ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস্তূপে পরিণত হওয়া রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাশেম ফুডস কারখানা ভবন থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে গত শুক্রবার পুড়ে যাওয়া মরদেহ বাইরে নিয়ে আসেন রোজিনা খাতুন। তিনি এ উদ্ধার তৎপরতায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরও ৫ স্বেচ্ছাসেবী। ছয় স্বেচ্ছাসেবী খুব কাছ থেকে পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে একে ভবন থেকে ৪৯ জনের লাশ বের করে আনেন তারা।
গতকাল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আবেগপ্রবণ রোজিনা বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছাসেবী, ঠিক আছে। কিন্তু আমি তো মানুষ। এমন মৃত্যু যে, মানুষগুলো চেনার কোনো উপায় নেই। পুড়ে যাওয়া মানুষটি নারী না পুরুষ, তা কেউ বুঝতে পারবে না। একসঙ্গে এত পোড়া মানুষ আমি দেখিনি। এমন মৃত্যু মানা যায় না।’
আরেক স্বেচ্ছাসেবী ২৫ বছর বয়সী যুবক আনোয়ার রানা। তিনি বহুদিন থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে আসছেন। হাশেম ফুডস কারখানায় আগুন লাগার খবর পেয়ে গত শুক্রবার সকাল ৯টায় ঘটনাস্থলে আসেন। এর পর দেখতে পান, ভবনে আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নানা কাজে সহযোগিতা করতে থাকেন। তিনি বলেন, বেলা ১১টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মুখে প্রথম শুনতে পাই ভবনে অনেক মরদেহ পড়ে আছে। তখন মন খারাপ হয়ে যায়। আর সত্যিই সত্যিই নিজে যখন ভবনের বিভিন্ন তলায় পোড়া মরদেহ দেখতে পাই, তখন আর আবেগ সংবরণ করতে পারিনি।
দুপুর ১২টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে ভবনের ফ্লোরে পড়ে থাকা মৃতদেহ উদ্ধারে অংশ নেওয়া অপর চার স্বেচ্ছাসেবী হলেন নাসির মোল্লা, শিহাবুল ইসলাম, আমির হোসেন ও রিয়া খাতুন।
