Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরঅহেতুক কাজ ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে

অহেতুক কাজ ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের এই পৃথিবীতে অল্প সময়ের জন্য প্রেরণ করেছেন। জীবনের এই সময়গুলোকে মূল্যবান বানাতে প্রিয় নবী (সা.) আমাদের যাবতীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এ জন্য প্রকৃত মুমিন সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখে তার সময়ের প্রতি। জীবনের একটি মুহূর্ত যেন অর্থহীন কাজে না কাটে।

যেসব কাজে কোনো কল্যাণ নেই, সতর্কতার সঙ্গে সেগুলোকে এড়িয়ে চলে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনর্থক কথা-কাজ পরিহার করা। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৭)


যারা নিজেকে অহেতুক কাজে ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা প্রকারান্তরে এর মাধ্যমে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। নিজের ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করে। নিজের জীবনের যে প্রতিভা আছে প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে না, বরং প্রতিভার অপমৃত্যু হয়। এসব অহেতুক কাজ দ্বারা অন্তর কঠিন হয়ে যায়, রিজিকের রাস্তাও সংকীর্ণ হয়ে যায়। মারুফ কারখি (রহ.) বলেন, অহেতুক কথাবার্তা বলার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যায়। (জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম, ৩১৭)

বিপরীতে যারা নিজের জীবনে অহেতুক কাজকে এড়িয়ে চলে তাদের আল্লাহ তাআলা বিশেষ সম্মানে অধিষ্ঠিত করেন। তাফসিরে ইবনে কাসিরে এসেছে, এক ব্যক্তি লোকমান হাকিমকে জিজ্ঞেস করল যে, আপনি কি সেই ব্যক্তি যে আমার সঙ্গে অমুক বনে ছাগল চরাতেন? লোকমান বলেন, হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি। অতঃপর লোকটি বলল, তবে আপনি এ মর্যাদা কিভাবে লাভ করলেন যে আল্লাহর গোটা সৃষ্টিকুল আপনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং আপনার বাণী শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এসে সমবেত হয়? জবাবে লোকমান বলেন যে এর কারণ আমার দুটি কাজ, এক. সর্বদা সত্য বলা, দুই. অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা। (ইবনে কাসির, সুরা : লুকমান)

বর্তমানে আমাদের অনেকের মধ্যেই দেখা যায়, যাপিত জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটে অহেতুক কাজকর্মে। অথচ কিয়ামতের দিন বান্দাকে তার প্রতি মুহূর্তের কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব দিতে হবে মহান প্রভুর দরবারে। প্রিয় নবী (সা.) অর্থহীন জিনিস থেকে সর্বদা আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) চারটি বস্তু থেকে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করতেন, অনুপকারী ইলম থেকে, এমন অন্তর থেকে—যা আল্লাহর ভয়ে ভীত-কম্পিত হয় না, এমন দোয়া থেকে, যা কবুল হয় না, আর ওই প্রবৃত্তি হতে, যা পরিতৃপ্ত হয় না। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৫৪৪২)

অহেতুক কাজকর্ম জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হতে পারে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সাহাবি মারা যাওয়ার পর এক ব্যক্তি বলল, জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তুমি তো জানো না, হয়তো সে বেহুদা কথা বলেছে অথবা যা দান করলে তার কোনো ক্ষতি হতো না তাতেও সে কৃপণতা করেছে? (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৬)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য