Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকইসরায়েলগামী মার্কিন যুদ্ধবিমান-অস্ত্রবাহী জাহাজ আটকে দিল স্পেন

ইসরায়েলগামী মার্কিন যুদ্ধবিমান-অস্ত্রবাহী জাহাজ আটকে দিল স্পেন

ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রবাহী জাহাজ স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহার করতে চাইলে মাদ্রিদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে—তাদের ভূমি ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানোর “পিছনের দরজা” নয়।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্পেনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এল পাইস জানায়, মার্কিন অস্ত্রবাহী জাহাজ ও বিমানকে রোটা (কাদিস) ও মোরোন দে লা ফ্রোন্তেরা (সেভিয়া) সামরিক ঘাঁটির মধ্য দিয়ে ইসরায়েলগামী পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্পেনীয় সরকারের দাবি, ঘাঁটিগুলো তাদের সার্বভৌমত্বের অধীনে এবং সব কার্যক্রম কেবল মাদ্রিদের অনুমোদনেই সম্ভব। ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে “গণহত্যা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাদ্রিদ ইতোমধ্যেই দেশটির সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধ ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই মার্কিন অস্ত্র পরিবহনও আটকে দেওয়া হয়।

স্পেনের এক সরকারি সূত্রের ভাষ্য, “রোটা ও মোরোন কোনো ব্যাকডোর নয়। এগুলো স্পেনীয় সেনা কর্মকর্তাদের কমান্ডে পরিচালিত হয় এবং এখানে প্রতিটি কার্যক্রম স্পেনের অনুমোদনসাপেক্ষ।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর থেকে স্পেন ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মাদ্রিদ। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে করা একের পর এক চুক্তি বাতিল করছে।

দক্ষিণ স্পেনের রোটা ও মোরোন ঘাঁটি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন-স্পেন যৌথ ব্যবহারের আওতায় থাকলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র এগুলোকে প্রায়ই পূর্বাঞ্চলমুখী সেনা, অস্ত্র, জ্বালানি ও সরঞ্জাম পরিবহনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। এমনকি ২০২৪ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে আমেরিকার ১৫টি কেসি-১৩৫ ( KC-135) ট্যাঙ্কার বিমান এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র অপারেশন মিডনাইট হ্যামার-এর আগে ইরানে বোমারু বিমান পাঠাচ্ছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের মাদ্রিদ-ওয়াশিংটন সামরিক সহযোগিতা চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কোনো তৃতীয় দেশে গোলাবারুদ বা বিস্ফোরক পাঠাতে চাইলে স্পেনের অনুমোদন নিতে বাধ্য। প্রথমদিকে স্পেন গন্তব্য জানার অধিকার থেকে বিরত থাকলেও ২০১১ সালের এক অপারেশনাল সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করা হয় ফ্লাইটের উৎস, গন্তব্য, মিশনের উদ্দেশ্য ও পণ্যবিবরণ জানাতে। চুক্তির ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে—যে কোনো “বিতর্কিত মালামাল বা যাত্রী” বহনের ক্ষেত্রে স্পেনের বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে।

এই কারণে ইসরায়েলগামী মার্কিন অস্ত্র পরিবহন স্পেনের কড়াকড়িতে আটকে যায়। এমনকি চলতি বছরের মার্চে ছয়টি মার্কিন তৈরি এফ-৩৫ ( F-35) আদির যুদ্ধবিমান ইসরায়েলে যাওয়ার সময় রোটা ও মোরোন ঘাঁটিকে এড়িয়ে যায়। এগুলো আজোরেসে বিরতি দিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালী হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে স্পেনের সমালোচনা করেছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “ইসরায়েলগামী অস্ত্রবাহী মার্কিন জাহাজ ও বিমানের প্রবেশাধিকার সীমিত করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” তিনি অভিযোগ করেন, “ন্যাটোর সদস্য হয়েও স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং ইসরায়েলের পাশে না দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করছে।” তথ্যসূত্র : দ্য জেরুজালেম পোস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen − thirteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য