বাংলাদেশে ভারতের প্রধান রাজনৈতিক ফ্রন্ট ছিল আওয়ামী লীগ। ভারত এখনো লীগকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে, দেশীয় এজেন্টদের সক্রিয়তায়।
এদিকে, লীগের রেখে যাওয়া শূন্যস্থান পূরণ করতে উঠে এসেছে আরেক দল—যাদের খ্যাতি জড়িয়ে আছে খুন, দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে।
গত এক বছরে যে দলটি সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ও জবরদখলের জন্য কুখ্যাত, আজ তারাই ডারত ও আওয়ামী লীগের পুরোনো টকিং পয়েন্টগুলো প্রায় হুবহু আওড়াচ্ছে।
“মৌলবাদের উত্থান” এখন তাদের রাজনৈতিক বয়ানের কেন্দ্রবিন্দু। সেই একই ভারতীয় সিকিউরিটাইযেইশানের ন্যারেটিভ, যা জনপরিসরে ইসলামকে একটি আতঙ্কের বস্তু হিসেবে তুলে ধরে এবং সেই আতঙ্ককে ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
এই কৌশল হয়তো সাময়িকভাবে কাজ করতে পারে। কিন্তু যারা এই বয়ানকে আঁকড়ে ধরবে, দীর্ঘমেয়াদে জনপরিসরে তারা ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবেই চিহ্নিত হবে।
নির্বাচনী জোটে ইসলামের ব্যানার টানানো দল রাখা, কিংবা মাঠকাঁপানো বক্তাদের কাছে টানার পুরোনো কৌশলগুলো এখন আর কাজ দেবে না। লাভ হবে না, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন হবে না জাতীয় ছেলেভুলানো প্রতিশ্রুতিতেও।
বিশ-পঁচিশ বছর আগে এমন কৌশল কার্যকর ছিল। তখন গুটিকয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে পাশে রাখলেই যেন ইসলামী সমর্থন প্যাকেজ আকারে পাওয়া যেত। কিন্তু দুই দশকে অনেক কিছু পাল্টে গেছে। এখন আর কিছু নাম বা প্রতীকের ওপর ভরসা করে ইসলামী জনসমর্থন কব্জা করা সম্ভব নয়।
যে দলই ইসলামী পরিচয়কে হুমকি হিসেবে ফ্রেম করবে, যারাই জনপরিসরে ইসলামকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে, যারাই মৌলবাদের মন্ত্র আওড়াবে; তাদের সামাজিক বৈধতা ক্ষয় হবে। আওয়ামী লীগ যেমন জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে, তাদের পরিণতিও তাই হবে।
