেশদ্রোহীতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি খোজাকরণ পদ্ধতি চালু ছিলো ৷ ১৭৭৮ সালে আমেরিকার স্বাধীনতার স্থপতিদের একজন থমাস জেফারসন ধর্ষণ, বহুগামিতা ও সমকামিতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে খোজা করার সুপারিশ করেন ৷ ইউরোপের একটি মানবাধিকার সংগঠনের মতে, যৌন অপরাধের কারণে ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ইউরোপে অন্তত ৯৪ জন বন্দিকে কেমিক্যালের সাহায্যে খোজা করা হয়েছে ৷

চেকোস্লোভাকিয়াতে মারাত্মক ধরনের যৌন অপরাধের জন্য খোজা করার শাস্তির বিধান রয়েছে ৷ চেক প্রজাতন্ত্রের ডাঃ মার্টিন হলি বলেন, ১০০ জন যৌন অপরাধী যাদের খোজা করা হয়েছে তারা কেউই পরবর্তীতে আর যৌন অপরাধ করেনি ৷ ২০০৫ সালে গালফ টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, লোভনীয় ও মিথ্যা প্রস্তাব দিয়ে নেপালী কিশোর ও যুবকদের ভারতে এনে জোরপূর্বক খোজা করে মুম্বাই, হায়দারাবাদ, দিল্লী, লক্ষ্মৌ ও গোরকপুরের বিভিন্ন পতিতালয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ৷

ক্রীতদাস ব্যবসায়ীরা নারী ও পুরুষ উভয় প্রকার ক্রীতদাস কেনা বেচা করলেও তাদের মূল ব্যবসা ছিলো খোজা ক্রীতদাস কেনাবেচা ৷ আট থেকে বারো বৎসরের বালকদের শুক্রথলি ও পুরুষাঙ্গ কর্তন করে খোজা বানানো হতো ৷ চেতনা ও ব্যথানাশক ঔষধ আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত এই পদ্ধতিতে খোজা করা দশ জন বালকের মধ্যে নয় জনই মারা যেত ৷ তাই খোজা ক্রীতদাসদের সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রয় করা হতো ৷ হারেম পাহারা দেওয়ার জন্য শাসক ও ধনীব্যক্তিদের নিকট খোজা ক্রীতদাসের প্রচুর চাহিদা ছিলো ৷ ক্রীতদাস খোজাদের মাঝে জোর পূর্বক এবং পরিবারের সম্মতিতে খোজা বানানো উভয় শ্রেণীর খোজা অন্তর্ভূক্ত ছিলো ৷ এখন যেমন অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রির সংবাদ দেখতে পাওয়া যায় সেকালেও এমন পরিস্থিতি ছিলো ৷

শাসক, ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সাথে খোজাদের সম্পর্ক ছিলো স্বামী-স্ত্রীর মতই ৷ কোন কোন ক্ষেত্রে খোজারা স্ত্রীদের চেয়েও বিশ্বস্ত ও ক্ষমতাবান ছিলো ৷ স্ত্রী বিশ্বাসঘাতকতা করার সম্ভাবনা থাকলেও খোজাদের বিশ্বাসঘাতকতার সম্ভাবনা ছিলো নগন্য ৷ যেহেতু খোজা হলে চাকুরী নিশ্চিত তাই অনেক পরিবার লোভের বশবর্তী হয়ে শাসক, ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির আনুকূল্য পাওয়ার আশায় পরিবারের কোন এক সদস্যকে খোজা বানিয়ে মহলে নিয়োগ করতো ৷ খ্রীষ্টান শাসনামলের প্রথম দিকে চার্চের ধর্মগুরুরা নিজেরাই নিজেদের খোজা বানাতো ৷

ইউরোপে ১৮ শতক পর্যন্ত কোন কোন খ্রীষ্টান সমাজে চার্চে মেয়েদের সংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ ছিলো ৷ খোজারা ছিলো বিকল্প ব্যবস্থা ৷ বালক বয়সে খোজা করার ফলে পুরুষালি হরমোন নিঃসৃত না হওয়ার তাদের কন্ঠ ছিলো শিশুদের ন্যায় ৷ যারা চার্চে সংগীত পরিবেশন করতো সেসব খোজাদের বলা হতো ক্যাস্ট্রাসি ৷ অনেকে পূণ্যের আশায় নিজেদের সন্তানদের খোজা বানিয়ে ক্যাস্ট্রাসি গায়ক হতে উদ্ধুদ্ধ করতো ৷ প্রোস্টেট ক্যান্স্যারের ক্ষেত্রে শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাধ্যমে ক্যান্সার যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য অনেক সময় অপারেশন বা ঔষধের মাধ্যমে খোজা করার পদ্ধতি চালু রয়েছে ৷

১৭৭২ সালে রাশিয়ায় একটি গোপন ধর্মীয় গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটেছিলো যারা স্বেচ্ছায় খোজাত্ব বরণ করে নিতো । এদের বিশ্বাস ছিলো মানুষের দেহে এ্যাডাম এবং ইভ থেকে যে নিষিদ্ধ ফল যৌন তাড়না করে বেড়াচ্ছে, খোজাত্বের মাধ্যমে তার অবসান ঘটানো সম্ভব । এক সময় জন্ম নিযন্ত্রণের জন্য অনেক অঞ্চলে খোজা করার পদ্ধতি চালু ছিলো ৷ ভিন্ন স্বাদের যৌন সুখ পাওয়ার আশায় আমেরিকায় প্রতি বছর হাজার হাজার পুরুষ স্বেচ্ছায় খোজা হয় ৷

জন্মগত খোজা যারা তারা আমাদের সমাজে হিজড়া নামে পরিচিত ৷ “হিজড়া” উর্দু শব্দ, যা আরবি “হিজর” যার অর্থ “গোত্র হতে পরিত্যাক্ত” থেকে এসেছে ৷ পরবর্তীতে তা হিন্দি ও বাংলা ভাষায় প্রবেশ করে ৷ চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে হিজড়া হলো সেক্স ক্রোমোজোমের ত্রুটিপূর্ণ বিন্যাস বা জিন জনিত জন্মগত যৌন প্রতিবন্ধি ব্যাক্তি যাদের জন্ম পরবর্তী সঠিক লিঙ্গ নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয় । সাধারণত xy ক্রোমোজোমে ছেলে এবং xx মেয়ে কিন্তু হিজড়াদের বেলায় yxy বা xyx ৷ অনেকক্ষেত্রে চিকিৎস্যা করে তাদের সুস্থ করা যায় ৷ ইসলামী স্কলারগণের মতে, পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে মিলনের ফলে সন্তান যৌন প্রতিবন্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷

হিজড়াদের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান হল তাদের নারী বা পুরুষের যে কোন একটি ক্যাটাগরিতে ফেলতে হবে । যদি পুরুষালী হয়, তাহলে পুরুষ । যদি নারীর মত হয়, তাহলে নারী । সেই হিসেবেই তার উপর শরয়ী বিধান আরোপিত হবে । হিজড়াদের লিঙ্গ জটিলতা দূর করার জন্য অপারেশন বা ঔষধ সেবনে ইসলামে কোন বাধা নেই ৷ কাউকে জোরপূর্বক বা স্বেচ্ছায় খোজা বানানো ইসলাম ও ইহুদী উভয় ধর্মে নিষিদ্ধ ৷ হিব্রু বাইবেলে বর্ণিত আছে, “কোনো খোজা পশু উৎসর্গ করা যেমন নিষিদ্ধ, তেমন খোজা ব্যক্তির ধর্মগুরু হওয়া নিষিদ্ধ ৷” কিন্তু ৬ শতকের দিকে খ্রীষ্ট ধর্মের পন্ডিত ওরেগন আদামান্তিয়াশ বলেন যীশুর বরাত দিয়ে বলেন, “যীশু বলেছেন- যারা জন্ম থেকে খোজা, যাদের খোজা করা হয়েছে, যারা নিজেরাই নিজেদের খোজা বানিয়েছে তারা স্বর্গে যাবে ৷”

হিন্দু ধর্মে জোর পূর্বক ও স্বেচ্ছায় খোজাদের নিয়ে কিছু বলা হয়নি কিন্তু হিজড়াদের নিয়ে মহাভারতে বলা হয়েছে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পঞ্চপান্ডবদের বিজয়ের জন্য দেবতা আরাভান দেবী কালীকে তার জীবন উৎসর্গ করেন ৷ কিন্তু যুদ্ধের পূর্বের রাতে আরাভান বিবাহ করার ইচ্ছা পোষণ করেন ৷ পরদিন সকালে যেহেতু সে মারা যাবে তাই কোন মেয়ে তাকে বিবাহ করতে রাজি হয়নি ৷ অবশেষে কৃষ্ণ নিজেই এক অসাধারণ রূপসী মেয়ের রূপ ধারণ করে মোহিনী নামে তাকে বিবাহ করেন ৷ দক্ষিণ ভারতের হিজড়াদের দাবি, দেবতা আরাবানই তাদের পূর্ব পুরুষ ৷

ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের অবসানের সাথে সাথে এখানকার হিজড়া সম্প্রদায়ের দুঃখ-দূর্দশার জীবন শুরু হয় ৷ মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন খোজা করার বিষয়ে জানতে পারেন তখন তিনি জোর করে কিংবা স্বেচ্ছায় খোজা হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন, কিন্তু যারা জন্মগতভাবে যৌন প্রতিবন্ধী তাদের ঠাঁই হতো রাজদরবারে ৷ তাদের বিবেচনা করা হতো মুঘল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বিশ্বস্ত কর্মচারী হিসেবে এবং তাদের মর্যাদা ছিলো বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম পর্যায়ে ৷

ব্রিটিশরা এই সকল হিজড়াদের তাদের নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে মনে করত এবং সন্দেহের চোখে দেখতো । তাই তারা তাদের প্রাসাদ থেকে বের করে দেয় এবং তাদেরকে “ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য কলঙ্ক” হিসেবে উল্লেখ করে ১৮৭১ সালে “ক্রিমিনাল ট্রাইবস অ্যাক্ট” আইন চালু করে ৷ এই আইনে ব্রিটিশ পুলিশ যে কোন সময়, যে কোন স্থানে, বিনা কারণে হিজড়াদের গ্রেপ্তার করতে পারতো ৷ যদিও পরবর্তীতে আইনটি বাতিল হয় কিন্তু ততদিনে সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে ৷ তারা ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায় এবং জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নাচ-গান, ভিক্ষাবৃত্তি, যৌন কর্মের মতো অসামাজিক পেশায় জড়িয়ে যায় ৷

“ট্রান্সজেন্ডার” শব্দটি খোজা ও হিজড়া উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও হিজড়াদের ক্ষেত্রে সাধারণত “কমন জেন্ডার” বা “থার্ড জেন্ডার” ব্যবহৃত হয় ৷ হিজড়াদের সম্মান ফিরিয়ে দিতে হলে আমাদের সেই ইতিহাসে ফিরে যেতে হবে যেখানে তারা সম্মান হারিয়েছে ৷ আমাদের দেশে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা সহ বিভিন্ন ভাতা চালু রয়েছে তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে হিজড়াদের জন্য ভাতা চালু বা যোগ্যতানুসারে তাদের কাজ দিতে সমস্যা কোথায়? ঢাকার কামরাঙ্গিচরে হিজড়াদের জন্যে একটি মাদ্রাসা হয়েছে, সুনামগঞ্জেও হচ্ছে । সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তৈরী ও পৃষ্ঠপোষকতা করতে সমস্যা কী?

বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার হিজড়া রয়েছে ৷ কিন্তু অনুসন্ধানী রিপোর্ট বলছে, এদের অধিকাংশই ভূয়া হিজড়া ৷ এরা নারী বেশধারী পুরুষ- এদের স্ত্রী সন্তান সবই আছে এমনকি- অনেকের আলীশান বাড়িও আছে শহরের উপর । এদের আয়ের উৎস চাঁদা তোলা, অনেকেই আবার অবৈধ ব্যবসা এবং অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত । হিজড়াদের নিয়ে ঐতিহাসিক, বৈজ্ঞানিক, ধর্মীয়, সামাজিক কোন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা না করেই চিরচেনা আবেগী গল্পের বাহার সাজানো হয়েছে ৷ যেই গল্পে সমস্যা সমাধানেরও কোন ইঙ্গিত নেই ৷ মানিক বন্দোপাধ্যায়ের “প্রাগৈতিহাসিক” গল্পের ডাকাত ভিখু তার পায়ের ক্ষত চিকিৎস্যা করায়নি, কারণ ক্ষত পা ভালো হলে সে ভিক্ষা পাবে না ৷ এরাও সমাজের কোন ক্ষত সারাতে চায় না, সমাজের ক্ষত সেরে গেলে এদের রাজনৈতিক কোন ইস্যু থাকবে না ৷ এরা একটা চিহ্নিত গোষ্ঠী ৷ যারা নিত্য নতুন ইস্যু তৈরি করে ব্রিটিশদের মতো জাতিকে বিভক্ত রাখতে চায় ৷

এই গোষ্ঠীকে আমরা বলেছিলাম, ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মহীনতা একই কথা ৷ ওরা বললো, তোমরা ধর্মান্ধ ৷ আমরা বলেছিলাম, মূর্তি আর ভাষ্কর্য একই কথা ৷ ওরা বললো, তোমরা মৌলবাদী ৷ আমরা বলছি—মহাত্মা গান্ধী এবং ইন্দিরা গান্ধীর পরিবার যেমন এক নয়, খোজা (ট্রান্সজেন্ডার) এবং হিজড়াদের পরিবারও এক নয় ৷ ওরা বলছে, তোমরা জঙ্গি ৷ দেশের যেকোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ১০-২০ ভাগ মানুষের পক্ষাবলম্বন করে ওরা নিজেদের দাবি করে মানবতাবাদী, আর ৮০-৯০ ভাগ মানুষের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে ওদের দৃষ্টিতে আমরা মানবতার শত্রু!

অর্থ, বিত্ত, ক্ষমতা, পদ, পদবীর লোভে এই গোষ্ঠী স্বেচ্ছায় খোজাত্ব বরণ করেছে ৷ ঐতিহাসিকদের মতে স্বেচ্ছায় খোজা হওয়ারা খুবই হিংসুটে এবং প্রভুভক্ত ছিলো ৷ নারীরা ওদের নিকট খুবই প্রিয় হলেও পুরুষদের একদমই সহ্য করতে পারতো না ৷ এরা স্বেচ্ছায় খোজা হয়েছে ছলে, বলে, কৌশলে এখন অন্যদের খোজা বানানোর পাঁয়তারায় লিপ্ত  ৷

সাইদুর রহমান সৈয়দ
২৭/০১/২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য