দাসত্ব’ বড়ই নীচতা। দাস শব্দ তাই পছন্দ হবে আশা করি না। তবে এই শব্দটি যখন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরি করে, কেউ যদি বলে ‘আনা আবদুল্লাহ’ মানে আমি আল্লাহর দাস, তখন চোখ বিস্ফারিত হয়, মন বিগলিত হয়ে মস্তককে সাজদায় নীত করে এবং আল্লাহর কসম, রোমকূপে ইলেকট্রিক আবহ তৈরি করে।
‘মানুষের দাস’-এর বটম লাইন হলো : দেয়া; রক্ত চুষতে দেয়া; মর্যদা ভূলুণ্ঠিত হতে দেয়া; দেহ-মনের স্বাধীনতা জবাই হতে দেয়া; বাবা-মার ইজ্জতটা শেষ হতে দেখেও নীরবতা উপহার দেয়া; নিজের চোখের সামনে নিজের কন্যা ও জায়ার সতীত্ব কেড়ে নিয়ে তাদের পতিত হতে দেয়া এবং নিজের সবকিছু বিলিয়ে মনিবের গতর ও জঠরকে আসমান হতে দেয়া।
কিন্তু দাসত্ব শব্দের সম্পর্ক আল্লাহর সাথে লাগিয়ে দিলেই সাথে সাথে তার ভোল পাল্টে যায়, রঙ বদলে যায়, সুর চমকে ওঠে, স্বর জান্নাতি হয়। তখন এই দাস তখন নিতেই থাকে আর পেতেই থাকে।
সে এমন বই পায় যা কিয়ামত পর্যন্ত পঠিত, সংরক্ষিত, গীত ও গবেষণায় আরাধ্য বস্তু হয়।
এমন জ্ঞান পায় যা সংগ্রহ করতে বুখারি, মুসলিমসহ শত সাধক ছুটে আসে। যার ব্যাখ্যা করতে কিয়ামত পর্যন্ত আসা আসকালানি ও আইনির মতো সেরা মেধাবীদের লাইন দেখা লাগে।
এমন দ্বীন পায় যার অনুসারীরা তার নামে দরূদ পড়ে জীবন কাটায়, যার প্রতিটি কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে মরতেও পরোয়া করে না, তার সাথে কবরে-হাশরে-জান্নাতে এমনকি স্বপ্নে দিদার পেতে দু’চোখ দিয়ে ঝরায় মাধবকুণ্ড কিংবা স্রোতের নায়াগ্রা।
সে এমন বেগ পায় যার সঞ্চালনে বোরাক লাগে, এমন জগতের সন্ধান পায় যার শেষ বরইয়ের (সিদরাতুল মুনতাহার) পাতা দেখতে জিবরাইলকেও হার মানতে হয়। সে এমন সত্তার কাছে যায় যার নিদর্শন দেখার আনন্দ-সঙ্গীত শব্দে রচনা করা যায় না। তা শুধু চোখকে বিস্মিত করে; মনকে মুতমাইন করে; কানকে অবিশ্বাস্য করে; আর মননকে কিয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে এই ‘নিশীথ যাত্রার ও মিরাজের’ ব্যাখ্যা জানতে।
আর এ জন্য বোধ করি আল্লাহ তায়ালা ‘মহিমান্বিত তিনি যিনি তার বান্দাকে রাতের বেলায় নিয়ে গেলেন’ বলে শুরু করেছেন এই ঘটনার বর্ণনা দিতে। আল্লাহু আলাম।
লেখক : ব্রিটেনে বসবাসরত ইসলামিক স্কলার
