Monday, October 19, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকগাজা খালি করার প্রস্তাব ট্রাম্পের : ক্ষুব্ধ মিসর-জর্ডান, তীব্র নিন্দা ফিলিস্তিনিদের

গাজা খালি করার প্রস্তাব ট্রাম্পের : ক্ষুব্ধ মিসর-জর্ডান, তীব্র নিন্দা ফিলিস্তিনিদের

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘গাজা খালি’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি মত দিয়েছেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের মিশর ও জর্ডানে পাঠিয়ে দিলেই মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দূর হবে। তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে বিপদে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের এই দুই মিত্র দেশ। এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে গাজা ‘খালি’ করার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। জানান, ইসরাইল-হামাসের ১৫ মাসের যুদ্ধে গাজা ‘লÐভÐ’ হয়ে গেছে। ‘আমি কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভিন্ন অবস্থানে তাদের থাকার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই। সেখানে হয়তো তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। হয়তো তারা শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন,’ যোগ করেন ট্রাম্প। তিনি মত দেন, গাজাবাসীদের প্রতিবেশী দেশ মিশর ও জর্ডানে ‘সাময়িকভাবে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য’ সরিয়ে নেয়া যেতে পারে। ‘আমরা এখানে সম্ভবত ১৫ লাখ মানুষ নিয়ে কথা বলছি। আসুন আমরা ওই পুরো জায়গাটি পরিষ্কার করে ফেলি। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই ভ‚খÐ নিয়ে একের পর এক সংঘাত হয়েছে। (এই সমস্যার সমাধানে সেখানে) কিছু একটা হওয়া উচিত,’ যোগ করেন তিনি। আম্মানে অবস্থিত আল কুদস সেন্টার ফর পলিটিকাল স্টাডিসের পরিচালক ওরাইব রানতাউই মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের এই চিন্তাধারা ফিলিস্তিনি জনগণ, জর্ডান ও মিশরের প্রতি নতুন মার্কিন প্রশাসনের ‘বৈরি অবস্থান’ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে জর্ডান। ফিলিস্তিনিদের স্থায়ী বিকল্প বসবাসস্থল হিসেবে জর্ডানকে যাতে কখনো বিবেচনা করা না হয়, সে বিষয়টি নিয়ে দেশটি বরাবরই সোচ্চার। নতুন করে আরও শরণার্থী গ্রহণে একেবারেই সম্মত নয় জর্ডান। মিশর এর আগে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সিনাই মরুভ‚মিতে ‹পাঠিয়ে দেওয়ার› যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়েছে। রোববার আবারো ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্ষুণœ করার স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী এই উদ্যোগ নাকচ করেছে কায়রো। জর্ডানের প্রধান বিরোধীদল ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্ট পার্টির আইনপ্রণেতা সালেহ আল-আরমৌতি জানান, ট্রাম্পের প্রস্তাব ‘জর্ডানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ ও ‘যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য’। সালেহ জানান, ‘জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইতোমধ্যে জেরুজালেমের ইহুদিকরণ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য বিকল্প বাসস্থান তৈরির উদ্যোগকে রেড লাইন (বাস্তবায়নযোগ্য নয়) বলে আখ্যা দিয়েছেন।’

এদিকে, রোববার ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্পের প্রস্তাব জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। রামাল্লার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) বলছে, এই প্রস্তাব সীমা লঙ্ঘন করবে। অন্যদিকে, গাজার বাসিন্দারা দৃঢ়ভাবে বলেছেন, যে তারা উপক‚লীয় উপত্যকাটিতেই থেকে যাবেন। মধ্য গাজার নুসেইরাত থেকে নাফিজ হালাওয়া নামে এক ফিলিস্তিনি আল জাজিরাকে বলেন, এটা মানুষ কখনোই মেনে নিতে পারবে না। দুর্বলরা তাদের ভোগান্তির কারণে হয়তো চলে যেতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার ধারণা… এটি একেবারেই অসম্ভব। এলহাম আল-শাবলি নামে এক ফিলিস্তিনি নারীও ট্রাম্পের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, যদি আমরা যেতে চাইতাম, অনেক আগেই চলে যেতাম। আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই এখানেই থাকব।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা আমাদের নির্ধারিত সীমারেখার (রেড লাইন) সরাসরি লঙ্ঘন। এটি বলছে, আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, ফিলিস্তিনি জনগণ কখনোই তাদের ভ‚মি বা পবিত্র স্থান ত্যাগ করবে না। আমরা ১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালের বিপর্যয়ের (নাকবা) পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। আমাদের জনগণ দৃঢ়ভাবে টিকে থাকবে এবং নিজেদের মাতৃভ‚মি ছেড়ে যাবে না। ট্রাম্পের গাজা খালি করার প্রস্তাব জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামকেও বিস্মিত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি অতি বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, এ অঞ্চলের আরব দেশগুলো এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবে। সূত্র : আল-জাজিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য