Thursday, April 16, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআলজেরিয়ার সঙ্গে ফ্রান্সের সমস্যা কী?

আলজেরিয়ার সঙ্গে ফ্রান্সের সমস্যা কী?

গত কয়েকমাস ধরে আলজেরিয়া এবং ফ্রান্সের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলেছে। সে বিরোধ ছড়িয়ে পরে অন্য সব সেক্টরে। ফ্রান্স টার্গেট করে আলজেরীয় অভিবাসীদের, আলজেরীয়দের জন্য ভিসার পরিমাণ কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনে ফ্রান্স। আলজেরিয়ার ইতিহাসকে কটাক্ষ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে আজেরিয়া ফ্রান্স থেকে তার রাষ্ট্রদূতকে ফেরত আনে, ফ্রান্সের সামরিক বিমানের জন্য আলজেরিয়া তার আকাশ সীমা বন্ধ করে দেয়।

ম্যাক্রোর অযৌক্তিক দাবি

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো দাবি করেছেন যে ১৯৬২ সালে স্বাধীন হওয়ার পরে আলজেরিয়া “ভাড়াটে ব্রেইনের ওপর” নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। আর এই দেশটি সামরিক-রাজনৈতিক একটা সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলেও সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, আলজেরিয়ার ইতিহাস ভুলভাবে লেখা হয়েছে যা ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিষোদগারে ভরা। আলজেরিয়ার ইতিহাসে ফ্রান্সকে দোষী হিসেবে দেখানো হয়েছে-যা নাকি সঠিক না। এই ইতিহাস লেখা হয়েছে নাকি ফ্রান্সের ইজ্জতে কালিমা লেপন করার জন্য।এ কারণে ফ্রান্স নতুন করে আলজেরিয়ার ইতিহাস লেখানোর প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে।

ফরাসি রাষ্ট্রপতির মতে আলজেরিয়ার এই ফ্রান্স বিরোধী মনোভাবের পিছনে নাকি কলকাঠি নাড়ছে তুরস্ক। তার মতে আলজেরিয়ায় ওসমানীয়দের শাসন নাকি ফ্রান্সের উপনিবেশবাদের চেয়েও খারাপ ছিল কিন্তু সে ইতিহাস নাকি আলজেরিয়ার লোকদেরকে জানানো হচ্ছে না। এবং তুরস্ক সু কৌশলে কোণ না কোণ ভাবে সে ইতিহাসকে আলজেরিয়ার জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখছে।

আমরা আলজেরিয়ায় ফ্রান্সের এবং উসমানীয়দের শাসন নিয়ে আলোচনা করবো। তবে তার আগে আলজেরিয়া এবং ফ্রান্সের মধ্যের গত কয়েক সপ্তাহ এবং কয়েকমাস ধরে চলতে থাকা উত্তেজনা নিয়ে একটু আলোচনা করি।

ফ্রান্সের আর্কাইভ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত

এ বছরের শুরুর দিকে ফরাসি সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে ফ্রান্স আলজেরিয়াতে ১৩২ বছরের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের গোপন নথিপত্রের আর্কাইভ খুলে দিবে। আলজেরিয়া সে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। কিন্তু একই সাথে এই ১৩২ বছরে আলজেরিয়া থেকে যে সমস্ত নতিপত্র, দলিল দস্তাবেজ ফ্রান্স চুরি করে নিয়ে গেছে সেগুলো ফেরত চায় আলজেরিয়া। অন্যদিকে ফ্রান্স আলজেরিয়ার সাথে একটা যৌথ কমিটি গঠন করে নতুন করে আলজেরিয়ার ইতিহাস লেখার প্রস্তাব দেয়।

কিন্তু আলজেরিয়ার একজন মন্ত্রী ঘোষণা দেন যে ফ্রান্স হচ্ছে আলজেরিয়ার অনন্তকালের এবং চিরাচরিত শত্রু।সুতরাং ফ্রান্সের সাথে একত্রে ইতিহাস লেখার প্রশ্নই ওঠেনা। এছাড়াও ফ্রান্স ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে দক্ষিণ আলজেরিয়ায় ১৭ বার পারমানবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। তখন এই পারমানবিক পরীক্ষার রেডিওএকটিভ এবং রাশনয়িক উপাদান আলজেরিয়ার মরুভূমির বিভিন্ন স্থানে পুতে রাখা হয়। সে নিউক্লিয়ার পরীক্ষায় মারা যায় সাধারণ মানুষ, এবং ব্যাপক পরিমাণে পরিবেশ দূষণ হয় যার প্রভাবে এখনো ওই অঞ্চলের মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারিনি। এখন আলজেরিয়া সেই নিউক্লিয়ার পরীক্ষার স্থান সম্পর্কে জানতে এবং এর ক্ষতিপূরণের দাবি করেছে ফ্রান্সের কাছে। কিন্তু ফ্রান্স এ বিষয়ে কোণ পদক্ষেপ নেয়নি।

ফ্রান্সে বসবাসরত আলজেরীয় অভিবাসী সমস্যা

উপরন্তু বিভিন্ন ভাবে ফ্রান্সে বসবাসরত আলজেরিয়ার নাগরিকদের উপর জুলুম নির্যাতন করছে। এমনকি ফ্রান্সে বসবাসরত আলজেরীয় নাগরিকদের চিকিৎসা খচর পরিশোধের জন্য আলজেরিয়ার সরকারকে চাপ দেয় ফ্রান্স। অন্যদিকে ফ্রান্স তার ১৩২ বছরের উপনিবেশবাদের সময় আলজেরিয়াতে যে গণহত্যা চালিয়েছে সেজন্য ফ্রান্স সরকারকে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছে আলজেরিয়া। এগুলো নিয়ে দু দেশের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সে বসবাসকারী আলজেরীয়দের ফেরত নিতে চাপ দেয় ফরাসি সরকার। আলজেরিয়া তাদেরকে ফেরত নিতে গড়িমসি করে। ফ্রান্স তখন আজেরিয়ার নাগরিকদের ভিসার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় আলজেরিয়া। শেষ পর্যন্ত আলজেয়ারি প্যারিস থেকে তার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় এবং আলজেরিয়ার আকাশ সীমা দিয়ে ফ্রান্সের সামরিক বিমান চলচল নিষিদ্ধ করে। হয়ত ভাবতে পারেন যে ফ্রান্স কোথায় আর আলজেরিয়া কোথায়? আলজেরিয়ার আকাশসীমা ফ্রান্সের সামরিক বিমানের জন্য বন্ধ করলেই বা কি হবে?

আলজেরিয়ার আকাশসীমা ফ্রান্সের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

এখানে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে আয়তনের দিক থেকে আলজেরিয়া হচ্ছে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ। আলজেরিয়ার সাথে সীমানা আছে আফ্রিকার ৬ টি দেশের।তিউনিসিয়া, লিবিয়া, নাইজার, মালি, মৌরিতানিয়া, মরক্কো এবং ওয়েস্টার্ন সাহারাড়। ২০১৪ সালে সন্ত্রাস বিরোধি যুদ্ধ পরিচালনার নাম করে ফ্রান্স মধ্য আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সেনা অভিযান শুরু করে। তথাকথিত সেই সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে এই আলজেরিয়ার আকাশসীমা ব্যাবহার করা ফ্রান্সের জন্য অনেক গুরুত্ব বহন করে। তাই আলজেরিয়ার এই সিদ্ধান্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের গালে তৃতীয় থাপ্পড় হিসেবে বিবেচনা করা যায়।এর আগে তার গালে পড়া দুই থাপ্পড় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম।নিচে আমি লিংক দিয়ে দিচ্ছি আপনারা চাইলে সেই ভিডিওটিও দেখতে পারেন।

এবার আসুন একটু আলজেরিয়ার ইতিহাস ঘেঁটে দেখি।আর জেনে নেই উসমানীয় এবং ফরাসিরা কী করেছে সেখানে।

আলজেরিয়া সপ্তম শতাব্দিয়ার শেষ দিকে উমাইয়াদের শাসনামলে ইসলামের সাথে পরিচিত হয়। এবং ষোড়শ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত মুসলমানদের শাসনে থাকে। ১৫০৫ সালের দিকে স্প্যানিশরা আলজেয়ারির সমুদ্রতীরবর্তী এলাকা দখল করে। তখন বারবারোস হাইরেত্তিন পাশা এবং তার বড় ভাই ওরুস রেইসের আলজেরিয়া সফর করেন এবং স্প্যানিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। সেই যুদ্ধে তারা স্থানীয় আলজেরীয়দের সাথেই একত্রে লড়াই করেন।

শেষ পর্যন্ত ওই অঞ্চলগুলোকে মুক্ত করেন। এই বারবারোসা ব্রাদার্স ওরুস এবং খিজির সেখানে শাসন শুরু করেন এবং ভূমধ্যসাগরকে জলদস্যু মুক্ত করেন। এক পর্যায়ে উসমানীয় খলিফা ইয়াভুয সুলতান সেলিমের অধীনে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং আলজেয়ারিয়া তখন থেকে উসমানিয়দের অংশে পরিণত হয়। এবং ১৮৩০ সাল পর্যন্ত অটোম্যানদের অধীনেই থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় আলজেরীয়দের মাধ্যেমে পরিচালিত হয়।

দুর্ধর্ষ এই বারবারোসা ব্রাদার্স ওরুস এবং খিজির রেইসকে নিয়ে তুরস্ক নতুন একটা টিভি সিরিয়াল চালু করেছে। সেখানে তাদের উত্থান এবং সেই দুঃসাহসিক অভিযানকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যাহোক, ১৮৩০ সালে আলজেরিয়া দখলের মধ্য দিয়ে আফ্রিকায় প্রবশের পরিকল্পনা করে ফ্রান্স। আক্রমণ চালায় সেখানে।

উসমানীয় সৈন্য এবং স্থানীয় আলজেরিয়ানরা ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বছরের পর বছর চলতে থাকে সে আক্রমণ। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে শুরু করে। তাদের সেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ থেকে তখন নারী, শিশু বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ২০ ভাগ লোককে হত্যা করা হয়। সেসময় কমপক্ষে ১০ লাখ আলজেরীয় মানুষকে হত্যা করে ফ্রান্স। এভাবে ১৮৭৫ সালে ফ্রান্স পুরো আলজেরিয়া দখল করতে সক্ষম হয়।আর এভাবেই আফ্রিকায় শুরু হয় ফ্রান্সের সেই কুখ্যাত উনিবেশবাদের। এর পর ১৩২ বছর ধরে চলতে থাকা সেই শোষণের বিরুদ্ধে আলজেরীয়রা অনেকবার রুখে দাঁড়িয়েছে কিন্তু তাদের পরিণতি হয়েছে মৃত্যু।

আলজেরিয়া যেভাবে স্বাধীনতা হয়

আলজেরিয়ায় ফ্রান্সের এই দখলদারিত্ব চলতে থাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময় পর্যন্ত। ১৯৪৫ সালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আবার ফুঁসে উঠে আলজেরীয়রা। তখন এই আধুনিক দুনিয়ার চোখের সামনে আবার ব্যাপক হারে গণহত্যা চালিয়ে সেই স্বাধীনতার আন্দোলনকে থামিয়ে দেয় ফ্রান্স। ১৯৫৪ সালে আলজেরিয়ানরা একত্র হয়ে লড়াই শুরু করে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। এবার ফ্রান্স সেখানে তার দোসরদের লেলিয়ে দেয় স্বাধীনতাকামী আলজেরীয়দের বিরুদ্ধে। ৮ বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরে শেষ পর্যন্ত ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা লাভ করে আলজেরিয়া। কিন্তু ফ্রান্সের এই ঔপনিবেশিক কালে কমপক্ষে ২০ লক্ষ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি সেই গণহত্যার শিকার হওয়া অনেক মানুষের কঙ্কাল এখনও রাখা আছে ফ্রান্সের মিউজিয়ামে। এছাড়াও ফ্রান্স যত সম্পদ চুরি করেছে আলজেরিয়া থেকে তার কোণ হিসাব আছে কিনা বলা মুশকিল।

ফ্রান্সের এই দখলদারিত্ব, হত্যা আর লুটপাট, শুধু আলজেরিয়াতেই না, আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় অর্ধেক দেশেই পরিচালনা করা হয়েছে এগুলো। এমনকি এখনো সেখানে অনেক দেশকে শুষে খাচ্ছে ফ্রান্স। তবে আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় শুধু আলজেরিয়া। তাই অন্য দেশগুলো নিয়ে আলোচোনায় যাবো না। হয়তো আরেকদিন সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

এখন এতো গণহত্যা, জুলুম নির্যাতন, শোষণ, লুণ্ঠনের যে ইতিহাস, সেটাকে মিথ্যা ইতিহাস বলে দাবি করেছেন ফরাসি রাষ্ট্রপতি। তিনি দাবি করেন উসমানী খেলাফতের সময়ের আলজেরিয়ায় নাকি ফ্রান্সের সময়ের চেয়েও বেশি জুলুম নির্যাতন করা হয়েছে। যদিও ইতিহাসে এমন কোণ রেকর্ড নেই। তবে ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইতিহাসকে নতুন করে লেখানোর পক্ষে।

ফ্রান্স আলজেরিয়ার দ্বন্দ্বে তুরস্কের ভূমিকা কী?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ফ্রান্স-আলজেরিয়ার এই দ্বন্দ্বে এমানুয়েল ম্যাক্রো কেন তুরস্ককে টেনে আনছেন। এর পিছনে আছে মূলত এই পুরো অঞ্চলে তুরস্কের সাথে ফ্রান্সের স্বার্থের দ্বন্দ্ব। আলজেরিয়াতে এখন ফ্রান্সের চেয়েও তুরস্কের প্রভাব অনেক বেশি। এক সময় আলজেরিয়াতে ফ্রান্সের বিনিয়োগ ছিল সবচেয়ে বেশি। ফ্রেন্স ভাষা ছিল আলজেরিয়ার প্রধান ভাষা। এখন আরবি ভাষাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

আলজেরিয়ায় এখন সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ হচ্ছে তুরস্ক। তুরস্কের বিনিয়োগ ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আলজেরিয়ার রাজনীতিবিদরা এবং নতুন প্রজন্ম তুরস্ককে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেখছে। আর আলজেরিয়ার সাথে তুরস্কের সামরিক সম্পর্কও অনেক শক্তিশালী। অন্যদিকে তুরস্কের সাথে লিবিয়ার ভবিষ্যত সম্পর্ক রক্ষায় আলজেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও ভুমধ্য সাগরে, ফ্রান্স, গ্রীস, সাইপ্রাস, মিশর, আমেরিকা এবং ইসরাইল মিলে তুরস্কে এক ঘরে করে রাখা বা কোনঠাসা করে রাখার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সেখান থেকে পরিত্রাণের জন্যও তুরস্কের সাথে আলজেরিয়ার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

আফ্রিকায় ফ্রান্স বিরোধী জাগরণের সূচনা

আর সারা আফ্রিকা জুড়ে তুরস্ক যেভাবে অর্থনৈতিক, সামরিক, বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে তাতে ফ্রান্সের প্রধান মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এরদোয়ানের নেতৃত্বের এই দেশটি।

তুরস্কের এবং ফ্রান্সের আফ্রিকা পলিসি এবং সেখানে এই দুই দেশের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরও খোলাসা হবে। আরেকদিন এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। তবে আজ এতোটুকুই বলি, আলজেরিয়া ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যেভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ফ্রান্সের মত বৃহৎ এক শক্তিকে হুমকি দিচ্ছে, দেশটির সাথে শক্তিশালী ব্যবসায়িক, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার পরেও ফ্রান্সের জোড় জবরদস্তি, জুলুম আর দাদাগিরির বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে তা ভবিষ্যতে পুরো আফ্রিকা জুড়ে ফ্রান্স বিরোধী আন্দোলনকে নতুন করে চাঙ্গা করতে পারে।

শত শত বছর ধরে আফ্রিকাকে যেভাবে শুষে খেয়েছে এই পশ্চিমারা তার বিরুদ্ধে আফ্রিকায় নীরব জাগরণ শুরু হয়েছে গত এক দশক আগে। এখন আলজেরিয়াতে সে জাগরণেরই রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আলজেরিয়ার এই জাগরণ ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিক আফ্রিকার অন্যসব দেশের। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই মহাদেশটির মানুষ তাদের সম্পদের উপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুক। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিক। আফ্রিকা পরিচালিত হোক আফ্রিকানদের দ্বারা, এই প্রত্যাশায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − 10 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য