Saturday, June 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরইসলামে রোগী দেখার ১০ শিষ্টাচার

ইসলামে রোগী দেখার ১০ শিষ্টাচার

কেউ অসুস্থ হলে আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে। তাকে দেখতে যাওয়া, তার সেবা করা এবং সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। ইসলামে রোগী দেখতে যাওয়াকে সুন্নত বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এ ব্যাপারে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি হক আছে। ১. সালামের জবাব দেওয়া ২. হাঁচির জবাব দেওয়া ৩. দাওয়াত কবুল করা ৪. অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া ও ৫. জানাজায় অংশগ্রহণ করা। (বুখারি, হাদিস : ১২৪০, মুসলিম, হাদিস : ২১৬২)
একই সঙ্গে রোগী দেখার কিছু আদবও আছে। যেমন—

১. অজুসহকারে রোগীকে দেখতে যাওয়া।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে সওয়াবের উদ্দেশ্যে তার (অসুস্থ) ভাইকে দেখতে যায়, তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে রাখা হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩০৯৭)
২. সম্ভব হলে রোগীর শরীরে হাত দিয়ে তার হালপুরসি (অবস্থা জিজ্ঞাসা) করা। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২২৩৬)

৩. রোগীকে সান্ত্বনার বাণী শোনানো। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা যখন কোনো রোগীর কাছে যাবে, তার জীবন সম্পর্কে আনন্দদায়ক কথা বলবে।

তাকে সান্ত্বনার বাণী শোনাবে, এটা তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবে না ঠিক, তবে তার মন সান্ত্বনা লাভ করবে, যা রোগী দেখতে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য। (তিরমিজি, হাদিস : ২০৯৪)
৪. রোগীর চাহিদার কথা জানতে চাওয়া। খাবার বা অন্য কোনো বৈধ চাহিদা থাকলে পূরণ করার চেষ্টা করা। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন অসুস্থ ব্যক্তির সেবার জন্য তার কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, তুমি কী কিছু (খেতে) চাও? সে বলল, আমি কেক খেতে চাই। তিনি বললেন, ঠিক আছে।

তখন সাহাবায়ে কেরাম তার ব্যবস্থা করলেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৪৪১)
৫. রোগীর কাছে উঁচু আওয়াজে কথা না বলা। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুন্নত হলো রোগীর পাশে কম বসা এবং বড় আওয়াজে কথা না বলা। (মেশকাত, হাদিস : ১৫৮৯)

৬. রোগীর জন্য দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে রোগীর কাছে (একেবারে মুমূর্ষু ছাড়া) নিচের দোয়াটি সাতবার পড়া হবে, সে অবশ্যই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩১০৬)

দোয়াটি হলো : ‘আস আলুল্লাহাল আজিম রাব্বাল আরশিল আজিম আইয়াশফিয়াকা।’

অর্থ : ‘আমি মহান আরশের প্রভু মহামহিম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন তোমাকে রোগমুক্তি দেন।’

৭. রোগীর কাছে নিজের জন্য দোয়া চাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা যখন কোনো রোগীকে দেখতে যাবে, তার কাছে দোয়া চাইবে, কারণ তাদের দোয়া ফেরেশতাদের দোয়ার মতো কবুল হয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৪১)

৮. রোগী মুমূর্ষু হলে তার কাছে সুরা ইয়াসিন পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা মুমূর্ষু রোগীর কাছে সুরা ইয়াসিন পাঠ করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩১২১)

৯. রোগীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে চিকিৎসকের কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকলে তার প্রতি সম্মান জানানো। অতি উৎসাহী হয়ে রোগীকে দেখতে গিয়ে তার কষ্ট বা রোগ বৃদ্ধির কারণ যেন না হয়—সেদিকে খেয়াল রাখা।

১০. রোগীর কাছে বেশি সময় অবস্থান না করা। এতে রোগীর কষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে যদি রোগীর কাছে অবস্থান করলে তার অন্তরে প্রশান্তি ও সান্ত্বনা আসে তাহলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে সমস্যা নেই। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) বলেন, ‘রোগী দেখার উত্তম পন্থা হলো, তাকে দেখে দ্রুত ফিরে আসা।’ (শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৯২২২)

আল্লাহ তাআলা আমাদের উক্ত বিষয়গুলোর ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × 4 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য