নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হতে চলেছে, যা রবিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা। এই চুক্তিকে ঘিরে আরব আমেরিকান সম্প্রদায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তারা মনে করেন, বাইডেন প্রশাসন আগে থেকেই এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারত, কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিগত ১৫ মাস ধরে চলা গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৪৬,৮০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি রবিবার থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।মার্কিন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বাইডেনের স্থলে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার দাবি উঠেছে। বাইডেন প্রশাসন গাজা ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছে, যার ফলে অনেক জীবন হারিয়ে গেছে বলে আরব আমেরিকানরা অভিযোগ তুলেছে।
নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব ও মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন। এই প্রতিশ্রুতি তিনি কিছুটা বাস্তবায়ন করেছেন বলে মনে করছেন সমর্থকেরা। ট্রাম্প তার দূত স্টিভ উইটকফকে কাতার ও ইসরায়েলে পাঠান, যেখানে তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চুক্তিতে সম্মত করতে ভূমিকা রাখেন।
চুক্তিটি অনুযায়ী, গাজা থেকে ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলের কারাগারে থাকা শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। তবে, চুক্তিটি পুরোপুরি কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে, কারণ ইসরায়েল চুক্তির শর্ত পূরণে দেরি করছে।
আরব আমেরিকান সম্প্রদায়ের অনেকে ট্রাম্পকে সমর্থন করলেও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তার প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপন করতে পারবে কিনা। অন্যদিকে, বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, কারণ তারা ইসরায়েলের প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন জুগিয়ে গেছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি সংঘাত থামানোর একটি আশার আলো হতে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। গাজার মানুষ এবং আরব আমেরিকান সম্প্রদায় এখন আগ্রহভরে দেখছে, এই চুক্তি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়। তথ্যসূত্র : বিবিসি
