যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও ওপেক+ এর উৎপাদন হ্রাসের গত সপ্তাহের সিদ্ধান্তটি ‘তথ্যভিত্তিক নয়’ বলে যে সমালোচনা রয়েছে, সেটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। দেশটি বৃহস্পতিবার বলে যে উৎপাদন হ্রাস এক মাস পেছানোর জন্য করা যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধটিতে সাড়া দিলে তাতে নেতিবাচক অর্থনৈতিক ফলাফল হতো।
হোয়াইট হাউজ পাল্টা জবাব দেয়। তারা বলে যে তারা সৌদি আরবকে একটি বিশ্লেষণ দিয়েছিল যাতে দেখা যায় যে উৎপাদন হ্রাস বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তারা এমনও অভিযোগ করে যে সৌদি আরব অন্যান্য ওপেক সদস্যদের ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, উভয় দেশের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দ্রুতই আলোচনা করবেন।
এমন টানাপোড়েন এই দুই দেশের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের এই সময়কালে আরো অসাড়তা যোগ করেছে। দেশ দুটির মধ্যে অনেক দশক ধরেই জ্বালানির বিনিময়ে নিরাপত্তার একটি সমঝোতা বজায় রয়েছে।
অর্গানাইজেশন অফ পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ- এর সাথে রাশিয়ার মতো মিত্রদের সংযোগে গড়ে ওঠা ওপেক+ গত সপ্তাহে ঘোষণা দেয় যে, তারা তাদের দৈনন্দিন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২০ লাখ ব্যারেল হ্রাস করতে যাচ্ছে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এমন পদক্ষেপ গ্রহণের বিরুদ্ধে অনুরোধ-উপরোধ করে আসছিল।
জ্বালানির বাজারে সঙ্কট থাকা সত্ত্বেও এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর আগে যেসব সময়ে ওপেক উৎপাদন হ্রাস করেছিল, সেসব সময়ের তুলনায় বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোতে মজুদ এখন অনেক কম রয়েছে।
ওপেক+ এর উৎপাদন হ্রাস যুক্তরাষ্ট্রে এমন উদ্বেগের সূচনা করেছে যে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দিয়ে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন- এর আগে এই সপ্তাহে অঙ্গীকার করেন যে ওপেক+ এর এমন পদক্ষেপের পর সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে।
লস অ্যাঞ্জেলস-এ এক সফরকালে পরিস্থিতি সম্পর্কে বৃহস্পতিবার প্রশ্ন করা হলে, বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তাদের সাথে আলাপ করতে চলেছি।
