Sunday, October 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআওয়াজদাখিল পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়: আলিয়া শিক্ষাধারার অশনি সংকেত ও আশু সংস্কারের প্রশ্ন—...

দাখিল পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়: আলিয়া শিক্ষাধারার অশনি সংকেত ও আশু সংস্কারের প্রশ্ন— অভিভাবকত্বের সংকট!!

‘আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার অস্তিত্বসংকট: আশু সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা’ নিয়ে বিভিন্ন সময় ফেসবুকে লিখেছি। বারবার বলেছি—এই শিক্ষাধারার সামনে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কেবল পরীক্ষার ফলাফলের সংকট নয়;

এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পড়ালেখার মান, একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষকতার মান, তদারকি, জবাবদিহি, কারিকুলাম-সিলেবাস এবং সর্বোপরি পরীক্ষা ও মূল্যায়নব্যবস্থার গভীর সংকট।

এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল মূলত সেই বহুমুখী ও দীর্ঘদিনের সংকটেরই একটি ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ।

এবার দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৫৫.৪৯ শতাংশে। গত বছর এ হার ছিল ৭৫.৭১ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২০ শতাংশেরও বেশি। নিবন্ধিত ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৯৬ হাজার ১৮২ জন; উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮৫ জন।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল আরও ভয়াবহ। গত বছর শতভাগ পাস করা মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল ৪১০টি; এবার তা কমে হয়েছে মাত্র ৮৮টি। বিপরীতে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি—এমন মাদ্রাসার সংখ্যা ৮২ থেকে বেড়ে হয়েছে ২২৬টি। আর ১০ শতাংশের নিচে পাসের হার থাকা মাদ্রাসার সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫৬টি।

অর্থাৎ এটি কেবল কয়েকটি দুর্বল মাদ্রাসার ব্যর্থতার ঘটনা নয়; বরং এর মধ্যে আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক ও কাঠামোগত দুর্বলতার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

প্রশ্ন হলো—এমন হলো কেন?

এবার পরীক্ষার পরিবেশ আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও শৃঙ্খলা জোরদার হয়েছে এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে অনৈতিক সহযোগিতার সুযোগও অনেকাংশে কমেছে বলে প্রতীয়মান হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রস্তুতি ও শিখন-অর্জনের সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলের যে ব্যবধান এতদিন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছিল, তা এবার অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে।

এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—

আগের ফলাফলগুলো কি আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন-অর্জনকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করত?

যদি না করে থাকে, তাহলে এবারের ফলাফলকে শুধু ‘ফলাফল বিপর্যয়’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটিকে আমাদের দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত আত্মপ্রবঞ্চনার মুখোমুখি দাঁড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা উচিত।

আর এ জায়গাতেই বিষয়টি আরও ভয়াবহ।

আসন্ন ফাজিল ও কামিল পরীক্ষাতেও যদি একইভাবে কঠোর নজরদারি, শৃঙ্খলা ও অনিয়মমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে সেখানেও বড় ধরনের ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা অমূলক নয়।

এর প্রভাব শুধু ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষার্থীদের একটি অংশ উচ্চতর স্তরে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত হতে পারে, নতুন করে ভর্তি কমতে পারে এবং বিশেষ করে দুর্বল ও মফস্বল এলাকার কিছু মাদ্রাসা ক্রমে প্রচণ্ড শিক্ষার্থী-সংকটে পড়তে পারে।

অর্থাৎ আজকের দাখিলের ফলাফল আগামী দিনের ফাজিল-কামিল শিক্ষা, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসংখ্যা এবং শেষ পর্যন্ত আলিয়া শিক্ষাধারার অস্তিত্বের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

মূল দুর্বলতা কোথায়?!

আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হলো—

অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় পাস করানোকে শিক্ষার সাফল্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে; কিন্তু শিক্ষার্থী আসলে কী শিখল, কতটা বুঝল, তার ভাষাগত ও বিশ্লেষণী দক্ষতা কতটুকু হলো, আরবি ও ইসলামী জ্ঞানের ভিত্তি কতটা শক্ত হলো—এসব মৌলিক প্রশ্ন যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

অনেক মাদ্রাসায় শিক্ষার পরিবেশও সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, অভিভাবকের সম্পৃক্ততা এবং একাডেমিক তদারকিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

ফাজিল-কামিল স্তরের অবস্থা অনেক ক্ষেত্রে আরও উদ্বেগজনক। কোথাও শিক্ষার্থী ভর্তি আছে, কিন্তু নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নেই; কোথাও শিক্ষকও নিয়মিত পাঠদানে যথেষ্ট আগ্রহী নন। এমন কিছু মাদ্রাসা সম্পর্কেও আমার ব্যক্তিগতভাবে জানা আছে, যেখানে মাসের পর মাস ফাজিল-কামিল স্তরে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্লাসই হয় না।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা কার্যক্রম প্রকৃত জ্ঞানার্জনের পরিবর্তে পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি, অনৈতিক উপায়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত একটি সনদ অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

এভাবে কোনো শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

অবশ্যই এর ব্যতিক্রম রয়েছে। দেশের কিছু আলিয়া মাদ্রাসা এখনো অত্যন্ত ভালো ফলাফল করছে এবং শিক্ষার মান ধরে রাখার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

এটি আমাদের জন্য আশার কথাও বটে। কারণ এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়—সঠিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পাঠদান, যোগ্য শিক্ষক, জবাবদিহি ও একাডেমিক নেতৃত্ব থাকলে আলিয়া ধারায় ভালো ফল এবং মানসম্মত শিক্ষা—দুটিই সম্ভব।

অতএব সমস্যাটি আলিয়া শিক্ষাধারার অন্তর্নিহিত অক্ষমতা নয়; বরং অনেকাংশে ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব, তদারকি ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার ব্যর্থতা।

তাহলে দায় কার?

এখানে শুধু শিক্ষককে দোষ দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। আবার শুধু মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা বোর্ডকে দায়ী করেও সমস্যার সমাধান হবে না।

দায়িত্ব রয়েছে—

১. শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের;

২. মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের;

৩. মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ও প্রশাসনের;

৪. শিক্ষক ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর;

৫. অভিভাবকদের;

৬. এবং সবচেয়ে বেশি—আলিয়া শিক্ষাধারার নেতৃত্বদানকারী আলিম সমাজের।

কিন্তু এখানে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের প্রশ্নটি বিশেষভাবে সামনে আসে।

এত বিশাল একটি শিক্ষাধারা বছরের পর বছর নানা সমস্যায় জর্জরিত—শিক্ষার মানের অবনতি, দুর্বল একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষক সংকট, প্রশিক্ষণের অভাব, শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি, ফাজিল-কামিল স্তরে ক্লাসের দুর্বলতা, পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানভেদে ভয়াবহ বৈষম্য—এসব সমস্যা কি কর্তৃপক্ষের অজানা?

অবশ্যই নয়।

তাহলে প্রশ্ন হলো—

সমস্যাগুলো জানা সত্ত্বেও গত এক দশক, দুই দশক ধরে এগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় ও দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগ কোথায়?

শুধু প্রশাসনিক কাঠামো, অফিস, পরিদর্শন বা কিছু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব ফলাফল দেখতে হবে।

প্রতিটি মাদ্রাসায় নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে কি না, শিক্ষক যথাযথভাবে পাঠদান করছেন কি না, শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কী শিখছে, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, পরীক্ষার ফলাফল কেন ধারাবাহিকভাবে খারাপ হচ্ছে এবং পরীক্ষায় অসদুপায়ের প্রবণতা কেন তৈরি হয়েছে—এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার জন্য কার্যকর একাডেমিক মনিটরিং ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য।

কিন্তু বাস্তবতা হলো,

বহু মাদ্রাসা বছরের পর বছর দুর্বল ফলাফল করেও একইভাবে চলতে থাকে। কোথাও শিক্ষক আছেন কিন্তু কার্যকর পাঠদান নেই; কোথাও শিক্ষার্থী আছে কিন্তু শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নেই; কোথাও সনদ আছে কিন্তু শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল।

এমন একটি ব্যবস্থাকে আর কতদিন অবহেলার ওপর ছেড়ে রাখা হবে?

সবচেয়ে বড় সংকট—অভিভাবকত্বের সংকট!!

আমার কাছে আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো এর অভিভাবকত্বের সংকট।

রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে না; মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের একটি অংশ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার গণ্ডির বাইরে বৃহত্তর শিক্ষাধারার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছে না; আর আলিম সমাজের একটি অংশও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য, পদ-পদবি ও অন্যান্য নানা বিষয়ে যতটা সক্রিয়, আলিয়া শিক্ষার মৌলিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে ততটা সক্রিয় নয়।

ফলে আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থা যেন একটি সুস্পষ্ট অভিভাবকত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে গেছে।

বছরের পর বছর যদি একটি শিক্ষাধারা নিজের শিক্ষার মান, কারিকুলাম, শিক্ষক নিয়োগ, একাডেমিক পরিবেশ ও মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে কার্যকর সংস্কার না করে, তাহলে একদিন তার অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে—এটাই স্বাভাবিক।

এখনো সময় আছে—কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে!

এবারের ফলাফলকে কয়েকদিনের আলোচনা, ক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।

এই ফলাফল আসলে একটি আয়না।

এ আয়নায় আমরা কেবল শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা দেখছি না; দেখতে পাচ্ছি—

— আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাপনার দুর্বলতা,

— শিক্ষকতার সংকট,

— একাডেমিক তদারকির ঘাটতি,

— জবাবদিহির অভাব,

— কারিকুলাম-সিলেবাসের অসংগতি,

— পরীক্ষায় অসদুপায়ের বিস্তৃত ও দীর্ঘদিনের চর্চা,

— এবং সর্বোপরি দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার পরিণাম।

আরও ভয়াবহ বিষয় হলো—

আজকের ফলাফল বিপর্যয় যদি আমাদের সতর্ক না করে, তাহলে আগামী দিনের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

ক্রমাগত দুর্বল ফলাফল হলে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসামুখী হওয়ার আগ্রহ হারাবে। ভালো শিক্ষার্থীরা অন্য ধারায় চলে যাবে। দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দুর্বল হবে। শিক্ষকতার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একসময় অনেক মাদ্রাসা শুধু নামেই থাকবে, বাস্তবে সেখানে মানসম্মত শিক্ষার্থী ও শিক্ষা—দুটিই থাকবে না।

তখন হয়তো আমরা আবার প্রশ্ন করব—

আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থা কোথায় গেল?

কিন্তু তখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।

আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থা শুধু একটি পরীক্ষামুখী শিক্ষাব্যবস্থা নয়; এটি এ দেশের মুসলিম সমাজের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাধারা। এর দীনী বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য রক্ষা করতে হলে এর দুর্বলতাগুলো আড়াল নয়, নির্ভয়ে চিহ্নিত করতে হবে এবং সাহসের সঙ্গে সংস্কার করতে হবে।

সংস্কার মানে আলিয়া শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য নষ্ট করা নয়; বরং এর মৌলিক দীনী বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে এমন একটি যুগোপযোগী, মানসম্মত ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী সত্যিকার অর্থে আলিম হওয়ার পাশাপাশি সমকালীন জ্ঞান ও সমাজের চাহিদা মোকাবিলার যোগ্যতাও অর্জন করবে।

এ জন্য এখন প্রয়োজন—

পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক অডিট,

কার্যকর মাঠপর্যায়ের তদারকি,

শিক্ষকতার মানোন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ,

নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ,

ফাজিল-কামিল স্তরে একাডেমিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা,

কারিকুলাম ও সিলেবাসের যুগোপযোগী পুনর্বিন্যাস,

শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিখন-অর্জন মূল্যায়ন,

পরীক্ষাব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা,

দুর্বল প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ একাডেমিক সহায়তা,

এবং সর্বোপরি কার্যকর জবাবদিহি।

কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান—

দাখিলের এবারের ফলাফলকে শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে দেখবেন না। এটিকে আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট হিসেবে দেখুন।

আর আলিম সমাজের প্রতিও আহ্বান—

আর কত ফলাফল বিপর্যয়ের পর আমরা জেগে উঠব?

আমরা কি আরেকটি ফলাফল বিপর্যয়ের অপেক্ষা করব, নাকি এখনই আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করব?

আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—আত্মপ্রবঞ্চনা নয়, আত্মসমালোচনা; দায় এড়ানো নয়, জবাবদিহি; সাময়িক জোড়াতালি নয়, মৌলিক সংস্কার।

সময় এসেছে—আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচানোর জন্য সত্যিকার অর্থে তার পাশে দাঁড়ানোর।

-ড. আহমদ আলী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য