Friday, May 29, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরতীব্র জ্বালানি সংকটে দেশ, মন্ত্রীরা বলছেন সমস্যা নেই

তীব্র জ্বালানি সংকটে দেশ, মন্ত্রীরা বলছেন সমস্যা নেই

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই। তেলচালিত যানবাহন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন মালিক ও চালকরা। অনেকে জরুরি প্রয়োজনেও গাড়ি বের করতে পারছেন না। আবার তেলের আশায় গাড়ি বের করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পের সামনে অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। ঢাকা শহর ও আশপাশের পেট্রোল পাম্পগুলো দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে। এ কারণে রাজধানীসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল অনেক কমে গেছে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের হাতে এক লাখ ৯২ হাজার টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সরকারি ক্রয় কমিটি আরো দেড় লাখ টন আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া গত বছরের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে জ্বালানি বিভাগ থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও জ্বালানির দামে উল্লম্ফনের মধ্যেও সরকার দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি এপ্রিলেও বর্তমান দাম বহাল থাকবে বলে গতকাল সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

এদিকে, গ্রাহকদের প্রশ্ন—এত জ্বালানি তেল যাচ্ছে কোথায়। সরকারের আশ্বাসের পরও গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। মাঠের চিত্রও সংকটের কথা বলছে। সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে, সেখানেও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিয়ে সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। চুয়াডাঙ্গায় একজনকে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

চলমান সংকটের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ মজুতদারি, কালোবাজারি ও আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত কেনাকে দায়ী করা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে শহর থেকে শুরু করে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায়ও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছে। সরকারের সীমিত সক্ষমতায় এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ লিটার তেল উদ্ধার এবং মজুতদারদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে, সরকারের কাছে ‘পর্যাপ্ত তেল মজুত’ থাকার তথ্য মানতে নারাজ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা। তাদের বক্তব্য, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের চেয়ে কম তেল পাচ্ছেন তারা। সারা দেশে দুই হাজারের বেশি পেট্রোল পাম্প আছে, যার বেশিরভাগ থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি তেল দেওয়া যাচ্ছে না গ্রাহকদের। দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্পগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তেল না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ ভোক্তাদের হামলাসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কথা বলছেন মালিকরা। এখন থেকে রাতের বেলায় বন্ধ রেখে দিনের বেলায় চালু রাখতে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবি পেশ করেছেন মালিক সমিতির নেতারা।

অন্যদিকে চলমান সংকটকে কৃত্রিম হিসেবে দেখছে সরকার। এ বিষয়ে সরকারের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলার পরপরই আমাদের দেশের গ্রাহকরা আতঙ্কিত হয়ে বেশি করে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে পুরো সিস্টেমে সমস্যা তৈরি করে ফেলেছেন। সরকারের নেওয়া নানামুখী পদক্ষেপের ফলে শিগগির এ সংকট দূর হবে—এমন প্রত্যাশাও করেন তিনি।

বিদ্যমান মজুতকে স্থিতিশীল বলছে সরকার

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন। সরকারের হাতে থাকা এ মজুতকে সন্তোষজনক বলে মনে করছেন জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন সাত হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।

তিনি বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সামনে হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে আরেকটি ব্রিফিংয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে। আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই। বরং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ানোর সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশজুড়ে হাহাকার

ঢাকার উপকণ্ঠ থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের উদ্দেশে ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে রওনা হন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা। আমার দেশকে তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার পর্যন্ত আটটি পেট্রোল পাম্প অতিক্রম করেছেন তিনি। সবগুলোই বন্ধ। প্রতিটির সামনে শত শত যানবাহন প্রখর রোদে অপেক্ষমাণ। চালক ও যাত্রীরা গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন। পাম্প মালিক ও স্টাফরা জানিয়েছেন, বিকাল নাগাদ তেল এলে দেওয়া হবে। পথে তেল শেষ হয়ে গেলে একটি মোটরসাইকেল থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে সামান্য কিছু তেল নিয়ে তিনি গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

ওই কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত দুই সারির লাইন দেখে আর অপেক্ষা না করেই কোনোরকমে গন্তব্যে পৌঁছান। আপাতত তিনি আর গাড়ি রাস্তায় বের করবেন না বলেও জানান। একই চিত্র উঠে এসেছে সারা দেশ থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনেও।

সংকটের বর্ণনা পেট্রোল পাম্প মালিকদের মুখে

ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা নির্ধারণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিতসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের নেতারা বলেন, ডিপো থেকে ট্যাংকলরির চেম্বারে ধারণক্ষমতার অর্ধেক তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল গতকাল সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, পেট্রোল পাম্পে হামলা ও মালিকদের ওপর একতরফা দোষ চাপানো বন্ধ করতে হবে। গত কয়েক দিন ধরে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে অস্থিরতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পাম্প মালিকরা চাপে রয়েছেন।

পাম্পে হামলা, কর্মীদের নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ‘তেল ফুরিয়ে যাওয়ার’ আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করছে। সবাই যদি ট্যাংক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামেন, তাহলে সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধে অভিযান

জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে সারা দেশে কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে সরকার। মজুতদারদের ধরিয়ে দিতে ইতোমধ্যে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভালো ফলাফলও আসছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত মোট তিন হাজার ৫৫৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে দুই লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মামলার সংখ্যা এক হাজার ২৪৪টি। অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১৯ জনকে।

শুধু ৩০ মার্চ এক দিনেই ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে ডিজেল ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার, অকটেন ছয় হাজার ৪৪৪ লিটার এবং পেট্রোল ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার।

মজুত বাড়ানোর চেষ্টায় সরকার

জরুরি ভিত্তিতে চাহিদা পূরণে আরো দুই লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড ওয়েল) এবং বাকি এক লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গতকাল এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জ্বালানি ক্রয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমার দেশকে বলেন, আমরা চাই জনগণকে স্বস্তি দিতে। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে ভর্তুকি দিয়ে হলেও বাড়তি দাম সমন্বয় করতে। যতদিন সম্ভব এটা করা হবে। এক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের মজুত বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থা ঠিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আগামী দুই মাসে রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমতি চেয়ে চিঠিও দিয়েছে বাংলাদেশ। ৩ এপ্রিলের মধ্যে আরো দুটি কার্গো জাহাজে ৫৪ হাজার টন জ্বালানি আসছে। ভারত থেকে ইতোমধ্যে ২২ হাজার টন ডিজেল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উৎসের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four − 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য