কানাডায় ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে একটি মুসলিম পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে গত রোববার এ ঘটনা ঘটে। নিহত চারজনের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে। পরিবারটির ৯ বছর বয়সী এক শিশু এ হামলা থেকে বেঁচে গেছে। আহত অবস্থায় একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। ঘটনাটিকে ইসলামবিদ্বেষ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
কানাডার পুলিশ জানিয়েছে, ইসলামবিদ্বেষ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবারটির সদস্যদের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী কানাডিয়ান এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার হাউস অব কমন্সে বক্তৃতাকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, এ হত্যাকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটা একটা সন্ত্রাসী হামলা। ঘৃণা থেকে প্ররোচিত হয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামবিদ্বেষ থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে। কট্টর ডানপন্থী বর্ণবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কানাডার লড়াই এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রুডো। তিনি বলেন, কানাডায় এ ঘটনা ঘটছে। এটি বন্ধ করতে হবে। হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি দ্রুত সেরে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোট শিশুটি দ্রুত সেরে উঠবে বলে তারা সবাই আশা করছেন। যদিও তারা জানেন, শিশুটি এই কাপুরুষোচিত হামলার কারণে সৃষ্ট দুঃখ-কষ্ট-ক্ষোভ নিয়ে বেঁচে থাকবে। হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম নাথানিয়েল ভেলটম্যান বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে ‘ফার্স্ট ডিগ্রি’ হত্যার চারটি ও হত্যাচেষ্টার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। কানাডার মুসলিম সম্প্রদায় এ ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে গণ্য করতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা ভয়াবহ এ হামলাকে ঘৃণা ও সন্ত্রাসবাদী কাজ হিসেবে গণ্য করে হামলাকারীর বিচারের দাবি তুলেছে।
এদিকে, এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান একে ইসলামবিদ্বেষী ও সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যায়িত করেছে। পাকিস্তান সরকার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এক টুইট বার্তায় নিরপরাধ ওই মুসলিম পরিবারটির ওপর গাড়ি তুলে দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে ইসলামবিদ্বেষ থেকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডন।
