ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থল অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী অংশ নেবে না। ইসরায়েলের একাধিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন এই যুদ্ধে তাদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করতে পারে। আর এ ধরনের অভিযানের দায়িত্ব পুরোপুরি মার্কিন বাহিনীর ওপরই থাকবে। এদিকে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে নিশ্চিত না করেও ধারণা করা হচ্ছে পেন্টাগন সীমিত অভিযানসহ বিভিন্ন বিকল্পের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন সেনা দেশে প্রবেশ করলে তারা কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে। এক প্রতিবেদনে তেহরানের এই অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠালে তারা মার্কিন বাহিনীকে “আগুন ধরিয়ে দেবে”। সামরিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি স্থল অভিযান ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো কৌশলগত ভুল হতে পারে। এ প্রসঙ্গে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট পেপ বলেন, “ভিয়েতনাম স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় কখন আকাশযুদ্ধ স্থলযুদ্ধে পরিণত হয়।” তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং আগামী ১০ দিন পরিস্থিতির দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল নিজে স্থলযুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। ফলে ইরানের যুদ্ধ যদি ওয়াশিংটনের জন্য প্রতিকূল হয়ে ওঠে, তবে তা মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে কৌশলগত অংশীদার নয়, বরং সংঘাতের একটি প্রধান চালক হিসেবে দেখা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
