মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি সতর্ক করে বলেছেন, মিসরের জীবনমান শোচনীয় হচ্ছে। রাষ্ট্রের খরচ সীমিত রাখতে মিসরীয়দের সন্তান দুইয়ের বেশি নেয়া উচিত হবে না।
এই সপ্তাহের শুরুতে ইসমাইলিয়ায় অনুষ্ঠিত এক মেডিকেল কনফারেন্সে তিনি এই সতর্ক বার্তা দেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জীবন ধারণের ব্যবস্থা ক্রমেই শোচনীয় হচ্ছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মেলাতে আমাদের এক ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, জীবন ধারণের ব্যবস্থা উন্নত হতে পারে না যতক্ষণ না জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসে।
ব্যক্তিগত জীবনে মিসরের এই একনায়ক চার সন্তানের পিতা।
এই বছর ১ জানুয়ারি মিসরের সেন্ট্রাল এজেন্সি ফর পাবলিক মোবিলাইজেশন অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস জানায়, মিসরের জনসংখ্যা ১০ কোটি ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে। মাত্র ১০ মাসেই দেশটিতে জনসংখ্যা বেড়েছে ১৩ লাখ।
মিসরের শুধু কায়রো ও গিজা প্রদেশেই দুই কোটি জনসংখ্যা রয়েছে।
এর আগে মিসরীয় সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি মিসরের জন্য অধিক জনসংখ্যা ও সন্ত্রাসকে বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন। ২০১৮ সালে তার প্রশাসন ইতনিন কেফাইয়া (দুইটিই যথেষ্ট) প্রচার অভিযান শুরু করেন। মিসরীয়দের বেশি বেশি সন্তান নেয়ার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দুই সন্তানে সীমিত রাখতে প্রচারণার সাহায্যে সচেতন করার উদ্দেশে এই অভিযান শুরু হয়।
গত বছর আল-সিসি মিসরের জনসংখ্যাকে জার্মানির সাথে তুলনা করে বলেন, গত ২৫ বছরে যেমন জার্মানিতে জনসংখ্যার বৃদ্ধি হয়নি, তেমনি মিসরেও জনসংখ্যার বৃদ্ধি হয়নি। সুতরাং, নতুন করে কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র, অবকাঠামো বা পানি শোধনাগারের প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, জার্মানির মতোই মিসরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নতুন করে বাজেটের অর্থ বরাদ্দের কোনো প্রয়োজন নেই।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
