Saturday, April 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরঅশ্রু বিসর্জনের ইহকালীন ও পরকালীন উপকারিতা

অশ্রু বিসর্জনের ইহকালীন ও পরকালীন উপকারিতা

আল্লাহর ভয়ে বান্দার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া অশ্রু মহান আল্লাহর অনেক প্রিয়। আল্লাহর ভয়ে চোখ থেকে বের হওয়া এক ফোঁটা অশ্রু পৃথিবীর সব সাগর, মহাসাগরের পানির চেয়েও শক্তিশালী। গোটা পৃথিবীর সব পানি দিয়ে মহান আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচা সম্ভব নয়; কিন্তু আল্লাহর ভয়ে ঝরানো একটি ফোঁটা অশ্রু মহান আল্লাহর ক্রোধ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, সাত ধরনের মানুষকে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তার মধ্যে অন্যতম হলো, এমন ব্যক্তি যে আল্লাহকে নির্জনে স্মরণ করে আর তার চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত হয়। (বুখারি, হাদিস : ৬৮০৬)

আল্লাহর ভয়ে মাঝেমধ্যে অশ্রু ঝরানো যেমন আল্লাহর কাছে পছন্দের, তেমনি এর পার্থিব উপকারিতাও রয়েছে। মুমিন এতটাই ভাগ্যবান যে তার প্রতিটি ইবাদত তার দুনিয়া-আখিরাত উভয়ের জন্য উপকারী হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের চোখে তিন ধরনের পানি তৈরি হয়। রিফ্লেক্স অশ্রু চোখের ভেতরের যন্ত্রণা দূর করতে সাহায্য করে, সাধারণত পেঁয়াজ ইত্যাদি কাটার সময় এ ধরনের অশ্রু বের হয়। বাসাল/বেসাল অশ্রু চোখকে সিক্ত রাখতে সহায়তা করে। আবেগী অশ্রু, সব ধরনের চোখের পানিতে এনজাইম ও প্রোটিন থাকলেও আবেগী অশ্রুতে হরমোনও থাকে, অনেকটা ব্যথানাশক এনডরফিনের মতো। দেহকে চাপমুক্ত করতেও কান্না বড় ভূমিকা রাখে। কান্না হৃৎকম্পন কমায় ও চাপ তৈরি করা হরমোন শরীর থেকে বের করে দেয়। (বিবিসি)

সুবহানাল্লাহ, আল্লাহর ভয়ে অশ্রু ঝরালে যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে, তেমনি চোখের সুস্থতা ও শারীরিক-মানসিক সুস্থতায় তা দারুণ ফল দেবে।

তা ছাড়া আল্লাহর ভয়ে ঝরানো অশ্রু মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। কারণ যে চোখ মহান আল্লাহর ভয়ে কাঁদে সে চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, জাহান্নামের আগুন দুটি চোখকে স্পর্শ করবে না। ১. মহান আল্লাহর ভয়ে যে চোখ কাঁদে। ২. আল্লাহ তাআলার রাস্তায় যে চোখ (নিরাপত্তার জন্য) পাহারা দিয়ে নির্ঘুম রাত পার করে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৬৩৯)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার ভয়ে যে লোক কাঁদে, তার জাহান্নামে যাওয়া এরূপ অসম্ভব, যেমন অসম্ভব দোহন করা দুধ আবার পালানের মধ্যে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তাআলার পথের ধুলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কখনো একত্র হবে না (আল্লাহ তাআলার পথের পথিক জাহান্নামে যাবে না)। (তিরমিজি, হাদিস : ১৬৩৩)

তাই আমাদের উচিত, সুযোগ পেলেই মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা। কৃত গুনাহ থেকে তাওবা করা। যেকোনো সমস্যায়, দুশ্চিন্তায় মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। ইনশাআল্লাহ, এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের সব পাপ ধুয়ে-মুছে সাফ করে দেবেন। এবং আমাদের উভয় জাহানের শান্তি দেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য