সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন না করার নির্দেশনা দিয়ে নোটিশ জারি করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
বিবৃতিতে আজিজুল হক বলেন, এ মুহূর্তে দেশে মাহে রমজানের আবহ ও পবিত্রতা নষ্ট করতে মুসলিমবিদ্বেষী আচরণের বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে। এর নেপথ্যে ব্রাহ্মণ্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের দালালচক্র সক্রিয় বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মণ্ডপ বসিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূজা-পার্বণ চলতে পারলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের ধর্মীয় ইফতারি আয়োজন কেন হতে পারবে না? বিগত কয়েক বছর ধরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পাসে স্বরসতী পূজা উৎসব আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালিত হয়ে আসছে। অথচ সেখানে কখনো মুসলমানদের কোনো ধর্মীয় উৎসব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে পালিত হতে দেখা যায়নি। এই বৈষম্যই কি তাদের সেক্যুলারিজম? আমাদের দেশের সেকুলার ও প্রগতিবাদী মহলে সেক্যুলারিজমের নাম দিয়ে ইসলামবিদ্বেষ চর্চার কৌশল অনেক পুরনো। এখন তারা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার চর্চায় হস্তক্ষেপ করার স্পর্ধা দেখাচ্ছে। আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সঙ্কুচিত করে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কবির ভাষায় বলতে হয়, ওরা আমাদের মুসলিম পরিচয় কাইড়া নিতে চায়। এখন প্রতিবাদস্বরূপ মুসলিম শিক্ষার্থীদেরকে দলে দলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণ-ইফতারি আয়োজন করে আমাদের মুসলিম পরিচয় ও অস্তিত্বের জানান দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে রমজান মাসে মুসলিম শিক্ষার্থীদের গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছিল। ডজনখানেক হিন্দু ছাত্রের আপত্তির কারণে বিশালসংখ্যক মুসলিম ছাত্রদের গরুর গোশত খাওয়ার অধিকার রুদ্ধ করার যৌক্তিকতা নেই। এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার সংখ্যালঘুদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না।
আজিজুল হক বলেন, ভারতে গরুর গোশতকে উপলক্ষ করে হিন্দুত্ববাদীদের হাতে অহরহ মুসলিম খুন হচ্ছে। এদেশে মুসলমানরা কখনো বিধর্মীদের জোর করে গরুর মাংস খেতে বাধ্য করেছে এমন নজির নেই। কিন্তু মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়ার অধিকার রুদ্ধ করার দুঃসাহস দেখালে আমরা চুপ থাকব না। আমাদের পূর্বপুরুষরা এ অঞ্চলে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গরু কোরবানির অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। সুতরাং অতীতের সেই ইসলামবিদ্বেষী ও হিন্দুত্ববাদী জমিদারি আচরণ এদেশে চলবে না।-বিজ্ঞপ্তি
