সারা দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই আবারও দেখা দিয়েছে পরীক্ষার কিট সংকট। কিটের অভাবে পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষা করতে পারছে না জনস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ফলে রোগ শনাক্তে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। রাজধানীর মহাখালীর এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন মাত্র প্রায় ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে, যেখানে সক্ষমতা তার চেয়ে অনেক বেশি। দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে পাঠানো প্রায় ৫ হাজার নমুনা পরীক্ষার অপেক্ষায় জমে আছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তার বাড়ায় পরীক্ষার চাহিদাও বেড়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানের উপসর্গ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা করাতে চাইছেন। একইসঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণেও এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ফলাফল পেতে দেরি হওয়ায় অনেক রোগীকেই হাসপাতালে বেশি দিন থাকতে হচ্ছে।
এদিকে কিট সরবরাহে বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে World Health Organization (WHO)-এর বিরুদ্ধে। সংস্থাটি আগেই আরও কিট দেওয়ার আশ্বাস দিলেও নির্ধারিত সময়ে তা সরবরাহ করতে পারেনি। তবে তারা জানিয়েছে, নতুন কিট এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আসতে পারে।
স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, এমন প্রাদুর্ভাবের সময় কিট সংকট থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে কিট সংগ্রহ এবং সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হয়েছিল। পরীক্ষা সীমিত থাকলে সংক্রমণ শনাক্তে দেরি হবে, আর সেটিই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
