Sunday, April 19, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকইব্রাহিমি মসজিদ প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিলো ইসরায়েল, ফিলিস্তিনিদের ওপর কারফিউ

ইব্রাহিমি মসজিদ প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিলো ইসরায়েল, ফিলিস্তিনিদের ওপর কারফিউ

Image

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে মুসলিমদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পুরোনো শহরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দখলদারিত্ব ও বসতি স্থাপনকারীদের আগ্রাসনের কারণে হেবরন উত্তপ্ত, আর এবার ইহুদি উৎসবকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী শুক্রবার সকাল থেকে হেবরনের পুরোনো শহরে সামরিক চেকপয়েন্টগুলো বন্ধ করে কারফিউ জারি করেছে। লক্ষ্য—অবৈধ ইসরায়েলি বসতকারীদের যেন কোনো বাধা ছাড়াই তাদের ইহুদি ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের সুযোগ দেওয়া যায়। সেই উদ্দেশ্যে মুসলিমদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হেবরন ডিফেন্স কমিটির সদস্য আরেফ জাবের জানান, কারফিউ জারির পর শহরের বহু এলাকায় যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু ফিলিস্তিনি নিজের ঘরে ফিরতে পারেননি। বাধ্য হয়ে অনেকে স্বজনদের বাড়িতে রাত কাটিয়েছেন।

জাবের আরও জানান, শুক্রবার রাত এবং শনিবার সকালে দুই দফায় শত শত অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ভারী সামরিক সুরক্ষার মধ্যে পুরোনো শহরের রাস্তায় প্রবেশ করে “উসকানিমূলক” শোভাযাত্রা বের করেছে। তিনি মনে করেন, এই কারফিউ ও নিষেধাজ্ঞাগুলো আসলে ইব্রাহিমি মসজিদের বাকি অংশ দখল করে সেটিকে পুরোপুরি সিনাগগে রূপান্তরের দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি পরিকল্পনারই অংশ।

ফিলিস্তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইসরায়েল প্রতিদিন ইব্রাহিমি মসজিদের সুক গেট বন্ধ রাখছে এবং পূর্ব পাশের মূল গেটটিও তালাবদ্ধ রেখেছে। এমনকি মসজিদের জানালাগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যাতে মুসলিম উপাসকদের প্রবেশ বা ভেতরের পরিস্থিতি দেখার সুযোগ না থাকে।

ইব্রাহিমি মসজিদ হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত এবং বর্তমানে পুরোটা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে। প্রায় ৪০০ অবৈধ বসতি স্থাপনকারী সেখানে বসবাস করে, যাদের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন থাকে প্রায় ১,৫০০ ইসরায়েলি সেনা।

১৯৯৪ সালে এক ইহুদি বসতি স্থাপনকারীর হাতে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি হত্যার পর ইসরায়েল মসজিদটিকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়—৬৩ শতাংশ অংশ ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ অংশ মুসলিমদের জন্য। উল্লেখযোগ্যভাবে, আজান দেওয়ার ঘরটিও ইহুদিদের বরাদ্দ অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইসরায়েলের একতরফা নিয়ম অনুযায়ী, বছরে ১০ দিন ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসবে মসজিদটি পুরোপুরি মুসলিমদের জন্য বন্ধ থাকে। একইভাবে ইসলামি উৎসবের সময় ১০ দিন ইহুদিদের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিয়মিতভাবে আর কার্যকর রাখা হয়নি, বরং বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 + ten =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য