OCHA (United Nations Office for the Coordination of Humanitarian Affairs) এর তথ্যমতে গাজায় অক্টোবর ২০২৩ থেকে ৩০শে জুলাই, ২০২৫ পর্যন্ত ৬০,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। [১]
সারা দুনিয়া দেখেছে নির্যাতিত নিপীড়িত ফিলিস্তিনের গণহত্যার মত জঘন্য ব্যাপারে যেখানে পুরো মুসলিম বিশ্বসহ বিশ্ব মানবতা ব্যর্থ হয়েছে সেখানে হামাস তার সীমিত সামর্থ্য নিয়ে বীরের মত আগ্রাসী যায়োনিস্ট বাহিনীকে প্রতিরোধ করেছে এবং এখনো করেই যাচ্ছে। হামাসের সৈন্যসংখ্যা হয়ত ৪০,০০০ জনের বেশি হবে না, অস্ত্র ও সামর্থ্য ও খুবই নগন্য।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজারের মতো হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুমান করে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা অনুমান করছেন যে হামাসের কাছে এখন প্রায় ১২,০০০ সেনা অবশিষ্ট রয়ে গেছে। এভাবেই তারা লড়ে যাচ্ছে ইসরাইল ও তার বাহিনী আইডিএফের বিরুদ্ধে যাদের নিয়মিত এবং রিজার্ভ সেনা মিলিয়ে মোট সামরিক জনবল প্রায় ৬,৩৫,০০০ থেকে ৬,৬৫,০০০ জন আর সামর্থ্য ও সম্পদের যেন অভাবই নেই।
এমন অবস্থায়, আরব রাষ্ট্র গুলো বিশেষ ভাবে, কাতার, সৌদি আরব এবং মিশর হামাসকে নিরস্ত্র করতে এবং গাজার ভূখন্ডে হামাসের সমস্ত রকম পরিচালনা বন্ধ করার আহ্বানে যোগ দিয়েছে। বলা হয়েছে, “গাজায় যুদ্ধ অবসানের প্রেক্ষাপটে হামাসকে অবশ্যই গাজায় তার শাসন বন্ধ করতে হবে এবং একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও সমর্থনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করতে হবে।”
ফ্রান্স, যা সৌদি আরবের সাথে যৌথভাবে সম্মেলনের সহ-সভাপতিত্ব করেছে, এই ঘোষণাকে “ঐতিহাসিক এবং নজিরবিহীন” বলে অভিহিত করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং কানাডা সহ-স্বাক্ষরিত এই নথিতে লড়াই শেষ হওয়ার পর গাজাকে স্থিতিশীল করতে বিদেশী বাহিনী মোতায়েনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে ইসরায়েল এবং তার মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠকে অংশ নেয়নি। [২]
লক্ষ্য করুন, এখন পর্যন্ত আগ্রাসী যায়নিস্ট বাহিনীর সর্বাধিক ক্ষতি সাধন করতে সমর্থ হয়েছে হামাস। যায়োনিস্ট বাহিনীর কারাগারে বিনা বিচারে বন্দী থাকা শত শত বন্দীদের ঘরে ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছে হামাস। বছরের পর বছর কোন আরব দেশ কিংবা বিশ্ব মানবতা কেউই এসব বন্দীদের ফিরিয়ে দিতে পারেনি।
হামাস কে শেষ করে দেয়া হলে ঐ অঞ্চলে মুসলিম বা মজলুম ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ইসরাইলের মুখোমুখি দাঁড়ানোর আর কোন দল থাকবে না।
এ সমস্ত কিছুর পরেও নামধারী মুসলিম দেশগুলো আজ চাইছে যেন সেই হামাসকেই বিলুপ্ত করে দেয়া হয়। এরা তো এভাবে ইসরাইলেরই স্বার্থ উদ্ধার করছে। আরব মুসলিম দেশগুলো নিজেদের দুনিয়াবি স্বার্থে ইসরাইলের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করছে, ইসরাইলকে সুবিধা দিচ্ছে। এরা ইসরাইলকে সুযোগ করে দিচ্ছে যেন ইসরাইল নিজের মত করে তার কাজ করতে পারে। এরা সাপোর্ট না দিলে ইসরাইলেরও এত সাহস হত না, আর ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে সব মুসলিমদের সাথে লড়তে সক্ষম হত না। ঘরের ভেতর শত্রু থাকলে বাইরের শত্রুর দরকার হয় না। এরা শুধু পশু নয় বরং যায়োনিস্ট ইজ্র্রায়েলের পালিত পশু!
