রেকটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়। দুই কমিটির প্রতিবেদনে ‘বিডিআর বিদ্রোহ’র ঘটনার বিচার সেনা আইনে করার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের মতামতের ভিত্তিতে আ.লীগ সরকার প্রচলিত আইনেই বিচারের উদ্যোগ নেয়। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দুটি ফৌজদারি মামলা করা হয়। একটি ছিল হত্যা মামলা আর অন্যটি বিস্ফোরক আইনের মামলা। হত্যা মামলায় ৮৫০ জনের ‘বিচার’ সম্পন্ন হয় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। এতে ১৫২ জনের মৃত্যুদ-, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়া হয়। বেকসুর খালাস দেয়া হয় ২৭৮ জনকে। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর এ মামলায় হাইকোর্টে আপিলের রায়ও হয়ে যায়।
অপরদিকে বিস্ফোরক মামলায় ৮৩৪ জন আসামির বিচার ঝুলে যায়। অথচ এই মামলাটি হত্যা মামলার সঙ্গেই ২০১০ সালে বিচার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে শুধু হত্যা মামলার সাক্ষ্য উপস্থাপন করে শেখ হাসিনার সরকার। বিস্ফোরক আইনের মামলায় কোনো সাক্ষ্যই উপস্থাপন করেনি। একপর্যায়ে বিস্ফোরক মামলার কার্যক্রম বন্ধই হয়ে যায়। ২০২০ সালে করোনার অজুহাতে আর বসেনি বিশেষ আদালত। ফলে কারাবন্দি রয়ে যান মামলায় অভিযুক্ত বিডিআর জওয়ানরা।
হত্যা মামলায় যাদের মৃত্যুদ- কিংবা যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে তারা দ-াদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। সেই আপিল এখনো শুনানির অপেক্ষায়। অন্যদিকে বিদ্রোহের মামলায় যারা বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ-ে দ-িত হয়েছেনÑ এরই মধ্যে তাদের কারাভোগ শেষ। এছাড়া যারা বেকসুর খালাস পেয়েছেন তাদের অনেকে বিস্ফোরক মামলারও আসামি। ফলে সাজা খাটা শেষ হওয়া এবং বেকসুর খালাস পাওয়া নিরপরাধ অন্তত ৮৩৪ বিডিআর জওয়ান এখনো কারাবন্দি রয়েছে। নানা অজুহাত দেখিয়ে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি ঝুলিয়ে রাখে হাসিনার সরকার। আ.লীগ সরকার উৎখাত হওয়ার পর দাবি ওঠে এই নিরপরাধ বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার।
