রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে বিশুদ্ধভাবে আসা হাদীসসমূহ আমাদের মানতেই হবে।
যারাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশুদ্ধ ও সাব্যস্ত হাদীস প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের বিরুদ্ধে সালাফে সালেহীন সর্বদা কঠোর অবস্থানে ছিলেন। এমনকি মু‘আয ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে মিথ্যারোপ করা কুফরী’। দেখুন, আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ ২/৫৩১।
আইয়্যুব আস-সাখতিয়ানী বলেন, ‘যখন তুমি কোনো লোককে সুন্নাত ও হাদীস শুনাবে তারপর যদি সে বলে, এটা এখন ছাড়, আমাদেরকে কুরআন থেকে শোনাও, তখন জেনে নিবে যে এ লোকটি নিজে পথভ্রষ্ট ও অন্যকে পথভ্রষ্টকারী।’ দেখুন, হারওয়ী, যাম্মুল কালামি ওয়া আহলিহী, পৃ. ২০৮।
ইমাম আওযা‘ঈ বলেন, ‘যার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস পৌঁছার পর সে তাতে মিথ্যারোপ করবে তাহলে তো সে তিনজনের ওপর মিথ্যারোপ করলো, আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও যে তাকে হাদীসটি বর্ণনা করেছে তার ওপর।’ দেখুন, আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ ২/৫৩১।
ইমাম শাফে‘ঈ বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাবের পাশাপাশি সুন্নাতকেও প্রবর্তন করেছেন। আবার সেসব জায়গাতেও সুন্নাত প্রবর্তন করেছেন যেখানে সরাসরি আল্লাহর কিতাবে কোনো ভাষ্য নেই। আর যা কিছু রাসূল প্রবর্তন করেছেন সেসবের আনুগত্য করা তো আল্লাহ আমাদের উপর বাধ্য করে দিয়েছেন। আর তিনি রাসূলের অনুসরণের মাধ্যমে তার আনুগত্যের বিষয়টি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেসব সুন্নাত মানতে অস্বীকৃতি হচ্ছে এমন অপরাধ যার জন্য আল্লাহ কাউকে ছাড় বা ওযর পেশ করার সুযোগ দেননি। আর তার জন্য আল্লাহর রাসূলের সুন্নাতসমূহ অনুসরণ করা থেকে বাইরে যাওয়ার কোনো পথ রাখেননি।’ আর-রিসালাহ: পৃ. ৮৮-৮৯।
ইমাম আহমাদ বলেন, ‘যে কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস প্রত্যাখ্যান করবে সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।’ দেখুন, লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই‘তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ, নং ৭৩৩।
সুন্নাত প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি কেবল বিদআতী মু‘তাযিলাদের কাছ থেকেই প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। তারা তা করত তাদের বাতিল মতাদর্শকে সাহায্য করতে, আর এজন্য যে তাদের কলব ফিতনা, হিদায়াত থেকে বক্রতায় ছেয়ে গেছে। যেমন তারা অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করেছিল কবীরা গুনাহকারীদের ব্যাপারে শাফা‘আত এর হাদীস, অনুরূপভাবে আল্লাহর দীদার সংক্রান্ত হাদীস, তদ্রূপ কবরের আযাবের হাদীস, ইত্যাদি।
বিষয়টি দেখা যায় মু‘তাযিলাদের গ্রন্থসমূহে, যেমন, আব্দুল জব্বার লেখা, শারহু উসূলিল খামসাহ, পৃ. ২৬৮; ৬৯০; রাসায়িলিল আদলি ওয়াত তাওহীদ পৃ. ২৮৪; আল-কাসেম আর-রাস্সী, আল-আদলু ওয়াত তাওহীদ, কাযী আব্দু জাব্বার, আল-মুখতাসার ফী উসূলিদ দীন পৃ. ২৪৫।প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
