বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে ২০২৪ সালের শেষে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, মোট ঋণের ২০.২০ শতাংশ এখন খেলাপি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৮২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা পরবর্তী তিন মাসে ৬০ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা বেড়ে গেছে। পুরো ২০২৪ সালে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই লাখ ১৩২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, আগের সরকারের সময়ে অনেক তথ্য গোপন থাকলেও এখন প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে।
বিশেষ করে, সিটি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক কিছু ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের প্রভাব ছিল, যেখানে ঋণ অনিয়মিত হয়েছে।
বেক্সিমকো গ্রুপের ২৩ হাজার কোটি এবং এস আলম গ্রুপের ১০ হাজার ২০০ কোটি ঋণ এখন খেলাপি। এছাড়া, আননটেক্স এবং ক্রিসেন্ট গ্রুপও বড় খেলাপি ঋণগ্রহীতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংক খাত ঠিক করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার দরকার। ঋণ পুনরুদ্ধারে জামানত বিক্রির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।
ক্রেডীট: বিবিসি বাংলা
