Saturday, April 18, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

ইসলামী worldview -৩

এবার আসুন আমাদের দৈনন্দিন ও বাস্তব জীবনে worldview কিভাবে প্রভাব বিস্তার করে, আর কি কারণে মুসলিমদের জন্য বিজাতীয় worldview অনিষ্টকর তা নিয়ে আরো কিছু আলাপ করা যাক। একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে, কতটুকু বা কত ক্ষুদ্র একটা ব্যাপারকে আমরা worldview-এর আওতায় গণ্য করবো। এরকম একটা প্রশ্নের উত্তরে বলতে হবে যে, দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ‘ঐচ্ছিক’ বিষয়ই এই worldview-এর আওতায় পড়বে। উদাহরণ স্বরূপ আপনাকে বেঁচে থাকার জন্য মূত্রত্যাগ করতে হবে – এখানে আপনার ইচ্ছার স্বাধীনতা নেই – এটা নিতান্তই একটা জৈবিক ব্যাপার, সুতরাং এই কর্মটি worldview-এর আওতায় আসে না। কিন্তু আপনি কি ভাবে মূত্রত্যাগ করবেন সে ব্যাপারে আপনার ইচ্ছার স্বাধীনতা যেহেতু রয়েছে – সেহেতু সে বিষয়ে আপনার worldview কি তা ধর্তব্যের ভিতর এসে যাবে। আপনার যদি একটা ইসলামী worldview থাকে, তবে আপনি বসে মূত্রত্যাগ করার চেষ্টা করবেন এবং আপনার পানির প্রয়োজন হবে – সুতরাং আপনার মত ইসলামী worldview সম্পন্ন মানুষদের পরিবেশ ও প্রতিবেশের টয়লেটগুলোতে সে সবের ব্যবস্থা থাকবে স্বাভাবিক ভাবেই। যে দেশের অধিকাংশের একটা কাফির worldview থাকবে, সে দেশের টয়লেটগুলোতে, খুব স্বাভাবিকভাবেই, বসে মূত্রত্যাগ করার যেমন কোন ব্যবস্থা থাকবে না, তেমনি থাকবে না এমনকি শৌচকর্মের জন্যও পানির কোন ব্যবস্থা । যারা ইংল্যান্ড বা আমেরিকার মত কোন পশ্চিমা কুফফারের দেশে গেছেন, তারা আমার কথার সত্যতা অনুধাবন করতে পারবেন। তদুপরি লজ্জা/হায়া/শরমের বিষয়টাও এসে যাবে আনুষঙ্গিকভাবে। পশ্চিমা দেশের পাবলিক টয়লেটগুলোতে পুরুষদের জন্য যেভাবে দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগের ব্যবস্থা থাকে, তাতে যে কারো চোখে ঐ কর্মরত অবস্থায় অন্যের লিঙ্গ দৃশ্যমান হতে পারে। আমার পেশা জীবনের এক ছোট ভাই, ১৯৯০-র দশকে পেশাগত লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যান পরিবার সমেত। হিথরো এয়ারপোর্টে তার ৮/৯ বছর বয়স্ক ছেলেটি টয়লেটে যেতে চাইলে তিনি তাকে পুরুষদের টয়লেটে নিয়ে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে ‘সভ্য’ জগত সম্বন্ধে ছেলের প্রথম প্রশ্ন ছিল, “আব্বু, সবার ‘টুনুমণি’ দেখা যায় কেন?” – তাহলে দেখুন worldview-এর ব্যবধানটা কত ছোট ব্যাপারেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এরপর আসুন আরেকটি অত্যন্ত সাধারণ ‘চোখ-এড়িয়ে-যাওয়া’ বিষয়ে। ক’দিন আগে দেশের ইসলামপন্থী একটি গবেষণা সংস্থায় আমাকে তারা ডেকেছিলেন পরিচিত হতে। যোহরের নামাজের সময় হলে, আমি তাদের সাথে জামাতে যোহরের সালাত আদায় করি। জামাতে সালাতের ব্যাপারে তাদের পদ্ধতির শুদ্ধতা আমাকে অবাক করে দেয়। আকন্ঠ বিদ’আতে ডুবে থেকে নিশ্চিন্ত চিত্তে ধর্মকর্ম করে যাওয়া পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বলে পরিচিত হতভাগ্য আমাদের এই দেশে, কোথাও যে এত শুদ্ধ পদ্ধতিতে নামাজ পড়া হয়, তা আমার জানা ছিল না। তবে একটা জিনিস খেয়াল করে আমার খানিকটা খটকা লাগলো – ঐ সংস্থার বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মী টাইট ব্লু জিন্সের ভিতরে সার্ট ঢুকানো অবস্থায় সালাত আদায় করলেন। নারী ও পুরুষের শরীর ভেদে, ইসলামে সুনির্দিষ্ট ঢেকে রাখার অংশ রয়েছে, যাকে আমরা ইসলামী পরিভাষায় ‘সতরুল আওরাত’ বা সংক্ষেপে ‘সতর’ বলি। এই ‘সতর’ শুধু ঢাকলেই হবে না, তা যেন প্রস্ফুটিত না হয় বা তার আকার ও আকৃতি যেন ফুটে না ওঠে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগে থেকেই বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে তথাকথিত ‘সর্প নৃত্যের’ নামে, সারা গায়ে সেঁটে থাকা কালো একখানা ‘নাম-না-জানা’ পরিধেয়র আবরণে ঢেকে নারীদেহকে যেভাবে প্রতিটি ভাঁজ প্রস্ফুটিত করে দর্শকদের জন্য উপস্থাপন করা হতো, তা যে সতর ঢেকে রাখা নয়, একথাটা সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন যে কোন মানুষই বোধকরি বুঝবেন । ১৯৮০-র দশকের গোড়ার দিকে, আমি যখন প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে যাই, তখন খেয়াল করতাম সেখানকার দামী ব্র্যান্ড নামের জিন্সগুলোর অধিকাংশই ছিল ‘স্ট্রেচ্-জিন্স’। যিনি পরবেন তার গায়ে প্রথমে প্যান্টগুলো অস্বস্তিকর ভাবে টাইট হবে – তারপর সেগুলো ‘স্ট্রেচ্ড’ হয়ে শরীরের আকার আকৃতি ধারণ করে আপনার গায়ের সাথে সেঁটে থাকবে। এধরনের জিন্স পরিধানকারীর সংখ্যা মেয়েদের ভিতর বেশী হলেও, অনেক ছেলেদেরও দেখেছি সে সব ব্যবহার করতে। ঐ ধরনের জিন্স অথবা সাধারণভাবে সকল জিন্স পরার আসল উদ্দেশ্য যে লজ্জা নিবারণ নয় বরং হাঁটা চলায় নিতম্ব সহ নিম্নাংগের প্রতিটি অংশের নড়াচড়া তথা আকার/আকৃতি জাহির করা – তা সচেতন ভাবে বুঝতে শুরু করেছি আরও অনেক পরে। শরীর পূজা ও নানা ভাবে শরীর প্রদর্শন ও বিক্রী করা কাফির সভ্যতা – যাদের রয়েছে কাফির belief system এবং কাফির worldview – তাদের জন্য ব্যাপারটা কোন সমস্যার না হলেও, ইসলামী belief system-এর সাথে ব্যাপারটা যে খাপ খায় না, তা অন্ধ ছাড়া সকলেরই দেখার, বোঝার ও জানার কথা। এধরনের পরিচ্ছদ পরে আমরা যখন সালাতের সেজদায় যাবো, তখন অবস্থা আরো করুণ হবার কথা – এবং আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান মতে নামাজ না হবারই কথা (আমি ভুল বলে থাকলে, পাঠক, দয়া করে আমাকে শুধরে দেবেন ইনশাল্লাহ্)। তাহলে আমরা এই সমস্যাগুলো দেখতে অক্ষম কেন? আমার এই জীবনে, আমি কোন খুতবায়, কোন হুজুরকে তো বলতে শুনিনি যে, এরকম পোষাক পরে নামাজ শুদ্ধ হবে না – কোন বাবাকে শুনিনি তার ছেলেকে এভাবে বোঝাতে যে, কেন কোন পরিধেয় আমরা গ্রহণ অথবা বর্জন করবো!

SourceICD

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen − thirteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য