দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ রাজধানীসহ সারা দেশে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত চলা অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে দেশের আটটি মেট্রোপলিটন এলাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২৭৪ জনকে। আর দেশের রেঞ্জ এলাকায় একহাজার ৩৪ জনকে। রোববার রাতে পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অপারেশন ডেভিল হান্টে ১ হাজার ৩০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর জানানো হয়, দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। দেশবিরোধী চক্র, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনতে গতরাত থেকেই শুরু হয় এই অভিযান। ডেভিল অর্থ হচ্ছে ‘শয়তান’ আর হান্ট অর্থ ‘শিকার’। ডেভিল হান্ট, যার ইংরেজি শাব্দিক অর্থ গিয়ে দাঁড়ায় ‘শয়তান শিকার’। ৭ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। যাতে নাম আসে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতা-কর্মীদের। হামলার ফলে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। রাজশাহী ব্যুরো : রাজশাহীতে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন সদর দফতর থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। এরপর সিএনবি মোড়, সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট, আলুপট্টি মোড় ও তালাইমারী মোড় হয়ে নগরীতে টহল দেয় যৌথ বাহিনী।
তবে রাতে চেক পোস্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি জানান, সারা দেশে গত শনিবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযানের কথা জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এ অভিযানে অংশগ্রহণ পূর্বক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সিএনপি মোড় থেকে এ অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে চেক পোস্ট পরিচালিত হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা : গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রমে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ঘটনায় জড়িত ৪১ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে মহানগর পুলিশ। অপরদিকে, চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে ৪০ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশের অভিযানে মোট ৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ৮১ জন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) তাহেরুল হক জানান, গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম দাক্ষিণ এলাকায় বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় গতকাল রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই দিনে মোট ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহানগর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে। গত শুক্রবার রাতে ধীরাশ্রম এলাকায় বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মারধর করার ঘটনার পর ওই রাতেই ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকে গতকাল রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আরো ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা সকলে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি আরো জানান, এঘটনায় বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মুহিত বাদী হয়ে জিএমপি সদর মেট্রো থানায় একটি মামলার এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারের আলোকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরদিকে, দেশজুড়ে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্ট গাজীপুর জেলার পাঁচটি থানায় মোট ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী রয়েছেন ৪০ জন। গত শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ তাদের আটক করে।গতকাল রোববার সকালে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্টে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন রয়েছে ৪০ জন। তিনি আরো জানান, আটককৃতদের মধ্যে কাপাসিয়া থানায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ১১ জন, শ্রীপুর থানায় ১৯ জন, জয়দেবপুর থানায় ৯ জন, কালিয়াকৈর থানায় ৩ জন ও কালীগঞ্জ থানায় ৭ জন। তাদের মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদকসহ বিভিন্ন দলীয় পদধারী নেতাও রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
