হরতালে কার্যকর ভূমিকা পালন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণার বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এর আগে সোমবার রাতে ডিআইটির রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মুসল্লিদের সামনে এমন ঘোষণা দেন তিনি। দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর নির্দেশনা মানছেন না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
রবিবার হেফাজতের ডাকা হরতালে মাওলানা আবদুল আউয়ালের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে নেতাকর্মীরা। ওই দিন ডিআইটি মসজিদের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ নেতাকর্মীসহ তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে তিনি সকাল ১০টার দিকে হরতালের পরিসমাপ্তি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এতে করে মাঠে থাকা নেতাকর্মীর তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পরে সোমবার রাতে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষণা নিয়ে মাওলানা আব্দুল আউয়ালের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে মাওলানা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘আমি সকল মুসল্লির সামনে জানিয়ে দিয়েছি যে, আমি কোনো নেতৃত্বে থাকবো না। আমার নেতৃত্ব না মেনে কর্মীরা কার্যক্রম চালায় সুতরাং নেতৃত্বে থাকার কোনো কারণ নেই। গতকাল কেন্দ্রীয় দোয়া কর্মসূচি ডিআইটি মসজিদে করার কথা থাকলেও দলের কিছু নেতারা মিলে দেওভোগ মাদরাসায় সেই আয়োজন করেছেন। আমার কথা কেউ শোনে না। আমি আর কোনো দলে থাকতে চাই না। হেফাজত, ওলামা পরিষদ সবকিছু থেকে পদত্যাগ করেছি। মৌখিকভাবে কেন্দ্রে তা জানিয়েছি। তারা লিখিত চাইলে তাও দেবো।’
এ ব্যাপারে হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর আহমেদ বলেন, জেলা আমীর যে প্রক্রিয়ায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। তিনি পদত্যাগ পত্র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জমা দিবেন এটাই নিয়ম।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাওলানা আবদুল আউয়াল নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তিনি পদে থেকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন যার কারণে নেতাকর্মীরা তাকে চাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক রবিবার সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে অথচ মাওলানা আব্দুল আউয়াল সকাল ১০টার সময় ঘোষণা দেন হরতাল শেষ। তাঁর এমন ঘোষণা তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার অযোগ্যতা প্রমাণ করে।
