আওয়ামী জাহেলিয়াতের পতনের পর দেশে উগ্রবাদ আর জং—ইব||দের উত্থান হয়েছে; এটা ৫ই অগাস্টের পর থেকে ভারত আর লীগের মুখস্থ বয়ান।
অথচ বাস্তবতা একেবারেই উল্টো। গতো এক বছরে একটিও ‘জং—ই’ হামলার ঘটনাও ঘটেনি। বরং রাজনৈতিক কোন্দলে শত শত খুন হয়েছে। চাঁদাবাজি ও দখলবাজির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ইসলামপন্থী লেখক ও বক্তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। হিজাব করার কারণে ছাত্রীদের স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। যদু-মধু সবাই জামিন কিংবা খালাস পেয়েছে ইসলামপন্থীরা তখনো মিথ্যা মামলায় জেলে।
লিবারেল উগ্রবাদীরা প্রকাশ্যে ইসলামমনা ব্যক্তিদের হত্যার হুমকি দিয়েছে। বাম ছাত্রনেতা ‘লাল সন্ত্রাসের’ হুশিয়ারি দিয়েছে। এমনকি গুম কমিশনেও গুম হওয়া রাজনৈতিক দলের সদস্যদের গুমের ঘটনা যেভাবে ডিল করা হচ্ছে, ইসলামপন্থীদের ঘটনা সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।
এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও প্রশাসন কোথাও কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
জনমত ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে দেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস খোলা হয়েছে। যদি সত্যিই মৌলবাদীরা ক্ষমতায় আসত বা রাষ্ট্র তাদের নিয়ন্ত্রণে যেত, তাহলে এই অফিস খোলা আদৌ সম্ভব হতো না।
আর যেসব ঘটনা ‘মৌলবাদীদের মব’ বলে চালানো হচ্ছে, তার প্রত্যেকটিই প্রশাসনিক দুর্বলতা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। এখানে মৌলবাদীদের ক্ষমতায়নের কোনো বিশাল কন্সপিরেসি টানার দরকার নেই।
বাস্তবতা হলো—হাসিনা গুম, খুন, নির্যাতন ও মামলার মাধ্যমে ইসলামমনা মানুষদের কোণঠাসা করে রেখেছিল। এই কারণেই তারা হাসিনার পতনের আন্দোলনে ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছিল। যদিও তাদের নিজস্ব ব্যানার ছিল না, তার সুযোগও তখন ছিল না।
পতনের পর আজ তারা কেবল সেই অধিকারগুলোই এক্সারসাইয করছে, যেগুলো প্রত্যেক নাগরিকেরই থাকার কথা—রাইট টু কংগ্রেগেট, রাইট টু প্রোটেস্ট ইত্যাদি।
সমস্যা আসলে অন্য জায়গায়। বাংলাদেশের সেক্যুলার-প্রগতিশীল জমিদার গোষ্ঠীর ইসলামের প্রতি এলার্জি এত তীব্র যে, তারা জনপরিসরে ইসলামের ন্যূনতম উপস্থিতিকেও মেনে নিতে পারে না।
তাই ইসলামপন্থীরা যখন মৌলিক নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করে, তখন সেটা তাদের চোখে হয়ে ওঠে মৌলবাদের উত্থান, ফার-রাইটের উত্থান।
বাংলাদেশে ফার-রাইটের উত্থান ঘটেনি। যা ঘটেছে তা হলো—যাদের এতদিন সেকেন্ড ক্লাস সিটিযেন বানিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই ইসলামমনা মানুষরা তাদের হক দাবি করতে শুরু করেছে।
কিন্তু যেহেতু সেক্যুলার জমিদাররা ইসলামী পরিচয়কে স্বভাবতই হুমকি মনে করে, তাই এই অধিকার-প্রতিবাদকেই তারা ‘উগ্রবাদ’ আর ‘ফাররাইটের উত্থান’ বলে ফ্রেইম করছে—যেমনভাবে ঔপনিবেশিক যুগে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার দাবিকেও ষড়যন্ত্র বা বিদ্রোহ বলে আখ্যায়িত করা হতো।
