ছাত্র-জনতা হত্যার বিচারে ৩ সদস্যের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) পুনর্গঠনে আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান করা হয়েছে গোলাম মতুঁজা মজুমদারকে। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে আছেন হাইকোর্টের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গতকাল ৩ সদস্যের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত করা হয়েছে বলে জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে হাইকোর্টের দুইজন বিচারপতি এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজকে নিয়ে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ সম্পন্ন করেছি। তিনি বলেন, খুব দ্রুতই বিচার কাজ শেষ হবে। আমাদের এখন প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার। আমরা গুমের জন্য নির্দিষ্ট আইনে পদক্ষেপ নিবো।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের যে অবস্থা ছিল, আমরা ইম্প্রুভ করার চেষ্টা করেছি। আমরা এতে অনেক সংশোধন এনেছি। যেমন- আসামিপক্ষ যেকোনো দেশের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অবজার্ভার হিসেবে থাকতে পারবে। সাক্ষ্য আইনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সাক্ষ্যের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতার বিধান এনেছি। আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, অপরাধের সংজ্ঞার ক্ষেত্রেও আমরা রোম স্ট্যাটিউট মোতাবেক করার চেষ্টা করেছি। এসব সংশোধনী নিয়ে আমরা অংশীজনদের মতামতও নিয়েছি। এসব সংশোধনী হয়তো এ মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। কিন্তু সংশোধনীর জন্য বিচার আটকে থাকবে না। তিনি বলেন, এখন যে অবস্থা আছে, এ অবস্থাতেই বিচার শুরু হতে পারে। আমাদের দুর্ভাগ্য, জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় যারা দায়ী ছিল বলে আমরা মনে করি, যারা প্রকাশ্যে গুলির হুমকি দিয়েছে, তাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হননি, আত্মগোপনে আছেন। পলাতকদের বিচারের বিধান এই আইনে আছে।
