Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ানির্বাচনকেন্দ্রিক যত গুনাহ

নির্বাচনকেন্দ্রিক যত গুনাহ

গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতি পারস্পরিক প্রতিযোগিতামূলক। ইসলামী নেতৃত্ব নির্ধারণ পদ্ধতি পারস্পরিক সহযোগিতা, পরামর্শভিত্তিক ও মনোনয়নমূলক। নেতৃত্ব নির্বাচনের যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রে দেখা যায়, সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতার সঙ্গে অসংখ্য গুনাহ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেউ চাইলেও এই সমস্ত গুনাহ থেকে বিরত থাকা অনেক কঠিন।

১. মিথ্যা ওয়াদা: নির্বাচনের সময় নেতা ও ভোটার উভয়ে মিথ্যা ওয়াদা দিয়ে থাকে। নেতা যা করতে পারবেন না অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে করবেন না—এ কথা জেনেও নির্বাচনি ইশতেহারে তা উল্লেখ করে থাকে। জনগণের ভোট নেওয়ার জন্য মিথ্যা ওয়াদা দেওয়া তাদের পেশায় পরিণত হয়ে যায়। প্রচুর পরিমাণে মিথ্যা বলা রপ্ত করার মাধ্যমে তারা একই মিথ্যা বারবার বলতে থাকে। অন্যদিকে জনগণও প্রত্যেক এমপি প্রার্থীকে মিথ্যা ওয়াদা দেয় যে, সে তাকেই ভোট দেবে। এই মিথ্যা ওয়াদার বিনিময়ে সে সকল প্রার্থীর নিকট থেকে কিছু অর্থনৈতিক লাভের আশা করে থাকে। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুনাফেক্বের আলামত তিনটি: সে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে, আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় খিয়ানত করে’ (ছহীহ বুখারীহা/৩৩)

২. পারস্পরিক গীবত ও অপবাদ: ইসলামের মূলনীতি হচ্ছে মানুষের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখা। বিচারযোগ্য কোনো ত্রুটি থাকলে সেটি দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। মানুষের পারস্পরিক দোষ চর্চা করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। অথচ গণতন্ত্রে পারস্পরিক দোষ চর্চাকে শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। গীবত ও অপবাদ ছাড়া এখানে রাজনীতি অসম্ভব। যে নেতা ও দল যত বেশি অন্য নেতা ও দলের নিন্দা করতে পারবে এবং ভুল ধরতে পারবে, ততই তার রাজনীতি টিকে থাকবে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের দেহ ও মনকে কলুষিত করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন কারো গীবত না করে… তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে?’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/১২)

৩. হারাম টাকার লেনদেন ও দুর্নীতি: গণতন্ত্রের সঙ্গে টাকার লেনদেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে কর্মীবাহিনী ধরে রাখার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্ট ইলন মাস্কের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচন করেছে। পাকিস্তানের ইমরান খান ক্রাউডফান্ডিং তথা দানের মাধ্যমে নির্বাচন করতেন। বাংলাদেশেও অনেকেই ক্রাউডফান্ডিং করে নির্বাচন করছেন এ বছর। তবে বিষয়টি পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দু-একজন পরিচিত প্রার্থী ক্রাউডফান্ডিং করতে সক্ষম হবেন। সকল প্রার্থী তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল বা পরিচিত নন। সুতরাং সকলকে অর্থের বিভিন্ন জোগান তৈরি করতে হয়। আর এখানেই শুরু হয় স্বার্থান্বেষী মহলের খেলা। সবাই নিজ নিজ স্বার্থ আদায়ের জন্য এমপি মহোদয়কে মাসোহারা বা চাঁদা দিতে অভ্যস্ত হয়। এমপি সাহেবও চাঁদার লোভে তাদের সকল অনৈতিক কাজ দেখেও না দেখার ভান করেন। এভাবে সমগ্র দেশে নিম্ন লেভেল থেকে উপর পর্যন্ত দুর্নীতির একটি ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠে। সবাই হারাম অর্থ লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে যায়। রাষ্ট্রের অলিগার্ক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতাকে অভিশাপ দিয়েছেন’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫৮০)। তিনি আরও বলেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্য/উপার্জনে লালিত-পালিত হয়েছে, সে দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (সিলসিলা ছহীহা, হা/২৬০৯; মিশকাত, হা/২৭৮৭)

৪. হত্যা ও মারামারি: ক্ষমতার নেশায় যখন মানুষ অন্ধ হয়ে যায়, তখন তার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়ে যায়। ক্ষমতা আফিমের মতো। ক্ষমতার নেশায় আসক্ত মানুষ ক্ষমতার জন্য মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করতে পারে। ফলে যেকোনো নির্বাচনের আগে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে অসংখ্য খুনাখুনি ও মারামারি হয়। অথচ মানুষ হত্যা পৃথিবীর অন্যতম মহাপাপ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে কেউ একজন মানুষকে হত্যা করে… সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল’ (আল-মায়েদাহ, ৫/৩২)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘একজন মুসলিমকে হত্যা করার চেয়ে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে কম গুরুতর’ (তিরমিযীহা/১৩৯৫)

উপরের চারটি বৈশিষ্ট্য সাধারণত গোলামদের বৈশিষ্ট্য। ক্রীতদাস বা গোলামেরা একটি রুটির জন্য মারামারি থেকে হত্যা পর্যন্ত করে থাকে। ক্রীতদাসকে টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া যায়। তারা সামান্য টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়। মিথ্যা বলা ও গীবত করা আত্মমর্যাদাহীন বেকার ও গোলামের মৌলিক কাজ। মুসলিম উম্মাহ যেন গোলামির এই স্বভাব থেকে কখনো মুক্তি না পায় এবং তাদের মধ্যে যেন কখনো প্রকৃত নেতৃত্ব তৈরি না হয় এই জন্য তাদের উপর গণতন্ত্রকে চাপিয়ে দেওয়া আছে। গণতন্ত্র হচ্ছে গোলাম তৈরির কারখানা। গণতন্ত্রের কবর রচনার উপরেই একদিন ইসলামী খেলাফতের উত্থান হবে ইনশাআল্লাহ।

(প্র. স.)গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতি পারস্পরিক প্রতিযোগিতামূলক। ইসলামী নেতৃত্ব নির্ধারণ পদ্ধতি পারস্পরিক সহযোগিতা, পরামর্শভিত্তিক ও মনোনয়নমূলক। নেতৃত্ব নির্বাচনের যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রে দেখা যায়, সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতার সঙ্গে অসংখ্য গুনাহ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেউ চাইলেও এই সমস্ত গুনাহ থেকে বিরত থাকা অনেক কঠিন।

১. মিথ্যা ওয়াদা: নির্বাচনের সময় নেতা ও ভোটার উভয়ে মিথ্যা ওয়াদা দিয়ে থাকে। নেতা যা করতে পারবেন না অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে করবেন না—এ কথা জেনেও নির্বাচনি ইশতেহারে তা উল্লেখ করে থাকে। জনগণের ভোট নেওয়ার জন্য মিথ্যা ওয়াদা দেওয়া তাদের পেশায় পরিণত হয়ে যায়। প্রচুর পরিমাণে মিথ্যা বলা রপ্ত করার মাধ্যমে তারা একই মিথ্যা বারবার বলতে থাকে। অন্যদিকে জনগণও প্রত্যেক এমপি প্রার্থীকে মিথ্যা ওয়াদা দেয় যে, সে তাকেই ভোট দেবে। এই মিথ্যা ওয়াদার বিনিময়ে সে সকল প্রার্থীর নিকট থেকে কিছু অর্থনৈতিক লাভের আশা করে থাকে। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুনাফেক্বের আলামত তিনটি: সে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে, আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় খিয়ানত করে’ (ছহীহ বুখারীহা/৩৩)

২. পারস্পরিক গীবত ও অপবাদ: ইসলামের মূলনীতি হচ্ছে মানুষের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখা। বিচারযোগ্য কোনো ত্রুটি থাকলে সেটি দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। মানুষের পারস্পরিক দোষ চর্চা করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। অথচ গণতন্ত্রে পারস্পরিক দোষ চর্চাকে শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। গীবত ও অপবাদ ছাড়া এখানে রাজনীতি অসম্ভব। যে নেতা ও দল যত বেশি অন্য নেতা ও দলের নিন্দা করতে পারবে এবং ভুল ধরতে পারবে, ততই তার রাজনীতি টিকে থাকবে। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের দেহ ও মনকে কলুষিত করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন কারো গীবত না করে… তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে?’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/১২)

৩. হারাম টাকার লেনদেন ও দুর্নীতি: গণতন্ত্রের সঙ্গে টাকার লেনদেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে কর্মীবাহিনী ধরে রাখার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্ট ইলন মাস্কের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচন করেছে। পাকিস্তানের ইমরান খান ক্রাউডফান্ডিং তথা দানের মাধ্যমে নির্বাচন করতেন। বাংলাদেশেও অনেকেই ক্রাউডফান্ডিং করে নির্বাচন করছেন এ বছর। তবে বিষয়টি পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দু-একজন পরিচিত প্রার্থী ক্রাউডফান্ডিং করতে সক্ষম হবেন। সকল প্রার্থী তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল বা পরিচিত নন। সুতরাং সকলকে অর্থের বিভিন্ন জোগান তৈরি করতে হয়। আর এখানেই শুরু হয় স্বার্থান্বেষী মহলের খেলা। সবাই নিজ নিজ স্বার্থ আদায়ের জন্য এমপি মহোদয়কে মাসোহারা বা চাঁদা দিতে অভ্যস্ত হয়। এমপি সাহেবও চাঁদার লোভে তাদের সকল অনৈতিক কাজ দেখেও না দেখার ভান করেন। এভাবে সমগ্র দেশে নিম্ন লেভেল থেকে উপর পর্যন্ত দুর্নীতির একটি ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠে। সবাই হারাম অর্থ লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে যায়। রাষ্ট্রের অলিগার্ক দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতাকে অভিশাপ দিয়েছেন’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫৮০)। তিনি আরও বলেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্য/উপার্জনে লালিত-পালিত হয়েছে, সে দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (সিলসিলা ছহীহা, হা/২৬০৯; মিশকাত, হা/২৭৮৭)

৪. হত্যা ও মারামারি: ক্ষমতার নেশায় যখন মানুষ অন্ধ হয়ে যায়, তখন তার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়ে যায়। ক্ষমতা আফিমের মতো। ক্ষমতার নেশায় আসক্ত মানুষ ক্ষমতার জন্য মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করতে পারে। ফলে যেকোনো নির্বাচনের আগে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে অসংখ্য খুনাখুনি ও মারামারি হয়। অথচ মানুষ হত্যা পৃথিবীর অন্যতম মহাপাপ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে কেউ একজন মানুষকে হত্যা করে… সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল’ (আল-মায়েদাহ, ৫/৩২)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘একজন মুসলিমকে হত্যা করার চেয়ে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে কম গুরুতর’ (তিরমিযীহা/১৩৯৫)

উপরের চারটি বৈশিষ্ট্য সাধারণত গোলামদের বৈশিষ্ট্য। ক্রীতদাস বা গোলামেরা একটি রুটির জন্য মারামারি থেকে হত্যা পর্যন্ত করে থাকে। ক্রীতদাসকে টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া যায়। তারা সামান্য টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়। মিথ্যা বলা ও গীবত করা আত্মমর্যাদাহীন বেকার ও গোলামের মৌলিক কাজ। মুসলিম উম্মাহ যেন গোলামির এই স্বভাব থেকে কখনো মুক্তি না পায় এবং তাদের মধ্যে যেন কখনো প্রকৃত নেতৃত্ব তৈরি না হয় এই জন্য তাদের উপর গণতন্ত্রকে চাপিয়ে দেওয়া আছে। গণতন্ত্র হচ্ছে গোলাম তৈরির কারখানা। গণতন্ত্রের কবর রচনার উপরেই একদিন ইসলামী খেলাফতের উত্থান হবে ইনশাআল্লাহ।

(প্র. স.)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen + 16 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য