Thursday, April 16, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরগৃহস্থালি জিনিস ধার দেওয়ার গুরুত্ব

গৃহস্থালি জিনিস ধার দেওয়ার গুরুত্ব

এখন সোনালি ফসল ঘরে তোলার মৌসুম। বিরামহীন বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই ঠিকভাবে সোনালি ফসল ঘরে তুলতে গ্রামাঞ্চলে ব্যস্ত সময় পার করছে মানুষ। এ সময় রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফসল প্রক্রিয়াজাত করতে বহু গৃহস্থালিসামগ্রীর প্রয়োজন হয়, যা অনেক সময় অনেক পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত থাকে না। তাই কখনো ছোটখাটো জিনিস প্রতিবেশী থেকে ধার করতে হয়। এর প্রচলন পৃথিবীতে আদি যুগ থেকেই চলে আসছে। এমনকি রাসুল (সা.)-ও বিশেষ প্রয়োজনে ধার করেছেন, যার উল্লেখ বিভিন্ন হাদিসে রয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে সাফওয়ানের পরিবারের কিছু ব্যক্তির সূত্র থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হে সাফওয়ান! তোমার কাছে যুদ্ধাস্ত্র আছে কি? সে বলল, ধার চাইছেন, না জোরপূর্বক নেবেন? তিনি বলেন, না, বরং ধার হিসেবে। সাফওয়ান তাঁকে ৩০ থেকে ৪০টি লৌহবর্ম ধার দিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) হুনাইনের যুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করলেন। মুশরিকরা পরাজিত হলে সাফওয়ানের লৌহবর্মগুলো একত্র করে দেখা গেল, কয়েকটি বর্ম হারিয়ে গেছে। নবী (সা.) সাফওয়ানকে বলেন, আমরা তোমার কয়েকটি বর্ম হারিয়ে ফেলেছি। আমরা তোমাকে এর ক্ষতিপূরণ দেব কি? সে বলল, না, হে আল্লাহর রাসুল! কারণ তখন আমার মনের অবস্থা যেমন ছিল আজ তেমন নেই। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) বলেন, তিনি ইসলাম কবুলের আগে এগুলো ধার দিয়েছিলেন, পরে ইসলাম কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৬৩)

এ থেকে বোঝা যায়, কখনো কোনো প্রয়োজনে প্রতিবেশীর সহযোগিতা নেওয়ার অবকাশ রয়েছে। এবং কোনো প্রতিবেশী কোনো কিছু ধার চাইলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়াও উচিত নয়। যেমন—গ্রামে এখন বিভিন্ন কাজে প্রতিবেশীর থেকে দা, কোদাল, শাবল, বালতি ইত্যাদি ধার করতে হয়। যেহেতু এগুলো মানুষের প্রতিদিন প্রয়োজন হয় না, তাই অনেকেই এগুলো তৈরি করেন না। কেউ এ ধরনের ছোটখাটো জিনিস চাইলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়াকে পবিত্র কোরআনে খুব নিকৃষ্ট কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এবং এ ধরনের ছোটখাটো বিষয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘(দুর্ভোগ তাদের জন্য)…এবং ছোটখাটো গৃহসামগ্রী দানে নিষেধ করে। ’ (সুরা : মাউন, আয়াত : ৭)

আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুল (সা.)-এর যুগে ‘মাউন’ গণ্য করতাম বালতি, হাঁড়িপাতিল ইত্যাদি ছোটখাটো বস্তু ধারে আদান-প্রদান করাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৫৭)

যুগের পরিবর্তনের কারণে আরো অনেক ছোটখাটো জিনিস এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। যেগুলো আমাদের নিত্যদিন প্রয়োজন হয়। আমাদের উচিত প্রতিবেশীর কখনো এ রকম ছোটখাটো জিনিস প্রয়োজন হলে, যদি নিজের কাছে এগুলো থাকে, তাহলে তাদের সহযোগিতা করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen − sixteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য