ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে গঠনমূলক প্রশ্ন করা নিন্দনীয় নয়, কিন্তু অহেতুক প্রশ্ন করা নিন্দনীয়। বর্তমান যুগে মসজিদের ইমাম সাহেবরা এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন বেশি হন। কিছু মুসল্লি এমন আছে, যারা ইমাম সাহেবকে গিয়ে অহেতুক, অবান্তর প্রশ্ন করে। অনেকে আছে ইউটিউব থেকে বিভিন্ন বক্তব্য শুনে সে ব্যাপারে এসে ইমাম সাহেবকে পরীক্ষা করার জন্য আবারও প্রশ্ন করে, আবার অনেক সময় অপরিচিত বক্তাদের বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের জের ধরে ইমাম সাহেবকে জেরা করে, অথচ ইউটিউবের কোনো বক্তব্যের দায়ভার ইমাম সাহেবের নেওয়ার কথা নয়, কারণ তিনি তো সেই বক্তব্য দেননি।
অনেকে আবার ব্যক্তিগত চিন্তা ইমাম সাহেবের ওপর চাপানোর জন্য কিংবা মসজিদের অন্য মুসল্লির কোনো একটি কর্মকাণ্ডকে ইমাম সাহেবের মুখ দিয়ে নাজায়েজ বলানোর জন্যও বিভিন্ন প্রশ্ন করে থাকে। এভাবে অবান্তর ও অহেতুক প্রশ্ন করা ইসলামের দৃষ্টিতে পছন্দনীয় নয়। মহানবী (সা.) অবান্তর প্রশ্ন করা পছন্দ করতেন না। আবু মুসা (রা.) বলেন, একদা নবী (সা.)-কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। প্রশ্নের সংখ্যা অধিক হয়ে যাওয়ায় তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদের বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে যা ইচ্ছা প্রশ্ন করো। ’ জনৈক ব্যক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বলেন, ‘তোমার পিতা হুজাফাহ। ’ আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বলেন, ‘তোমার পিতা হলো শায়বার দাস সালেম। ’ তখন ওমর (রা.) আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর চেহারার অবস্থা দেখে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে তাওবা করছি। ’ (বুখারি, হাদিস : ৯২)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রাসুল (সা.) বের হলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বলেন, ‘তোমার পিতা হুজাফাহ। ’ অতঃপর তিনি বারবার বলতে লাগলেন, ‘তোমরা আমাকে প্রশ্ন করো। ’ ওমর (রা.) তখন জানু পেতে বসে বলেন, ‘আমরা আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছি। ’ তিনি এ কথা তিনবার বলেন। এতে আল্লাহর রাসুল (সা.) নীরব হলেন। (বুখারি, হাদিস : ৯৩)
তাই আমাদের উচিত অবান্তর ও অহেতুক প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকা।
