প্রবৃদ্ধির উৎস বিবেচনায় অর্থনীতির প্রধান খাতগুলো হচ্ছে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত। কৃষির উপখাতগুলো হচ্ছে ফসল, মৎস্য, গবাদি-পোলট্রি, ও বন। শিল্প খাত হচ্ছে ভারী শিল্প ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প। তেমনি সেবা খাতকেও মোটাদাগে প্রথাগত ও আধুনিক সেবা খাত হিসেবে দেখা হয়।
প্রতিটি উপখাতের উৎপাদন বৈশিষ্ট্য ও উৎপাদনের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীকরণ হতে পারে। উন্নয়ন গতিশীলতায় উন্নত দেশ হতে হলে সব খাত-উপখাতে আবশ্যিকভাবে অব্যাহত উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি। এ কারণেই ২০০৯ সালের পর সব পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বাৎসরিক প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫) ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২০) প্রবৃদ্ধির হার অর্জনের যে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল, তা অর্জিত হয়েছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শেষে ৭ শতাংশ এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শেষে ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, যা পঁচাত্তর-পরবর্তীকালে ছিল সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন।
এখন দেশজ আয়ের খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হার যে বার্তা দিচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষি খাতের দেশজ আয়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.১৫ শতাংশ, শিল্প খাত ৭.০৩ শতাংশ (এর মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং ৬.৬৫ শতাংশ), সেবা খাত ৫.৫৩ শতাংশ।
এই খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির বৃদ্ধি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল কৃষি (সব উপখাত সমেত) ২.৬১ শতাংশ, শিল্প খাত ৮.১৮ শতাংশ (এর মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং ৯.২৩ শতাংশ), সেবা খাত ৫.৮৪ শতাংশ। লক্ষণীয় সামগ্রিক কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ৬ থেকে ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, শিল্প খাতে বেড়েছে এবং এই বৃদ্ধির মূল অবদান ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের (গার্মেন্টস, প্রক্রিয়াজাত পণ্য)। এই এক দশকের কিছু বেশি সময়ের কৃষির অবদান সেবা খাতের চেয়ে কমে গেছে। অবশ্য কভিড-উত্তর সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৬.০৩ শতাংশে। মোট প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার কারণ সবার কাছেই সুবিদিত; বিশ্ব মূল্যস্ফীতির প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, টাকার দ্রুত অবমূল্যায়ন, রিজার্ভ সংকট, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, আমদানি নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের এবারের বাজেট প্রণীত হচ্ছে। তবে মাননীয় অর্থমন্ত্রী এটাও বলেছেন, কর্মসংস্থানের নিরিখে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর দিকেও লক্ষ থাকবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলো; যেমন—সুদের হার বৃদ্ধি, সংকুচিত মুদ্রানীতি, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি কমিয়ে আনা এসবের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্য প্রভাব নেতিবাচক। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার সর্বোচ্চ প্রাধিকার থাকবে বাজেটে, এ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। তার পরও অর্থমন্ত্রী মহোদয়কে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।
গত এক দশকেরও অধিক সময়ে বৃহৎ কৃষির আন্ত খাতের প্রবৃদ্ধির ধারা দেখা যেতে পারে। আর্থিক বছর ২০০৯-১০-এ কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.১৫ শতাংশ, ২০২২-২৩ প্রবৃদ্ধির হার কমেছে ২.৬১ শতাংশ। এটা মোট দেশজ আয়ের প্রবৃদ্ধির হারকেও নিম্নমুখী করেছে, যদিও ওই একই সময়ে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে ৭.০৩ থেকে ৮.১৮ শতাংশ, সেবা খাত ৫.৫৩ থেকে ৫.৮৪ শতাংশ হয়েছে। কৃষি খাতে আমাদের নিয়োজিত শ্রমিক হার মোট নিয়োগের ৪৫ শতাংশ, শিল্পে ১৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৩৮ শতাংশ। কেবল খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার বিষয় নয়, শ্রমশক্তি নিয়োগের দিক থেকেও কৃষি এখনো গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষি খাতকে পেছনে ফেলে সার্বিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেওয়া অসম্ভব হবে। উৎপাদন খরচ তাড়িত মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে কৃষির সব উপখাতে প্রতি ইউনিট জমিতে মোট উৎপাদন (উৎপাদিকা) বাড়ানোর প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে, সেই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা নিতে হবে। উপকরণ ব্যয় কমানোর জন্য সম্ভাব্য যান্ত্রিকায়ন উৎসাহিত করতে হবে। আমদানীকৃত বীজ, সার, রাসায়নিক, কৃষি যন্ত্রপাতি, গোখাদ্য, মৎস্য খাদ্য উপকরণ আমদানিতে অন্তত এ বছর আমদানি শুল্ক/রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের সুযোগ নেই বলেই মনে করি।
গবেষণা প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে, যাতে আরো অধিক উৎপাদনশীল বীজ ও প্রযুক্তি কৃষক পেতে পারেন। খরচ কমাতে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় যান্ত্রিকায়ন উৎসাহিত করতে হবে। এক হেক্টরে (২.৪৭ একর) জমির ধান কাটতে শ্রমিক খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা, ওই একই পরিমাণ জমিতে সমন্বিত মাড়াই যন্ত্র ব্যবহারে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করতে খরচ হয় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কায়িক শ্রমের চেয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় সময়ও কম লাগে।
কৃষি উপখাতগুলোর প্রবৃদ্ধির হার (২০১৫-১৬ ভিত্তিবছর ধরে) সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য ২০২২-২৩ পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। সামগ্রিক কৃষি প্রবৃদ্ধির হার ২০১৬-১৭-তে ছিল ৩.২, তারপর ক্রমান্বয়ে কমে ২০২২-২৩-এ কমেছে ২.৬১ শতাংশ। ফসল (হর্টিকালচারসহ) প্রবৃদ্ধির হার ২০১৬-১৭-তে ছিল ২.২২ শতাংশ, তা ২০২২-২৩-এ ২.২৬ শতাংশ। দেশে গত দেড় দশকে বাগান ফসল (হর্টিকালচার) ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মাঠ ফসল (ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, ডাল ইত্যাদি) প্রবৃদ্ধি ভিত্তিবছরে ছিল ১.২ শতাংশ, যা বর্তমানে নেমে এসেছে ০.৮৫ শতাংশে। শুধু ধানে নিয়োজিত জমির পরিমাণ মোট ফসলি জমির ৭৫ শতাংশ। এই বিপুল জমিতে এত কম মূল্য সংযোজনই আশঙ্কার বিষয়। গবাদি ও পোলট্রি প্রবৃদ্ধির হার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ২.৭৭ শতাংশ, তা বেড়ে ২০২২-২৩-এ হয়েছে ৩.২৩ শতাংশ। মৎস্য উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার ২০১৬-১৭-তে ছিল ৪.৭৩ শতাংশ, ২০২১-২২-এ প্রবৃদ্ধি কমে হয় ২.৬৪ শতাংশ, ২০২২-২৩-এ প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াল ১.১৪ শতাংশ, যা শঙ্কার বিষয়। গত দশকে মাছে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলাম, যে কারণে মৌসুমভিত্তিক কিছু পার্থক্য ছাড়া দামের তেমন বড় ওঠানামা হয়নি। পর পর দুই বছর মৎস্য উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার কারণ মাঠ গবেষণার মাধ্যমে বের করতে হবে। মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণেই হয়তো মোট মাছ উৎপাদন কমে গিয়ে থাকবে।
বনায়নের বিষয়টি আশাব্যঞ্জক, ভিত্তিবছর (২০১৫-১৬) পর থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের ওপর রয়েছে।
বাংলাদেশ ১৯৭০-৭১ থেকে ২০০৮-০৯ সময়ে প্রতিবছরে ধানের জমি কমেছে ০.৮ শতাংশ হারে, ভারতে ধানের জমি বেড়েছে প্রতিবছর ০.২০ শতাংশ হারে, থাইল্যান্ডে মোট ধানের জমি বেড়েছে বছরে ০.৯৪ শতাংশ হারে। অর্থাৎ প্রথমে কৃষি উৎপাদনের প্রধান উপকরণ জমি (ফ্যাক্টর ড্রিভেন) বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে মোট উৎপাদন বাড়ে, সেই সঙ্গে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমেও প্রতি ইউনিটে উৎপাদন বাড়তে থাকে। বাংলাদেশে মোট ধানের উৎপাদন যে বেড়েছে, সেটা ফ্যাক্টর ড্রিভেন নয় (অধিক জমি চাষের আওতায় এনে নয়), বেড়েছে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে, মানে প্রতি একরে উৎপাদিকা বাড়িয়ে। ধান উৎপাদনে দক্ষতা বৃদ্ধির পেছনে ছিল গবেষণালব্ধ উন্নত জাতের বীজ (উদ্ভাবনতাড়িত), সার, কীটনাশক, যন্ত্রের ব্যবহার, উন্নত চাষ পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা। ধান চাষে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ১৯৯১-২০০০ দশক পর্যন্ত মোট ধানের উৎপাদন ক্রমাগত বেড়েছে। ১৯৭১-৮০ দশকে উৎপাদিকা (প্রতি একরে/হেক্টরে উৎপাদন) বৃদ্ধির হার ছিল ২.৩৬ শতাংশ, ১৯৮১-৯০ দশকে ২.৮ শতাংশ, ১৯৯১-২০০০ দশকের গড় ২.৭২ শতাংশ, ২০০১-২০১০ দশকের গড় ২.০৪ শতাংশ, ২০১১-২০ দশকে ০.৯২ শতাংশ। সত্তর ও আশির দশক পর্যন্ত ধানের গড় উৎপাদিকা বাড়ছিল ক্রমাগত বর্ধিত হারে। নব্বইয়ের দশক, একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ও দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত ধানের উৎপাদিকা বাড়ছিল ক্রমাগত নিম্নমুখী হারে। মোট উৎপাদন যা বেড়েছে (জমি প্রতিবছর কমে যাওয়া সত্ত্বেও) ধান চাষে দক্ষতাকে ব্যবহার করেই। একবিংশ শতকের তৃতীয় দশকের মধ্যভাগ থেকে আর নতুন কোনো উদ্ভাবন ব্যতীত উৎপাদিকা বৃদ্ধি শূন্য অথবা এক পর্যায়ে নেতিবাচক হয়ে যাবে। এই অবস্থায় দেশে মোট ধান উৎপাদনের পরিমাণ দু-এক বছর শূন্য বৃদ্ধিতে থেকে কমতির দিকে যাবে। ধান উৎপাদনের এই ধারা সব কৃষি গবেষক, কৃষিবিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, সামষ্টিক পরিকল্পনাবিদদের কাছে গভীর পর্যবেক্ষণ এবং সেই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধিতে এখনই যথাযথ বাজেট বরাদ্দ ও সঠিক কর্মসূচি প্রণয়নের দাবি রাখে। এটা জরুরি এই কারণে যে কেবল আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির অর্থনৈতিক ঝুঁকি নয়, এর সঙ্গে দেশের ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারা না পারার রাজনৈতিক ঝুঁকিও জড়িত। মূলকথা হলো কৃষিকে পেছনে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
দেশে পণ্য উৎপাদনের তিনটি ধাপ আছে, যা ওপরে কিছুটা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উৎপাদনের প্রধান উপকরণ (জমি) ক্রমান্বয়ে চাষাধীনে এনে মোট উৎপাদন বৃদ্ধি (বাংলাদেশে ধানের জন্য সে সম্ভাবনা শেষ)। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন উপকরণের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মোট উৎপাদন বাড়ানো (আমাদের মোট ধান উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ)। তৃতীয়ত, নতুন উদ্ভাবন বা আবিষ্কারের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রমের নতুন বিন্যাস (উন্নত প্রডাকশন ফাংশন)। ধান চাষে মোট উৎপাদন বাড়াতে দক্ষতা এবং উদ্ভাবন ও আবিষ্কার—এই দুইয়ের ভূমিকা রয়েছে। তবে ধান চাষে উৎপাদিকা বিচারে আমরা সর্বাধিক দক্ষতা দেখাতে পেরেছি এমনও নয়। ভিয়েতনাম প্রতি হেক্টরে ধান উৎপাদন করে সাড়ে পাঁচ টন, আমাদের গড় উৎপাদিকা সাড়ে চার টন। তাই এখনো দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাসহ নতুন উদ্ভাবনের দিকে অধিক মনোনিবেশ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন নিবিড় গবেষণা। এই গবেষণা প্রতিবেশ উপযোগী আরো উন্নত বীজ, ছোট খামার উপযোগী যন্ত্রপাতি, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে কিভাবে গ্রিনহাউস/প্লাস্টিক হাউসের ফসল কৃষিতে নিয়ে আসা যায়, নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়ায় উল্লম্ব কৃষির প্রসার ঘটানো যায়, কিভাবে উৎপাদন খরচ কমানো যায়—এসবের ওপর জোর দিতে হবে।
আমাদের দেশে গবেষণা ব্যয় খুবই অপ্রতুল। গবেষণায় রাজস্ব ব্যয়সহ মোট ব্যয় দেশজ আয়ের মাত্র ০.৩ শতাংশ। শুধু গবেষণা খাতেই এখন ব্যয় দ্বিগুণ করা প্রয়োজন, বাজেটে এর প্রতিফলন কাম্য। অতীতে বাজেটে বিজ্ঞান গবেষণার জন্য থোক বরাদ্দ রাখার নজির রয়েছে। কৃষি গবেষণার জন্য বিশেষ থোক বরাদ্দ থাকতে পারে। এখন কৃষির জন্য উন্নয়ন প্রকল্পে উৎপাদক কৃষকের জন্য পরিবেশ সহায়ক অধিক উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, উন্নত প্রযুক্তির পরিচয় করিয়ে দেওয়া, কর্তনোত্তর অপচয় কমিয়ে আনা, কৃষক পর্যায়ে ফসলের সংরক্ষণ পদ্ধতি, বাজারজাতকরণের কৌশল, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজন সারা দেশে উপজেলাভিত্তিক মাঠ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা। ২০২৬-এ উন্নয়নশীল দেশ ঘোষিত হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার শর্ত মোতাবেক কৃষি রপ্তানি পণ্যে ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। সে কারণে ভর্তুকির টাকা কৃষককে উৎপাদনে দক্ষ করে তুলতে সরাসরি প্রশিক্ষণ ভাতা সহায়তা দিতে হবে, যাতে হাতে-কলমে শিখে ব্যবহারের জন্য উপকরণ ক্রয় করতে পারেন। বাজেটে ব্যয় সংকোচন বিবেচনায় উচ্চ পর্যায়ে কৃষি শিক্ষার আর নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির প্রয়োজন আছে মনে করি না। যেগুলো আছে এবং নতুন স্থাপিত হয়েছে, সেখানে শিক্ষা শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, মাঠমুখী শিক্ষার বিস্তার, শিক্ষা প্রশাসন আরো জবাবদিহিমূলক কিভাবে করা যায় সে প্রচেষ্টা নিতে হবে।
লেখক : একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ, সাবেক পরিকল্পনা কমিশন সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

