Saturday, April 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলে হতাশা, ক্ষোভ

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলে হতাশা, ক্ষোভ

বহুল প্রতীক্ষিত ‘মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ’ বাতিল হওয়ায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের প্রধান অংশগুলো না রাখার বিষয়ে সরকারি দলের সিদ্ধান্তে এটি কার্যকারিতা হারাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকসহ সংশ্লিষ্টরা।

গুম-ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে কমিশন ঘিরে যে আশা তৈরি হয়েছিল, এ সিদ্ধান্তে খোদ কমিশনের কর্মকর্তা এবং ভুক্তভোগীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকার মূলত গুম-ক্রসফায়ারে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়মুক্তি দিতেই এ উদ্যোগ নিচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালানোর পর নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশনসহ বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে অন্য কমিশনগুলো পুনর্গঠন করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার খুব যাচাই-বাছাই করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে (এনএইচআরসি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কমিশন পুনর্গঠন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের গুম কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল হোসেনকে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হয়। গুম কমিশনের আরো কয়েকজন সদস্যকেও মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা কাজ শুরু করার আগেই কার্যত তা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সে অনুযায়ী অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করায় এটি অকার্যকর হয়ে পড়বে।

এদিকে গত রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছিলেন, এটা মনে করার কারণ নেই যে, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে। গুমের আইনে যে সাজা ও তদন্তের প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং আইসিটি আইনে গুমের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, দুটির মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থা যাতে বিরাজ না করে, সেজন্য আইনগুলো যাচাই-বাছাই করা দরকার।

গুমের শিকার জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর ছেলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানের পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ যেভাবে করা হয়েছে, সেটা (আইনে) করা হলে গুমের শিকার সদস্যদের প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ, আমরা একই সঙ্গে আইসিটি অ্যাক্টে গুমের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেছি। সেখানে বিচার ও তদন্ত হবে। আবার গুম আইনে ভিন্ন একটি তদন্তের কথা বলেছি। সেখানে (আইসিটি অ্যাক্টে) গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্তু গুমের আইনে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা রাখা হয়েছে।

ব্যারিস্টার আরমান দাবি করেছেন, সরকারের সদিচ্ছা তখনই বোঝা যেত, যদি সরকার অধ্যাদেশটি একেবারে বাতিল না করে পাস করার পর সংশোধনী আনত। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আমাদের আবেদন, যদি এ আইন সরকার পরিশোধিত করতে চায়, তাহলে আগে অনুমোদন দিয়ে আইনে রূপান্তর করুক, তারপর প্রয়োজনে সংশোধনী বিল এনে সংশোধন করা হোক। তিনি আরো বলেন, যদি সেটা না করা হয়, তাহলে ১২ তারিখ আইনটি বাতিল হয়ে গেলে ১৩ তারিখ থেকে গুমের কোনো সংজ্ঞাই থাকবে না।

এদিকে আইনমন্ত্রীর যুক্তি খণ্ডন করে মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান এক সদস্য আমার দেশকে বলেন, আমরা প্রথম থেকেই লক্ষ করছি, বিগত সময়ে গুম-ক্রসফায়ারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য জড়িত ছিল, তাদের রক্ষা করতে সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ অধ্যাদেশ পাশ কাটাতে চাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ সদস্য বলেন, বর্তমানে কমিশনের কাছে গুম-ক্রয়ফায়ারসহ কয়েক হাজার বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মারাত্মক অভিযোগ জমা আছে, যেগুলো আমরা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে এনএইচআরসির সদস্য মো. নূর খান বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর যে ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়ে যাবে। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী কমিশন নিজ উদ্যোগে তদন্ত শুরু করতে পারত এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাছ থেকে নথিপত্র তলব করার ক্ষমতা পেয়েছিল।

ভুক্তভোগীদের মাঝে গুম এবং পরে নির্যাতনের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জ কারাগারে মারা যাওয়া খুলনার মোস্তাফিজুর রহমান সিফাতের ভাই মাহফুজ শাকিল আমার দেশকে বলেন, কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই আমার তরুণ ভাইকে ফ্যাসিস্ট সরকারের র‌্যাব সদস্যরা ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই খুলনা শহর থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। ১৭ দিন গুম রেখে আমার ভাইকে জঙ্গি হিসেবে নাটক সাজায়। পরে দীর্ঘদিন নির্যাতন করে কেরানীগঞ্জ কারাগারে মেরে ফেলা হয়। হাসিনার পলায়নের পর আমরা বিচারের জন্য গুম কমিশন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ।

২০১৪ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়া থানা পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে ক্রসফায়ার এবং নিক্যাপিংয়ের (আঘাত করে পা কেটে ফেলা) ঘটনায় বেঁচে যাওয়া জাহাঙ্গীর আলম, সামসুল হক বুলবুল ও মুকুল হোসেন আমার দেশকে বলেন, গত ১৬ বছরে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু গুরুতর ঘটনায় কমিশনে নিযুক্ত হাসিনার কর্তারা ছিলেন রহস্যজনকভাবে নীরব। এত বছর হাসিনার কমিশন ছিল নখদন্তহীন। বর্তমান কমিশন গঠনের পর আমরা আশায় ছিলাম বিচার পাব। কিন্তু সব বিবেচনায় মনে হচ্ছে আমরা আর বিচার পাব না।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশের গণমানুষের বহুল প্রতীক্ষিত কমিশনের অধ্যাদেশটি বাতিল করতে সরকারের উদ্যোগ খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও নজিরবিহীন। মানবাধিকার কমিশনকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করতে আমরা সময়োপযোগী উদ্যোগ নিতে যাচ্ছিলাম, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হতো।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগে উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। ওয়াশিংটনভিত্তিক রাইট টু ফ্রিডম এবং টিআইপি ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা সরকারের এ উদ্যোগে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য