মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোলান মালভূমিতে (হাইটসে) বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনের পতনের পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক শান্তির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৪-এ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ইসলামপন্থী বিদ্রোহী জোটের হাতে পতনের পর ইসরায়েল এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিয়েছে, যার ফলে গোলান মালভূমির জনসংখ্যা দ্বিগুণ করা জরুরি। গোলান মালভূমি, যা ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে সিরিয়া থেকে দখল করা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে দখলকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচিত।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, এই অঞ্চলে আরও মানুষকে বসতি স্থাপন করা হবে এবং এটি ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০,০০০ ইসরায়েলি এবং ২০,০০০ সিরিয়ান বাস করেন, যাদের বেশিরভাগই দ্রুজ (Druze) আরব।
এই ঘোষণার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন, “ইসরায়েল যদি সিরিয়ার সঙ্গে সংঘাত না বাড়াতে চায়, তবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের যৌক্তিকতা নেই।”
এদিকে, সিরিয়ার নতুন নেত্রীত্ব আহমেদ আল-শারা ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণকে “লাল সীমা অতিক্রম” বলে আখ্যায়িত করেছেন। সিরিয়ার সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার সংখ্যা ইতিমধ্যে ৪৫০-এরও বেশি হয়েছে। আল-শারা বলেন, “সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা নতুন সংঘর্ষ সহ্য করার মতো নয়।”
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসার গুলার বলেছেন, তারা সিরিয়ার নতুন সরকারকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি মনে করেন, নতুন প্রশাসনকে একটি সুযোগ দেওয়া উচিত।গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হওয়া। তথ্যসূত্র : বিবিসি
