Monday, April 20, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকইরানে ‘রেজিম চেঞ্জের’ সম্ভাবনা কতটা

ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জের’ সম্ভাবনা কতটা

শেষ পর্যন্ত ইরানে আগ্রাসন শুরু করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। গত দুই মাসের উত্তেজনা ও যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতির পর এবার বাস্তবেই পাল্টাপাল্টি সশস্ত্র হামলায় রূপ নিয়েছে তেহরানের সঙ্গে তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের বিরোধ।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। শিগগির শান্তিপূর্ণ এ বিক্ষোভ সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেয়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন ইরানের বিক্ষোভকারীদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ১৩ জানুয়ারি এক ভাষণে তিনি বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘সাহায্য আসছে’ বলে বক্তব্য দেন। এর এক সপ্তাহ আগেই শক্তির জোরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে মার্কিন বাহিনী।

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ধীরে ধীরে চারপাশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে থাকে মার্কিন বাহিনী। দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ আরো যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের দাবির মুখে ইরানের সঙ্গে বিরোধের মীমাংসায় কূটনৈতিক আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনা সফলের দাবি করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ তাতে খুব বেশি ছিল না। ইরানের ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তনের লক্ষ্যে গতকাল শনিবার হামলা শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।

হামলার পরপর এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে ওয়াশিংটন। অভিযান শেষ হলে দেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরানিদের অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ধ্বংস করতে এবং ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প মাটিতে মিশিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটিকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করতে হবে। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে নির্মূল করতে যাচ্ছি। আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি, যাতে এ অঞ্চলের সন্ত্রাসী প্রক্সিগুলো আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে বা আমাদের বাহিনীর ওপর হামলা করতে না পারে।’

ইরানি বিক্ষোভকারীদের তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ করলে আপনারা সরকারের পতন ঘটান। আপনাদেরই মূলকাজ করতে হবে। এটিই হয়তো পুরো প্রজন্মে আপনাদের একমাত্র সুযোগ। বছরের পর বছর আপনারা যুক্তরাষ্ট্রে সাহায্য চেয়েছেন, কিন্তু পাননি। এখন দেখা যাক, আপনারা কীভাবে সাড়া দেন। যুক্তরাষ্ট্র দুর্বার শক্তি ও বিধ্বংসী বাহিনী নিয়ে আপনাদের সাহায্য করছে।’

তবে ইরানের ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তন এতটাই সহজে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আগ্রাসনে ইরানের সরকারি ও সামরিক বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর লক্ষ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের। কিন্তু তাতেই যে ইরানের সরকার দুর্বল হয়ে পড়বে, তা নয়। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে জড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবুও মার্কিনিরা বৃহৎ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইরানের ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

১৭ জানুয়ারি পলিটিকোর কাছে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সময় হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইরানে ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তন চান কি না, প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি হবে এ পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে ভালো ঘটনা।’

তবে ইরানে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব অনেক গভীর। ইরানের সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীনদের উপস্থিতি দেশটিতে শক্তিশালী বিরোধী আন্দোলন গঠনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীনদের পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত হামলা এক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো জটিল করবে এবং বৃহত্তর অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে।

ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনিকে অপসারণ করলেই দেশটির ক্ষমতাসীনরা মাথা নত করবে। কিন্তু ইরানের শাসনব্যবস্থা শুধু এক ব্যক্তিকেই কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি। দেশটির সরকার ব্যবস্থায় একাধিক কেন্দ্র থেকে ক্ষমতা চর্চা করা হয়। এছাড়া আয়াতুল্লাহ খামেনির অনুপস্থিতিতে ইরানের শাসন কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও প্রস্তুতি রেখেছে তেহরান।

ইরানে আগ্রাসনের মাধ্যমে একই সঙ্গে বিপুল ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ইতোমধ্যে উগসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি আরো সংকটাপন্ন হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে তেহরান। এ পথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ও ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়, যা সারা বিশ্বে জ্বালানিসংকট তৈরি করবে।

এছাড়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে উপসাগরীয় দেশগুলোতে শরণার্থীর চাপ পড়তে পারে, যা মার্কিন এ মিত্র দেশগুলোর পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য