ঢাকার কেরানীগঞ্জে চুরির অভিযোগে চার শিশুর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।
বুধবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দক্ষিন কেরানগঞ্জ থানাধীন আগানগর ইউনিয়নের কেচি শাহ এলাকায় দফায় দফায় ওই চার শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় রাইফা মেটাল ইন্ড্রাস্টিজ নামের এক কারখানা কর্তৃপক্ষ। নির্যাতিত ওই চার শিশুর বয়স ১১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
প্রতক্ষ্যদর্শী সুত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে নির্যাতনের শিকার চার শিশু ওই কারখানা থেকে ২/৩ কেজি পরিত্যক্ত জিআই তার নিয়ে যায়। বিষয়টি কারখানা মালিকের ছেলে মো. রাজিব জানতে পারলে তাদের ধরে এনে কারখানায় আটকে রাখে। কারখানার কর্মচারীদের সহায়তায় রাজিব ওই চার শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন করে। নির্যাতন করেও শিশুদের মাথা কেচি দিয়ে এলোপাতারিভাবে চুল কেটে দেয়। বিষয়টি অভিযুক্ত রাজিবের বাবা কারখানার মালিক মো: মালেক ও বড় ভাই রাজু আহমেদ জানলেও তারা কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিশুদের অভিভাবকদের ডেকে এনে ভয় ভীতি দেখিয়ে শিশুদের ছেড়ে দেয়।
বিষয়টি র্যাব ১০ জানতে পেরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে কারখানা মালিক মো. মালেক ও তার বড় ছেলে রাজু আহমেদকে আটক করে।
নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা বলেন, আমার ছেলে চুরি করতে পারে না, যদি সে চুরি করেও থাকে তা হলে দেশে আইন আছে বিচার আছে। কোনো সুস্থ মানুষ একটা শিশুর ওপর এভাবে নির্যাতন চালাতে পারে না। অতিরিক্ত নির্যাতনের ফলে শিশুগুলো ঠিক মতো হাটতেও পারছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-১০ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী (সিপিসি ২) কমান্ডার মেজর ওবাইদুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক, আমরা ঘটনাটি শুনেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করি। কারখানা মালিক ও তার বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাজিব ও কারখানা কর্মচারীদের এখনও পাওয়া যায়নি। নির্যাতনের শিকার চার শিশুকে তাদের স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমারসংবাদ/এডি
