Thursday, April 16, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরকারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষকদের ‘গলার কাঁটা’

কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষকদের ‘গলার কাঁটা’

প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হাজার কোটি টাকার মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর কেনা হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় কারিকুলাম বা কন্টেন্ট তৈরি হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি। তার আগেই এসব প্রজেক্টর দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলের প্রাইমারি স্কুলে পাঠানো হয়।


প্রাথমিক শিক্ষকরা হতবাক হয়ে পড়েছেন, কারণ প্রশিক্ষণ ও কারিকুলাম ছাড়া প্রজেক্টর কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট বা চুরি হয়ে গেছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, প্রজেক্টর ফিরিয়ে জেলা অফিসে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন, আবার গণমাধ্যমের নজরে পড়ায় স্কুলে ফের পাঠানো হয়েছে। ফলে এই মূল্যবান প্রজেক্টর প্রাইমারি স্কুল প্রধানদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


চতুর্থ প্রাইমারি শিক্ষার উন্নয়ন (চঊউচ৪) প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার খরচে ৪১ হাজার প্রজেক্টর কেনা হয়। জুলাই আগস্ট আন্দোলনের সময় সরকারের পতনের পর এগুলো দ্রুত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। ঠিকাদারের বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।


তিন বছরের প্রকল্পের মেয়াদের দুই বছর পরে এখন কারিকুলাম ও কন্টেন্ট তৈরির জন্য স্টুডিও নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হচ্ছে। জেলা থেকে থানা ও স্কুল পর্যায়ে প্রজেক্টর আনা-নেওয়ার সময়ে অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারিকুলাম ও কন্টেন্ট তৈরির পরও এসব প্রজেক্টর ব্যবহারযোগ্য হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এক প্রাথমিক শিক্ষিকার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘড়ার আগে চাবুক কেনার গল্পের মতো, প্রজেক্টর দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ বা কারিকুলাম তৈরি হয়নি। প্রজেক্টরের জন্য অধিদফতরের অধীনে স্টুডিওও তৈরি হয়নি। প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এত হালকা ও স্পর্শকাতর যন্ত্রপত্র আগেই কেনা হলো। আগস্ট বিপ্লব না হলে কি প্রজেক্টরগুলো স্কুলে পৌঁছাত, নাকি ভাগবাটোয়ারার খাতায় পড়ে যেত।


২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর চতুর্থ প্রাইমারি শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৪১ হাজার প্রজেক্টরের ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ১০টি প্রতিষ্ঠান প্রজেক্টর সরবরাহের দায়িত্ব পায়। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) প্রজেক্টরের মান যাচাইয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে। তবুও তাড়াহুড়ার কারণে বিসিসিকে বাদ দিয়ে জেলা পর্যায়ের কারিগরি কলেজের একজন শিক্ষক দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, যাতে বিল উত্তোলনের পথ পরিষ্কার হয়।


প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টেন্ডার আহবান ও সরবরাহের নির্দেশনা জেলা ও থানা পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আগস্ট বিপ্লবের পর পূর্ব নির্দেশনা ছাড়াই প্রজেক্টর বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়। নিরাপদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় যন্ত্রপাতি হারিয়ে গেছে। প্রাথমিক স্কুলে নির্দিষ্ট পাহাড়াদার না থাকা এবং নিরাপদ কক্ষ না থাকার কারণে প্রজেক্টর খোয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
দৈনিক ইনকিলাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল প্রতিটি স্কুল থেকে প্রজেক্টর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। জায়গার অভাবে ওয়াশরুম, সিড়িঘরের মতো জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে। স্কুল থেকে ফেরত পাঠানোর সময় অনেক প্রজেক্টরের যন্ত্রাংশ হারিয়ে গেছে। একটি স্কুলে মূল প্রজেক্টর চুরি হলে থানায় জিডি করা হয়। অনেক শিক্ষক চাকুরি বাঁচাতে খোয়া যাওয়া প্রজেক্টর বাজার থেকে কিনে জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের সাবেক পরিচালক (ক্রয়) হামিদুল হক বলেন, প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষাদানের কন্টেন্ট তৈরি ও প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কাজের জন্য পৃথক বিভাগ রয়েছে। তার দায়িত্ব ছিল ক্রয় ও সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে দুই বছর আগে কোটি কোটি টাকার প্রজেক্টর কেনা, নীতিমালা ছাড়া স্কুলে বিতরণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ না থাকা, সব মিলিয়ে প্রজেক্টর প্রধানদের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে দুই বছর আগে কেন এত বড় পরিমাণ প্রজেক্টর কেনা হলো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও কারিকুলাম না থাকা সত্ত্বেও এসব প্রজেক্টর শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা কার্যকর হবে, এবং নিরাপত্তা কে দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen + 10 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য