আল্লাহর জন্য ভালবাসার স্বরুপ সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম ইমাম নাসিরুদ্দীন আল আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-র চমৎকার একটি কথপোকথন —
.
উৎসুক : একজনকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসলে তাকে কি বলতে হবে যে, “আমি তোমাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি?”
.
আলবানী: হ্যাঁ! তবে কাউকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসলে বড়ো মূল্য দিতে হয়। তুমি কি জানো তা কী? তোমাদের মধ্যে কেউ কি জানো,ভালবাসার সে মূল্যটি কী? যে জানো সে উত্তরটা দাও।
.
উপস্থিত একজন: আল্লাহর রসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাই-হি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ শুধু সাত শ্রেণির লোককে তাঁর বিশেষ ছায়াতলে নিবেন, যে দিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্য থেকে একদল হলো তারা, যারা আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসে। আল্লাহর জন্যই মিলিত হয় ও আল্লাহর জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়।
.
আলবানী: এটা তাঁর নিজের মাঝেই সঠিক। তবে এটা এ প্রশ্নের উত্তর নয়। এটা আল্লাহর জন্য ভালোবাসার কাছাকাছি সংজ্ঞা হতে পারে তবে পূর্ণাঙ্গ নয়। আমার প্রশ্ন ছিলো,আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসলে উভয়কে কোন দায়িত্বটা পালন করতেই হবে? আমি কিন্তু পরকালের কোনো পুরষ্কারের প্রতি ইঙ্গিত করছি নাহ। আমি এই প্রশ্ন থেকে এটাও বুঝাতে চাচ্ছি যে, একজন আরেকজনকে যে সত্যি-ই আল্লাহর জন্য ভালোবাসে তার প্রমান বা মাপকাঠি কি? কারণ তাদের ভালোবাসা নামেমাত্রও হতে পারে! সত্য নাও হতে পারে!
.
উপস্থিত একজন: “ যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে অন্যের জন্যও পছন্দ করবে।”
.
আলবানী: এটা ভালোবাসার একটি বৈশিষ্ট্য অথবা তার সর্বনিম্ন বৈশিষ্ট্য!
.
উপস্থিত অন্য একজন: মহান আল্লাহ্ বলেন — “বলঃ
যদি তুমি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে ভালোবাসো। তাহলে তিনিও তোমাকে ভালোবাসবেন।” — [সূরা আলে ইমরান ৩;৩১]
.
আলবানী: এটা অন্য প্রশ্নের উত্তর।
.
উপস্থিত অন্য একজন: হয়তোবা উত্তরটি এক ছহীহ হাদীছে পাওয়া যাবে যেখানে বলা হচ্ছে, “ যার ভিতর তিনটি গুন রয়েছে সে ঈমানের পূর্ণ স্বাদ পাবে।“ তার মধ্যে একটি হল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাঊকে ভালোবাসা।
.
আলবানী: এটা ভালোবাসার প্রভাব বা পরিণতি, যাতে করে মনে একটা শুভ্র মিষ্টতা অনুভূত হয়।
.
উপস্থিত অন্য একজন: মহান আল্লাহ্ বলেন, “ কালের শপথ! নিশ্চয়-ই সকল মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তারা ব্যতিত যারা ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং পরস্পরকে ‘হক’ এর উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্য্যের উপদেশ দিয়েছে।” — [সূরা আল আসর ১০৩; ১-৩]
.
আলবানী: না’আম। এটা সঠিক উত্তর হয়েছে এবং এটার ব্যাখ্যা হল – যদি আমি সত্যিই আল্লাহর জন্য তোমাকে ভালোবাসি তবে আমি নিজের মাঝে একটা জেদ সৃষ্টি করব তোমাকে উপদেশ দেওয়ার জন্য এবং তুমিও আমার ক্ষেত্রে ঠিক এমনটি-ই করবে। তবে
একে – অন্যকে ভালোবাসে এমন ব্যক্তিদের মাঝে এটা দুষ্প্রাপ্য। আমরা তাঁর রেগে যাবার, ছেড়ে যাবার বা ইত্যাদির ভয়ে তাকে উপদেশ দিই না। তাকে একটা ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করি। এই ভালোবাসায় অবশ্যই সচেতনতা তবে শুধু এটাই সম্পূর্ণ (সচেতনতা) নয়।
.
এর আলোকে বিষয়টি এরকম যে, আল্লাহর জন্য ভালোবাসতে গিয়ে প্রত্যেকে অপরের প্রতি সচেতনতা প্রকাশ করবে এভাবে — “তাকে উপদেশ দিয়ে, সদা সর্বদা ভালো কাজের দিকে উৎসাহ দিয়ে ও মন্দ কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করে। এমনকি তার ছায়ার চেয়েও তার কাছে থাকতে হবে, তাকে ভালো’র উপদেশ দেয়ার জন্য।”
এজন্য-ই স্বহীহ রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, সাহাবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল – একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় তাদের মধ্যে থেকে একজন অপরজনকে পাঠ করে শোনাতেন, “কালের শপথ! নিশ্চয়-ই সকল মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।তারা ব্যতিত যারা ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং পরস্পরকে ‘হক’ এর উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্য্যের উপদেশ দিয়েছে।” — [সূরা আল আসর ১০৩; ১-৩]
.
গৃহীত:
— [আল হাওয়ী মিন ফাতওয়া আল আলবানী পৃ: ১৬৫-১৬৬]।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
