চাঁদাবাজি গণতন্ত্রের একটা কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য। যেখানে গণতন্ত্র থাকবে, সেখানে চাঁদাবাজি থাকবেই।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল চালাতে অনেক অর্থ প্রয়োজন। ফুল টাইম রুটি রোজগারের কাজ করে পার্ট টাইম রাজনীতি সম্ভব না। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায় কে?
আর কেউ ফুল টাইম রাজনীতি করে তারও ফাইনান্স লাগবে। বেশিরভাগ লোকেরই রানিং বিজনেস বা রিকারেন্ট ইনকাম থাকে না। তার খাওয়া-পরার টাকা কোথা থেকে আসবে?
এই টাকাটা চাঁদাবাজি থেকে আসে। চাঁদাবাজি দুই প্রকার। বড় ব্যবসায়ীরা সুবিধার বিনিময়ে চাঁদা দেয় আর ছোটো ব্যবসায়ীরা দেয় হুমকির বিনিময়ে। যেসব দেশে গণতন্ত্র ফাংশনিং আছে মনে করা হয়, সেখানে প্রথমটা হয়। বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানি এই কাজটা করে টেবিলের নিচে, আওয়াজ ছাড়া, বিনিময়ে নিজেদের স্বার্থ আদায় করে নেয়৷ কিন্তু গরীব দেশ বা ননফাংশনাল ডেমোক্রেসিতে দুইটাই হয়। জোর করে চাঁদা নিলে নয়েজ হয় বেশি, গায়ে লাগে খুব।
পৃথিবীর সবচে ফাংশনাল ডেমোক্রেটিক দেশ ইউএসে লবিং করা (পড়ুন রাজনৈতিক দলকে চাঁদা দিয়ে সুবিধা আদায় করা) একটা সাংবিধানিক অধিকার। আপনার টাকা আছে, টাকার জোরে, সরকারি নীতি বা আইন প্রণয়নে প্রভাব খাটাবেন — এটা ১০০% বৈধ৷ যার ব্যবসা নাই, গরীব, তার শুধু একটা ভোটের জোর আছে, তাও ৪ বা ৫ বছরে একবার। আর যার টাকা আছে, তার আছে সারাবছরের চাঁদার জোর। আর এই জোর ভোটের জোর থেকে অনেকগুণ শক্তিশালী।
কেউ যদি বলে সে প্রচুর গণতন্ত্র চায়, কিন্তু চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বুঝতে হবে, সে শুধুমাত্র জোরপূর্বক চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বলছে, অথবা তার জোরপূর্বক চাঁদাবাজি করার সুযোগ ও শক্তির অভাব আছে।
চাঁদাবাজি বাদ দিয়ে গণতন্ত্র করা সম্ভব না।
এজন্য বলা হয়, মধ্যযুগের খ্রিস্টান ইউরোপে চার্চ আর রাজারা মিলে জনগণকে শুষে খেত, আর গণতান্ত্রিক ইউরোপে কর্পোরেশন আর রাজনৈতিক দল মিলে জনগণকে শুষে খায়। মোটের ওপর জিনিসটা এক।
