ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি নতুন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এমন তথ্য জানিয়েছেন ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা। প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, বন্দিবিনিময়, এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।
নতুন এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পাঁচ থেকে সাত বছর মেয়াদি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা শুধু অস্ত্রবিরতি নয়, বরং বন্দি বিনিময়, গাজা শাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কাঠামো এবং ইসরায়েলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারসহ একটি স্থায়ী সমাধানের দিকেই ইঙ্গিত করে। ফিলিস্তিনে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার এই প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত। প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালাতে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দারবিশ এবং প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কায়রো যাচ্ছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রস্তাব এমন এক সময় আসছে, যখন গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরায়েল গাজায় আবার বোমাবর্ষণ শুরু করে। সেই সময় উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি ভাঙার জন্য দায়ী করে। যদিও এর আগে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেখানে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের শর্ত ছিল—তা হামাস প্রত্যাখ্যান করে। বর্তমানে হামাসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত এসেছে যে তারা গাজার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ একটি সম্মত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে রাজি, যা হতে পারে পশ্চিম তীর-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি অথরিটি অথবা একটি নতুন যৌথ কাঠামো। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গাজা শাসনে পিএ’র কোনো ভূমিকা থাকবে না।
যদিও এই আলোচনার ফলাফল এখনই নিশ্চিত নয়, তবে সংশ্লিষ্ট ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাস এই আলোচনায় ‘অভূতপূর্ব নমনীয়তা’ দেখাচ্ছে, যা অতীতে দেখা যায়নি। কূটনীতিকেরা মনে করছেন, চলমান মানবিক বিপর্যয়ের পটভূমিতে এই ধরনের আলোচনার আশাব্যঞ্জক গতি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সমাজ ও জাতিসংঘের চাপ, যুদ্ধ ক্লান্ত ফিলিস্তিনি জনমানুষের আকুতি, এবং মধ্যস্থতাকারীদের ইতিবাচক উদ্যোগ হয়তো এই দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইসরাইল
