কক্সবাজারে বন্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার উজানের কয়েকটি ইউনিয়নে বন্যার পানি কমলেও এখনো এই দুই উপজেলার ভাটির দিকের ১০টি ইউনিয়নে বন্যার পানি রয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে স্লুইস গেইট বন্ধ থাকায় বন্যার পানি সরতে পারছে না। এসব ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রমতে এই দুই উপজেলার এক লাখের বেশি বাসিন্দা বন্যার পানির মধ্যে রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগে রয়েছে। খাবার পানির সংকট তীব্র। মানুষজন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ চার শিশুসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলায় নিহতরা হলেন- উঝান্টিয়া ইউনিয়নের নুরুল আলমের মেয়ে তাহিদা বেগম, আমির হোসেন (৫) ও সাবের আহমেদের মেয়ে হুমায়রা বেগম। গতকাল সকালে মাতামুহুরি নদীর ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ ছিলেন তারা।
চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে বুধবার সকালে বন্যার পানিতে খেলা করছিলো ১০ বছর বয়সী জিশান। এ সময় সে বন্যার পানিতে ভেসে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়াখালী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে হোসাইন আরিফ। এছাড়া চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীত বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া নিখোঁজ একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান জানিয়েছেন, বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও এখনো নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে বন্যার পুর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা যাবে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুর্বিতা চাকমা জানান, পেকুয়ায় এখনো অনেক এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বাঁধ কেটে দেয়া হচ্ছে।
