ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় লক্ষ্যবস্ত করে বড় আকারে হামলা চালিয়েছে। এতে তিনটি প্রধান বিমানবন্দরসহ অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো, যার মধ্যে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কও রয়েছে।এই হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটেছে যখন সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ নতুন সরকার গঠনের চেষ্টা করছে।
চলতি ডিসেম্বরে,সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে তিনি বিরোধী পক্ষের সলভেশন গভর্নমেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছেন। এই পরিবর্তনে সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থানগুলোতে আক্রমণ শুরু করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে ইসরায়েলের ভূমি দখলের কারণে গোলান মালভূমিতে।
এদিকে, সিরিয়ার খ্যাতনামা মানবাধিকার কর্মী মাজেন আল-হামাদার মৃতদেহ সায়েদনায়া কারাগারে পাওয়া গেছে।রেসকিউ টিমের সদস্যরা ওই কারাগারে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ নেওয়ার পর তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেন। মাজেন আল-হামাদা অনেক দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সেদনায়া কারাগারটি একটি পরিচিত নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতদেহের চিহ্নিতকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্বরাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে, কাতার, ইরাক এবং সউদী আরব ইসরায়েলের সিরিয়ার গোলান মালভূমির ভূমি দখলকে “বিপজ্জনক” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েলকে ১৯৭৪ সালের যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছে। এই পরিস্থিতি সারা বিশ্বে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ, ইসরায়েলি হামলা, এবং বিরোধী পক্ষের ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনাগুলি একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
